30 – দ্য র্যাপচার
এগুলো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পবিত্র বাণী।
আমরা মানুষের কথায় আগ্রহী নই।
যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তাদের জন্য... ঈশ্বর এই বিষয়ে বলেন: দ্য র্যাপচার.
এগুলো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পবিত্র বাণী।
আমরা মানুষের কথায় আগ্রহী নই।
যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তাদের জন্য... ঈশ্বর এই বিষয়ে বলেন: দ্য র্যাপচার.
আর সেই সময়ের সংকটের পরেই “সূর্য্য অন্ধকার হবে, চাঁদও জ্যোৎস্না দেবে না, আকাশ থেকে তারা খসে পড়বে ও আকাশমন্ডলের সমস্ত ক্ষমতা। আর তখন মানবপুত্রের চিহ্ন আকাশে দেখা যাবে, আর তখন পৃথিবীর সমস্ত জাতি বিলাপ করবে এবং মানবপুত্রকে আকাশে মেঘরথে পরাক্রম ও মহা প্রতাপে আসতে দেখবে। আর তিনি মহা তূরীধ্বনির সঙ্গে তাঁর দূতদের পাঠাবেন, তাঁরা আকাশের এক সীমা থেকে আর এক সীমা পর্যন্ত, চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের একত্রিত করবেন।
”কারণ প্রভু নিজে আনন্দধ্বনি সহ, প্রধান দূতের রব সহ এবং ঈশ্বরের তূরীবাদ্য সহ স্বর্গ থেকে নেমে আসবেন, আর যাঁরা খ্রীষ্টে মরেছেন, তাঁরা প্রথমে উঠবে। পরে আমরা যারা জীবিত আছি, যারা অবশিষ্ট থাকব, আমরা আকাশে প্রভুর সঙ্গে দেখা করবার জন্য একসঙ্গে তাঁদের সঙ্গে মেঘযোগে নীত হইব; আর এভাবে সবসময় প্রভুর সঙ্গে থাকব।
”আবার, হে ভাইয়েরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন ও তাঁর কাছে আমাদের নিয়ে যাবার বিষয়ে তোমাদেরকে এই বিনতি করছি; তোমরা কোন আত্মার মাধ্যমে, বা কোনও বাক্যর মাধ্যমে, অথবা আমরা লিখেছি, মনে করে কোন চিঠির মাধ্যমে, মনের স্থিরতা থেকে বিচলিত বা উদ্বিগ্ন হয়ো না, ভেব না যে প্রভুর দিন এসে গেল; কেউ কোন প্রকারে যেন তোমাদেরকে না ভোলায়; কারণ সেই দিন আসবে না যতক্ষণ না প্রথমে সেই অধর্মের মানুষ যে সেই বিনাশ সন্তান প্রকাশ পায়। যে প্রতিরোধী হবে সে নিজেকে ঈশ্বর নামে পরিচিত বা পূজ্য সমস্ত কিছুর থেকে নিজেকে বড় করবে, এমনকি ঈশ্বরের মন্দিরে বসে নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করবে।
”আর আমি তোমাতে ও নারীতে এবং তোমার বংশে ও তার বংশে পরস্পর শত্রুতা জন্মাব; সে তোমার মাথা ভেঙ্গে দেবে এবং তুমি তার পাদমূল দংশন করবে।"
”কিন্তু আমার জন্য, আমি জানি যে আমার উদ্ধারকর্তা জীবিত এবং তিনি শেষে মাটির ওপর দাঁড়াবেন; আমার চামড়া নষ্ট হওয়ার পরে, এই যে আমার শরীর, ধ্বংস হয়, তারপর আমার মাংসে আমি ঈশ্বরকে দেখব। আমি তাঁকে দেখব, আমি নিজে তাঁকে আমার পাশে দেখব; আমার চোখ তাঁকে অপরিচিতের মত দেখবে না। আমার হৃদয় আমার মধ্যে অচল হয়েছে।
”শেষদিনে সদাপ্রভুর গৃহের পর্বত সমস্ত পর্বতমালার শীর্ষস্থান হিসাবে স্থাপিত হবে এবং সমস্ত পাহাড়ের উপরে উন্নত হবে এবং সব জাতি তার দিকে প্রবাহিত হবে। অনেক লোক আসবে এবং বলবে, “চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে উঠে যাই। তিনি আমাদের তাঁর পথের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন আর আমরা তাঁর পথে চলব।” তারা এই কথা বলবে, কারণ সিয়োন থেকে নিয়ম এবং যিরূশালেম থেকে সদাপ্রভুর বাক্য বের হবে। তিনি জাতিদের মধ্যে বিচার করবেন; অনেক দেশের লোকদের প্রতিদান নিষ্পত্তি করবেন। তারা তাদের তরোয়াল ভেঙ্গে লাঙ্গলের ফলা করবে আর বর্শা ভেঙ্গে কেটে সাফ করার জিনিস করবে। এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর তরোয়াল ওঠাবে না; তারা আর যুদ্ধ করতে শিখবে না।
”সদাপ্রভুর আতঙ্কের হাত থেকে এবং তাঁর প্রতাপের মহিমা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তোমরা প্রস্তরময় জায়গায় চলে যাও এবং মাটিতে লুকিয়ে পড়। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা লোকের গর্ব নত করা হবে এবং গর্বিত লোকের অহংকার চূর্ণ হবে। সেই দিন একমাত্র সদাপ্রভুই মহিমান্বিত হবেন। কারণ সেখানে বাহিনীদের সদাপ্রভুর দিন হবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যারা গর্বিত, অহংকারী এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যারা দাম্ভিক; তাকে নত করা হবে। এবং লিবানোনের সব লম্বা ও উন্নত এরস গাছের বিরুদ্ধে এবং বাশনের সব এলোন গাছের বিরুদ্ধে; এবং সব উঁচু পাহাড় এবং সেই সমস্ত পর্বতের বিরুদ্ধে যা উঁচু, এবং প্রত্যেক উঁচু দুর্গের বিরুদ্ধে এবং প্রত্যেক দুর্ভেদ্য দেয়ালের বিরুদ্ধে এবং প্রত্যেক তর্শীশের জাহাজের বিরুদ্ধে এবং প্রত্যেক সুন্দর পালতোলা জাহাজের বিরুদ্ধে। মানুষের গর্বকে নত করা হবে এবং লোকের অহঙ্কারের পতন হবে। সেই দিন একমাত্র সদাপ্রভুই গৌরবান্বিত হবেন, প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণরূপে লুপ্ত হবে। সদাপ্রভুর আতঙ্ক এবং তার মহিমার প্রতাপের থেকে লোকেরা পাথরের গুহায় এবং মাটির গর্তের মধ্যে যাবে, যখন তিনি পৃথিবীকে আতঙ্কিত করার জন্য উঠবেন। সেই দিন লোকেরা তাদের সোনা ও রূপার প্রতিমাগুলো নিক্ষেপ করবে যা তারা আরাধনা করার জন্য তৈরী করেছে, তারা তাদেরকে ছুঁচো ও বাদুড়ের কাছে ফেলে দেবে। সদাপ্রভুর আতঙ্ক ও প্রতাপের মহিমা থেকে লোকেরা পাথরের গুহার মধ্যে এবং খাড়া পাথরের ফাটলের মধ্যে যাবে যখন তিনি পৃথিবীকে আতঙ্কিত করার জন্য উঠবেন।
”যখন প্রভু ন্যায়ের আত্মা ও জ্বলন্ত আগুনের আত্মা দিয়ে সিয়োনের মেয়েদের পরিষ্কার করবেন এবং যিরূশালেম থেকে রক্তের দাগ দূর করে দেবেন। পরে সদাপ্রভু সিয়োন পাহাড়ের সব জায়গার উপরে তার সমস্ত সভার উপরে দিনে ধোঁয়া ও মেঘ ও রাতে জ্বলন্ত আগুনের আলো সৃষ্টি করবেন; তা হবে সমস্ত মহিমার উপরে আচ্ছাদন।
”কারণ একটি বালক আমাদের জন্য জন্মগ্রহণ করেছেন, একটি পুত্র আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। তারই কাঁধে শাসনভার থাকবে তার নাম আশ্চর্য্য মন্ত্রী, শক্তিশালী ঈশ্বর, চিরস্থায়ী পিতা, শান্তির রাজা। দায়ূদের সিংহাসন ও তাঁর রাজ্যের ওপরে কর্তৃত্ব বৃদ্ধি ও শান্তির সীমা থাকবে না, সুস্থির ও সুদৃঢ় করা হয়, ন্যায়বিচারে ও ধার্মিকতার সঙ্গে এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত। বাহিনীদের সদাপ্রভুর উদ্যোগে এটা করবে।
”আর্তনাদ কর, কারণ সদাপ্রভুর দিন কাছে এসে গেছে; সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে ওটা ধ্বংসের সঙ্গে আসবে। সেইজন্য সবার হাত নিস্তেজ হয়ে যাবে এবং প্রত্যেক হৃদয় গলে যাবে; তারা ভীত হবে, একজন মহিলার প্রসববেদনার মত তীব্র যন্ত্রণা এবং দুঃখ তাদেরকে ধরবে। তারা আশ্চর্য্যভাবে একে অপরের দিকে তাকাবে; তাদের মুখ আগুনের শিখার মতো হবে। দেখ, সদাপ্রভুর দিন নিষ্ঠুর ক্রোধ ও ভীষণ রাগের সঙ্গে আসছে, পৃথিবীকে নির্জনতা করার জন্য এবং এর মধ্যে থেকে পাপীদেরকে ধ্বংস করার জন্য। আকাশের তারা ও নক্ষত্রপুঞ্জ আলো দেবে না; এমনকি সূর্য ওঠার সময়েও অন্ধকার থাকবে এবং চাঁদ উজ্জ্বল হবে না। আমি তার মন্দতার জন্য পৃথিবীকে এবং অপরাধের জন্য দুষ্টদেরকে শাস্তি দেব। আমি গর্বিতদের অহঙ্কার শেষ করে দেব এবং নিষ্ঠুরদের অহঙ্কার দমন করব। আমি মানুষকে খাঁটি সোনার থেকেও দুর্লভ করব এবং ওফীরের সোনার চেয়ে মানবজাতিকে আরো বেশী দুর্লভ করব। অতএব আমি আকাশমণ্ডলকে কাঁপাব এবং বাহিনীদের সদাপ্রভুর ক্রোধের দ্বারা এবং তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধের দিনে পৃথিবী তার জায়গা থেকে নড়ে যাবে।
”তিনি মৃত্যুকে অনন্তকালের জন্য বিনষ্ট করেছেন ও প্রভু সদাপ্রভু সবার মুখ থেকে চোখের জল মুছে দেবেন এবং সমস্ত পৃথিবী থেকে নিজের লোকদের দুর্নাম দূর করবেন; কারণ সদাপ্রভুই এই কথা বলেছেন।
”কারণ সদাপ্রভু সব জাতির ওপরে ক্রুদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের সব সৈন্যদলের বিরুদ্ধে ক্রোধান্বিত হয়ে আছেন। তিনি তাদেরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছেন, তিনি তাদেরকে হত্যার হাতে তুলে দিয়েছেন। তাদের নিহত লোকেরা বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে। তাদের মৃতদেহের দুর্গন্ধ সব জায়গায় থাকবে এবং তাদের রক্তে পাহাড়-পর্বত ভিজে যাবে। আকাশের সব তারাগুলো ফ্যাকাশে হয়ে যাবে এবং আকাশ গোটানো কাগজের মত জড়িয়ে যাবে। যেমন আঙ্গুর লতার পাতা ফ্যাকাশে হয় এবং ডুমুর গাছের ডুমুর পেকে যায়। কারণ আমার তরোয়াল স্বর্গে পরিতৃপ্ত হয়েছে; দেখ, এটা ইদোমের ওপরে নেমে আসবে, তার লোকদের ওপরে যাকে আমি বিনষ্ট করেছি। সদাপ্রভুর তরোয়াল রক্তে স্নান করেছে এবং চর্বিতে ঢাকা পড়েছে, মেষশাবকের ও ছাগলের রক্তে স্নান করেছে, ভেড়ার বৃক্কের মেদে ঢাকা পড়েছে। কারণ সদাপ্রভু বস্রাতে বলিদান এবং ইদোমে এক বিশাল হত্যা করেছেন। তাদের সঙ্গে বুনো ষাঁড়, যুব ষাঁড় ও বড় বড় ষাঁড় হত্যা করা হবে। তাদের দেশ রক্তে পরিতৃপ্ত এবং তাদের ধূলো মেদে তৈরী হবে। কারণ সদাপ্রভুর জন্য প্রতিহিংসার এক দিন হবে এবং এ সিয়োনের কারণে প্রতিফলদানের বছর। ইদোমের জলের স্রোতগুলো আলকাতরায় পরিণত হবে, তার ধূলো গন্ধকে পরিণত হবে এবং তার দেশ জ্বলন্ত আলকাতরার হবে। দিনে রাতে এটা জ্বলবে; তার ধোঁয়া চিরকাল উঠতে থাকবে; বংশের পর বংশ ধরে এটা পতিত জমি হবে; কেউ তার মধ্য দিয়ে চিরকাল যাবে না।
”আমার দিকে ফেরো এবং সংরক্ষিত হও পৃথিবীর সব শেষ প্রান্তের মানুষ, কারণ আমি ঈশ্বর, আর কেউ ঈশ্বর নয়। আমি নিজের নামেই শপথ করেছি, কেবল আদেশে এই কথা বলেছি এবং এটা ফিরে আসবে না। আমার কাছে প্রত্যেকে হাঁটু পাতবে, প্রত্যেক জিভ শপথ করবে,
”আমি শুরু থেকে শেষের কথা বলি এবং যা এখনও হয়নি তা আগেই বলি। আমি বলি, “আমার পরিকল্পনা ঘটবে এবং আমার যা ইচ্ছা তা আমি করব”।
”শোন, তোমার পাহারাদারদের রব উঠাচ্ছে, তারা আনন্দে একসঙ্গে চেঁচাচ্ছে, কারণ সদাপ্রভু যখন সিয়োনে ফিরে আসবেন তখন তারা নিজেদের চোখেই তা দেখবে।
”কারণ দেখ, আমি নতুন আকাশ ও একটা নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে চলেছি এবং আগের বিষয়গুলো আর মনে করা হবে না, সেগুলো মনেও পড়বে না।
”“যে নতুন মহাকাশ ও নতুন পৃথিবী আমি তৈরী করব তা যেমন আমার সামনে থাকবে তেমনি তোমাদের নাম ও তোমাদের বংশধরেরাও টিকে থাকবে, এই কথা সদাপ্রভু বলেন।”
”হায়! সেই দিনটি কত মহৎ হবে, সেই রকম আর কোন দিন নেই। তখন যাকোবের দুশ্চিন্তার সময় হবে, কিন্তু তা থেকে সে উদ্ধার পাবে’।
”কারণ প্রভু সদাপ্রভু এই কথা বলেন, দেখ, আমি, নিজে মেষদের খোঁজ করব, তাদেরকে দেখাশোনা করব। পালক ছিন্নভিন্ন মেষদের মধ্যে থাকবার দিনে নিজের পাল খুঁজে বের করে এবং যে সব জায়গায় তারা মেঘাছন্ন অন্ধকার দিনে ছিন্নভিন্ন হয়েছে, সে সব জায়গা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করব। তারপর আমি জাতিদের মধ্য থেকে বের করে আনব, দেশ থেকে জড়ো করব এবং তাদের তোমার ভূমিতে আনব। ইস্রায়েলের পর্বতসমূহের ওপরে, জল প্রবাহগুলর কাছে এবং দেশের সব জায়গায় তাদেরকে চরাব।
”এই জন্য তুমি ভাববাণী বল, তাদেরকে বল, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাদের কবর সব খুলে দেব, হে আমার প্রজা সব, তোমাদের কবর থেকে তোমাদেরকে ওঠাব এবং তোমাদেরকে ইস্রায়েল-দেশে নিয়ে যাব। তখন তোমার জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু, কারণ আমি তোমাদের কবর সব খুলে দেব এবং হে আমার প্রজা সব, তোমাদের কবর থেকে তোমাদেরকে ওঠাব।
”কিন্তু একমাত্র, একজন ঈশ্বর আছেন যিনি স্বর্গে থাকেন, তিনিই গুপ্ত বিষয় প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা তিনি আপনাকে, রাজা নবূখদনিৎসরকে জানিয়েছেন। যখন আপনি বিছানায় শুয়েছিলেন তখন আপনি যে স্বপ্ন ও আপনার মনের যে দর্শন দেখেছেন তা হল এই,
”মহারাজ, আপনি উপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং আপনি একটা বিরাট মূর্তি দেখতে পেয়েছিলেন; এই মূর্তিটা বিরাট ও খুব উজ্জ্বল, আপনার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তার উজ্জ্বলতা খুবই ভয়ংকর ছিল। সেই মূর্তির মাথাটা খাঁটি সোনার, বুক ও হাত রূপার। পেট ও ঊরু ব্রোঞ্জের তৈরী এবং তার পাগুলি লোহার ছিল। পায়ের পাতা অর্ধেক লোহা ও অর্ধেক মাটি দিয়ে তৈরী। আপনি উপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং একটা পাথর কেটে নেওয়া হল, কিন্তু সেটা মানুষের হাতে কাটা নয় এবং সেই পাথরটা লোহা ও মাটি মেশানো পায়ে আঘাত করল এবং সেটি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলল। তখন লোহা, মাটি, ব্রোঞ্জ, রূপা ও সোনা একই সঙ্গে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল এবং গরমকালের খামারের তূষে পরিণত হল। বাতাস তাদের উড়িয়ে নিয়ে গেল এবং তাদের আর কোন চিহ্নই থাকল না। কিন্তু যে পাথরটা মূর্তিটাকে আঘাত করেছিল সেটা একটা বিরাট পাহাড়ে পরিণত হল এবং সমস্ত পৃথিবী দখল করল।
”“এটিই আপনার স্বপ্ন ছিল। এখন আমরা তার অর্থ মহারাজের কাছে বলব। “মহারাজ, আপনি রাজাদের রাজা যাঁকে স্বর্গের ঈশ্বর রাজ্য, ক্ষমতা, শক্তি এবং সম্মান দান করেছেন। তিনিই আপনার হাতে সমস্ত লোকদের বাসস্থান দিয়েছেন। তিনিই মাঠের পশুদের আর পাখীদের উপরে আপনাকে কর্তৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি তাদের সবার উপরে আপনাকে কর্তৃত্ব করার জন্য দিয়েছেন। আপনিই সেই মূর্তিটির সোনার মাথা। “আপনার পরে, আর একটি রাজ্য উঠবে তা আপনার মত মহান হবে না এবং তার পরে তৃতীয় ব্রোঞ্জের যে রাজ্য তা গোটা পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করবে।
”চতুর্থ একটা রাজ্য, যা লোহার মত শক্ত হবে, কারণ যেমন লোহা সমস্ত কিছু ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ এবং ধ্বংস করে, তেমনি এটিও সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করবে এবং তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করবে। যেমন আপনি দেখেছিলেন যে পায়ের পাতা ও পায়ের আঙ্গুলগুলি অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক লোহা দিয়ে তৈরী, তেমনই এটিও একটা ভাগ করা রাজ্য হবে; যেমন আপনি নরম মাটির সঙ্গে লোহা মেশানো দেখেছিলেন, তেমনি সেই রাজ্যে লোহার মত কিছু শক্তি সেখানে থাকবে। পায়ের পাতা ও আঙ্গুলগুলি যেমনভাবে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক লোহা মিশিয়ে তৈরী হয়েছিল, তাই সেই রাজ্যের অর্ধেক শক্তিশালী হবে ও অর্ধেক দুর্বল হবে। যেমন আপনি দেখেছেন লোহা নরম মাটির সঙ্গে মেশানো, তেমনিই সেই সমস্ত লোকেরাও একজন অন্য জনের সঙ্গে মিশে যাবে এবং লোহা যেমন মাটির সঙ্গে মেশে না তেমনি তারাও এক সঙ্গে থাকবে না।
”সেই সমস্ত রাজাদের সময়ে, স্বর্গের ঈশ্বর এমন একটা রাজ্য স্থাপন করবেন যা কখনও ধ্বংস হবে না বা, অন্য লোকেরাও এটিকে অধিকার করবে না। এটি সেই সমস্ত রাজ্যগুলিকে চূর্ণবিচূর্ণ করবে এবং তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এবং এটি চিরকাল থাকবে। যেমন আপনি দেখেছিলেন একটি পাথর পাহাড় থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু যা মানুষের হাতে কাটা হয়নি। তা লোহা, ব্রোঞ্জ, মাটি, রূপা ও সোনাকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছিল। ভবিষ্যতে কি হবে তা মহান ঈশ্বর আপনাকে জানিয়েছেন। স্বপ্নটা সত্যি এবং তার ব্যাখ্যাও বিশ্বাসযোগ্য।”
”দানিয়েল বললেন, “রাতের বেলায় আমার দর্শনের মধ্যে আমি দেখলাম যে, আকাশের চারটি বায়ু মহাসমুদ্রকে তোলপাড় করছে। সেই সমুদ্র থেকে চারটে বিশাল আকারের জন্তু উঠে এল; তারা একজন অন্য জনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। প্রথমটা ছিল সিংহের মত কিন্তু তার ঈগল পাখীর মত ডানা ছিল। যখন আমি দেখছিলাম তখন তার ডানা দুইটি ছিঁড়ে ফেলা হল এবং তাকে মাটি থেকে উপরে তোলা হল ও সেটাকে মানুষের মত দুই পায়ে দাঁড় করানো হল। তাকে একটি মানুষের মন দেওয়া হল। সেখানে দ্বিতীয় আর একটা জন্তু ছিল এবং সেটা ভাল্লুকের মত দেখতে ছিল এবং সেটা একদিকে উঁচু হয়েছিল, তার মুখের মধ্যে পাঁজরের তিনটে হাড় ছিল। সেটাকে বলা হল, ‘ওঠ এবং অনেক লোককে গ্রাস করো।’ তারপর আমি আবার তাকালাম। সেখানে আর একটা জন্তু ছিল, যাকে দেখতে চিতাবাঘের মত। তার পিঠে পাখীর ডানার মত চারটে ডানা ছিল এবং এর চারটে মাথা ছিল। কর্তৃত্ব করার জন্য সেটাকে ক্ষমতা দেওয়া হল। তারপরে রাতের বেলা আমার সেই স্বপ্নের মধ্যে আমি চতুর্থ জন্তুটা দেখতে পেলাম, সে ছিল আতঙ্কজনক, প্রচণ্ড ভয়ংকর এবং খুব শক্তিশালী। সেটার বড় বড় লোহার দাঁত ছিল, সেটা যা কিছু অবশিষ্ট ছিল তা গ্রাস করল, খণ্ড বিখণ্ড করল এবং পা দিয়ে মাড়ালো। এটা অন্যান্য জন্তুদের থেকে আলাদা ছিল এবং তার দশটা শিং ছিল। আমি যখন সেই শিংগুলোকে লক্ষ্য করছিলাম, তখন আমি দেখতে পেলাম যে, আর একটা ছোট শিং সেগুলোর মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠতে লাগল। শিংগুলোর মধ্য থেকে প্রথম তিনটে শিংকে গোড়া থেকে উপড়িয়ে ফেলা হল। আমি এই শিংটার মধ্যে মানুষের চোখের মত অনেকগুলো চোখ দেখতে পেলাম এবং একটা মুখ যা মহান বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করছিল।
”পরে আমি দেখলাম কয়েকটা সিংহাসন রাখা হল এবং ‘প্রাচীনকাল’ (ঈশ্বর) তাঁর সিংহাসনে বসলেন। তাঁর পোশাক তুষারের মত সাদা এবং তাঁর মাথার চুল সাদা পশমের মত। তাঁর সিংহাসন আগুনের শিখার মত ও তাঁর সিংহাসনের চাকাগুলো জ্বলন্ত আগুনের মত। তাঁর সামনে থেকে একটা আগুনের নদী বের হয়ে বয়ে যাচ্ছিল। হাজার হাজার লোক তাঁর সেবা করছিল; লক্ষ লক্ষ লোক তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। বিচার শুরু হল এবং বইগুলো খোলা হল।
”কারণ সেই শিংটা যে অহঙ্কারের কথা বলছিল তাই আমি তখনও তা দেখতে থাকলাম। আমি ততক্ষণ দেখলাম যতক্ষণ না সেই জন্তুটাকে হত্যা করা হল, তার দেহটা ধ্বংস করা হল এবং সেটাকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমর্পণ করা হল। অন্য জন্তুদের কাছ থেকেও ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হল, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের আয়ু বৃদ্ধি করা হল।
”সেই রাতে আমার দর্শনের মধ্যে, আমি দেখলাম মানবপুত্রের মত একজন যিনি আকাশের মেঘের সঙ্গে আসছেন। তিনি সেই ‘প্রাচীনকালের’ কাছে এলেন এবং তাঁকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হল। কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা, সম্মান এবং রাজকীয় ক্ষমতা তাঁকে দেওয়া হল, যেন সমস্ত লোক, সমস্ত জাতি এবং বিভিন্ন ভাষাবাদীর লোকেরা তাঁর সেবা করে। তাঁর রাজত্ব করার ক্ষমতা চিরস্থায়ী যা কখনো শেষ হবে না এবং তাঁর রাজ্য কখনও ধ্বংস হবে না।
”‘সেই বড় পশুগুলো, যারা সংখ্যায় চারটে ছিল, তারা হল এই পৃথিবীর চারটে রাজ্য। কিন্তু মহান ঈশ্বরের পবিত্র লোকেরা রাজত্ব পাবে এবং চিরকাল তাঁরা তা ভোগ করবে।’
”তখন আমি সেই চতুর্থ জন্তুটার অর্থ জানতে চাইলাম, যেটা সেই সমস্ত পশুগুলোর থেকে আলাদা ছিল এবং প্রচণ্ড ভয়ংকর ছিল, যার লোহার দাঁত ও ব্রোঞ্জের নখ ছিল এবং যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, সেটা তা গ্রাস করেছিল, খণ্ড বিখণ্ড করেছিল এবং পায়ে মাড়িয়েছিল। আমি তার মাথার দশটা শিং এবং অন্য যে শিংটা উঠেছিল, যার সামনে তিনটা শিং পড়ে গিয়েছিল সেই বিষয়ে জানতে চাইলাম। আমি সেই শিংটার, যার চোখ এবং অহঙ্কারে পূর্ণ একটি মুখ ছিল যা বড় বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করত এবং যেটা তার সঙ্গীদের থেকেও বড় হয়ে উঠেছিল, তার বিষয়ে জানতে চাইলাম । আমি দেখলাম, সেই শিংটা ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাঁদের হারিয়ে দিচ্ছিল, যতক্ষণ না সেই ‘প্রাচীনকাল’ এলেন এবং মহান ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের পক্ষে ন্যায্য বিচার দেওয়া। এর পর যখন সময় উপস্থিত হল তখন পবিত্র লোকেরা রাজত্ব গ্রহণ করলেন।
”সেই ব্যক্তি আমাকে এই রকম বললেন, ‘চতুর্থ জন্তুটা, পৃথিবীর চতুর্থ রাজ্য হবে, যেটা অন্য রাজ্যগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। যেটা সমস্ত পৃথিবীটাকে গ্রাস করবে ও সেটাকে পায়ে মাড়াবে এবং সেটাকে চুরমার করবে। সেই দশটা শিং হল, সেই দশটি রাজ্য থেকে দশজন রাজা উঠবে এবং তাদের পরে আর একজন রাজা উঠবে। সে আগের থেকে অন্য রকম হবে এবং সে তিনজন রাজাকে জয় করবে। মহান ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সে কথা বলবে এবং মহান ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের উপর অত্যাচার করবে। সে পর্বের দিনগুলি ও ব্যবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে। এই সমস্ত বিষয়গুলো তার হাতে এক বছর, দুই বছর ও ছয় মাসের (সাড়ে তিন বছর) জন্য তার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তার পরে বিচার শুরু হবে এবং তাঁরা তার রাজকীয় ক্ষমতা নিয়ে নেবে এবং শেষে সে ক্ষয় পাবে ও ধ্বংস হবে। আর রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও সমস্ত আকাশমণ্ডলের নিচে রাজ্যগুলোর মহিমা যারা মহান ঈশ্বরের পবিত্র লোক তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাঁর রাজ্য অনন্তকাল স্থায়ী এবং সমস্ত রাজ্যগুলি তাঁর সেবা করবে ও তাঁর বাধ্য হবে।’
”সেই শিংগুলোর একটা থেকে আর একটা শিং উঠল; সেটা প্রথমে ছোট ছিল কিন্তু পরে দক্ষিণ, পূর্ব ও ইস্রায়েলের সুন্দর দেশের দিকে বড় হতে লাগল। সেটা এত বড় হল যে, আকাশমণ্ডলের বাহিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করল। তাদের মধ্য কতগুলো সৈন্য এবং কতগুলো তারা পৃথিবীতে ফেলে দেওয়া হল এবং সে তাদের মাটিতে ফেলে পায়ে মাড়াল। সে মহান হয়ে উঠল, এমনকি সে সেই বাহিনীদের কর্তার সমান বলে দাবি করল। তাঁর উদ্দেশ্যে উত্সর্গ করা প্রতিদিনের নৈবেদ্য বন্ধ করে দিল এবং তাঁর পবিত্র স্থানকে অপবিত্র করল। তার বিদ্রোহের জন্যই, সেই ছাগলের শিংকে একটা বাহিনী দেওয়া হবে এবং প্রতিদিনের নৈবেদ্য উৎসর্গ করা বন্ধ হবে। সেই শিং সত্যকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলবে এবং সে যা কিছু করবে তাতেই সফল হবে। তারপর আমি শুনতে পেলাম একজন পবিত্র ব্যক্তি কথা বলছেন এবং আর একজন পবিত্র ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন, “এই প্রতিদিনের নৈবেদ্য উৎসর্গ বন্ধ, সেই পাপ যা ধ্বংস নিয়ে আসবে, পবিত্র স্থান দখল ও বাহিনীদের পরাজয়ের বিষয়ে দর্শন, কত দিন ধরে থাকবে?” তিনি আমাকে বললেন, “দুই হাজার তিনশো সন্ধ্যা ও সকাল ধরে এই সব চলবে। তারপর পবিত্র স্থানকে আবার পবিত্র করা হবে।”
”আমি, দানিয়েল, যখন দর্শনটা দেখলাম, আমি তা বোঝার চেষ্টা করলাম। তখন সেখানে মানুষের মত দেখতে একজন ব্যক্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমি একজন মানুষের স্বর শুনতে পেলাম যে ঊলয় নদীর তীরের মধ্য থেকে ডাকছিল, “গাব্রিয়েল, এই লোকটিকে দর্শনের অর্থ বুঝতে সাহায্য করো।” তাই আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম তিনি সেই জায়গার কাছে এলেন। যখন তিনি উপস্থিত হলেন আমি ভয় পেলাম ও মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লাম। তিনি আমাকে বললেন, “হে মানুষের সন্তান, বুঝে নাও, কারণ এই দর্শনটা শেষকালের বিষয়ে।” তিনি যখন আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি গভীর ঘুমে মাটিতে উপুড় হয়ে পরলাম। তখন তিনি আমাকে ছুঁয়ে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করালেন। তিনি বললেন, “দেখ ক্রোধের সময়ের শেষের দিকে কি ঘটবে তা আমি তোমাকে দেখাবো, কারণ সেই দর্শনটা হল শেষকালের নির্দিষ্ট করা সময়ের বিষয়ে।
”সেই রাজ্যগুলোর শেষ সময়ে, যখন অধার্মিকদের পাপের মাত্রা পূর্ণ হবে তখন একজন ভয়ঙ্কর মুখ বিশিষ্ট ও প্রচণ্ড বুদ্ধিমান একজন রাজা উঠবে। সে প্রচুর শক্তিশালী হবে, কিন্তু তার নিজের ক্ষমতায় নয়। সে ভীষণভাবে ধ্বংস করবে এবং সে যা কিছু করবে তাতেই সফল হবে। সে শক্তিশালী লোকদের ও পবিত্র লোকদেরও ধ্বংস করবে। তার চালাকির জন্য সে তার হাতের মাধ্যমে ছলনা করে সফলতা লাভ করবে এবং নিজেকে সবচেয়ে বড় মনে করবে। লোকে যখন নিজেদের নিরাপদ মনে করবে তখন সে অনেককে ধ্বংস করবে এবং রাজাদের রাজার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং সে ধ্বংস হবে, কিন্তু মানুষের শক্তিতে নয়। তোমাকে সন্ধ্যা ও সকালের উৎসর্গের বিষয়ে যে দর্শন দেখানো হয়েছে তা সত্যি। কিন্তু এই দর্শনটা মুদ্রাঙ্কিত করো, কারণ সেটা ভবিষ্যতে অনেক পরে হবে।”
”তোমার লোকদের ও তোমার পবিত্র শহরের জন্য সত্তর সপ্তাহ, অপরাধ শেষ করার জন্য, পাপ শেষ করতে, অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে, অনন্তকালীন ধার্মিকতা স্থাপন করতে, দর্শন ও ভবিষ্যদ্বাণী মুদ্রাঙ্কিত করতে এবং মহাপবিত্র স্থানকে অভিষেক করতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তুমি জেনে নাও ও বোঝো যে, যিরূশালেমকে আবার স্থাপন ও তৈরী করার আদেশ বের হওয়া থেকে শুরু করে সেই অভিষিক্ত ব্যক্তি (যিনি একজন শাসনকর্তা হবেন) আসা পর্যন্ত সাত সপ্তাহ আর বাষট্টি সপ্তাহ হবে। যিরূশালেমকে আবার রাস্তা ও পরিখার সঙ্গে আবার নতুন করে তৈরী করা হবে এবং তা সঙ্কটকালেই হবে। বাষট্টি সপ্তাহ পরে সেই অভিষিক্ত ব্যক্তিকে মেরে ফেলা হবে এবং তাঁর কিছুই থাকবে না। অন্য আর একজন শাসনকর্তার সৈন্যরা আসবে এবং শহর ও পবিত্র স্থান ধ্বংস করবে। এর শেষ সময় বন্যার মত আসবে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হবে। ধ্বংস নির্দিষ্ট করে রাখা আছে। এক সপ্তাহের জন্য তিনি অনেকের সঙ্গে নিয়ম স্থাপন করবেন। কিন্তু সাত সপ্তাহের মাঝখানেই সে বলিদান ও নৈবেদ্য বন্ধ করে দেবেন। অশুচি বস্তুর পাখায় করে এমন একজন আসবে যে ধ্বংস করে। সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত ও ধ্বংস সেই ধ্বংসকারীর উপরে ঢেলে দেওয়া হয়েছে।”
”এখন আমি তোমাকে সাহায্য করতে এসেছি যেন তুমি বুঝতে পারো যে শেষ সময়ে তোমার লোকদের প্রতি কি ঘটবে। কারণ এই দর্শন হল সেই সমস্ত দিনের বিষয় যা এখনও আসে নি।”
”এই দুই রাজা, যাদের অন্তর মন্দতায় একে অন্যের বিরুদ্ধে থাকবে, তারা একই টেবিলে বসে একে অন্যের কাছে মিথ্যা কথা বলবে, কিন্তু তা সফল হবে না। কারণ যে সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে সেই সময়ে সব কিছুর শেষ উপস্থিত হবে। তারপরে উত্তরের রাজা অনেক সম্পদ নিয়ে তার নিজের দেশে ফিরে যাবে, কিন্তু তার অন্তর পবিত্র নিয়মের বিরুদ্ধে থাকবে। সে যা ইচ্ছা তাই করবে এবং তার নিজের দেশে ফিরে যাবে।
”নির্দিষ্ট সময়ে সে আবার ফিরে যাবে এবং দক্ষিণ দেশ আক্রমণ করবে, কিন্তু যেমন আগে ছিল এই সময় এটা আর আগের মত হবে না। কারণ কিত্তীমের জাহাজগুলো তার বিরুদ্ধে আসবে এবং সে নিরুত্সাহ হবে ও ফিরে যাবে। সে পবিত্র নিয়মের বিরুদ্ধে রেগে যাবে এবং যারা সেই পবিত্র নিয়ম ত্যাগ করে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবে। তার সেনাবাহিনীরা উঠবে এবং পবিত্রস্থানকে ও দুর্গগুলোকে অশুচি করবে; তারা প্রতিদিনের নৈবেদ্য বন্ধ করে দেবে এবং তারা ধ্বংসকারী ঘৃণার বস্তু স্থাপন করবে। সে তাদের তোষামোদ করবে যারা সেই নিয়ম অমান্য করেছে এবং তাদের বিপথে নিয়ে যাবে, কিন্তু যে লোকেরা তাদের ঈশ্বরকে জানে তারা শক্তিশালী হবে ও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেই লোকদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারা অনেককে শিক্ষা দেবে। কিন্তু কিছু দিন ধরে তারা তরোয়াল ও আগুনের শিখায় মারা যাবে, তাদের বন্দীদের মত নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাদের সম্পত্তি লুট হবে। যখন তারা বাধা পাবে, তখন তারা অল্পই সাহায্য পাবে এবং অনেকে কপটতায় তাদের সঙ্গে যোগ দেবে।
”আর জ্ঞানীদের মধ্যে কারও কারও পতন হবে যেন তারা শেষ সময় না আসা পর্যন্ত খাঁটি, শুদ্ধ ও নিখুঁত হয়; কারণ সেই নির্দিষ্ট সময় আসতে চলেছে।
”সেই রাজা তার যা ইচ্ছা তাই করবে। সমস্ত দেবতাদের উপরে সে নিজেকে উঁচু করবে ও বড় করে দেখাবে এবং যিনি সমস্ত দেবতাদের ঈশ্বর তাঁর বিরুদ্ধেও আশ্চর্য্য কথা বলবে। ক্রোধ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সে সফল হবে৷ কারণ যা স্থির করা হয়েছে তা করা হবে। সে তার পূর্বপুরুষদের দেবতাদের কিম্বা যে দেবতার জন্য স্ত্রীলোকেরা বাসনা করে বা যে কোন দেবতাকেই মানবে না। সে অহঙ্কারের সঙ্গে কাজ করবে এবং নিজেকে তাদের সবার থেকে বড় করে দেখাবে। তাদের পরিবর্তে সে দূর্গের দেবতাকে সম্মান করবে। যে দেবতাকে তার পূর্বপুরুষেরা জানে না তাকে সে সোনা, রূপা, মূল্যবান পাথর ও দামী উপহার দিয়ে সম্মান করবে। সে বিজাতীয় দেবতার সাহায্যে সে সবচেয়ে শক্তিশালী দূর্গগুলো আক্রমণ করবে৷ সে তাদেরকে সম্মান দেবে যারা তাকে স্বীকার করবে। সে তাদের অনেক লোকের উপরে শাসনকর্তা করবে এবং সে পুরস্কার হিসাবে জমি ভাগ করে দেবে।
”শেষ সময় দক্ষিণের রাজা তাকে আক্রমণ করবে৷ উত্তরের রাজা রথ, ঘোড়সওয়ার এবং অনেক জাহাজ নিয়ে তার দিকে ঝড়ের মত যাবে। সে অনেক দেশ আক্রমণ করবে এবং তাদের মধ্য দিয়ে বন্যার মত প্রবাহিত হয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করবে। সে সেই সুন্দর দেশে উপস্থিত হবে এবং অনেকে বাধা পাবে, কিন্তু তাদের মধ্য ইদোম ও মোয়াব এবং অম্মোনের সবচেয়ে ভাল লোকেরা তার হাত থেকে রক্ষা পাবে। অনেক দেশের উপর সে তার ক্ষমতাকে বাড়াবে; মিশর দেশও রেহাই পাবে না। সমস্ত সোনা ও রূপা ও মিশরের সমস্ত সম্পত্তির উপরে তার অধিকার থাকবে এবং লুবীয়েরা ও কূশীয়েরা তার সেবা করবে। কিন্তু পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে যে সংবাদ আসবে তাতে সে ভয় পাবে এবং সে ভীষণ রাগে ধ্বংস করার ও অনেককে মেরে ফেলার জন্য সে যাবে। সে সমুদ্র ও সুন্দর পবিত্র পাহাড়ের মাঝখানে তার রাজকীয় তাঁবু স্থাপন করবে। সে তার শেষ সময়ে উপস্থিত হবে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য সেখানে কেউ থাকবে না।
”“সেই সময় মহান স্বর্গদূত মীখায়েল, যিনি তোমার লোকদের রক্ষা করেন, তিনি উঠে দাঁড়াবেন। সেই সময় এক মহাসঙ্কটের সময় উপস্থিত হবে যা জাতির আরম্ভ থেকে সেই সময় পর্যন্ত কখনও হয়নি। সেই সময় তোমার লোকেরা উদ্ধার পাবে, প্রত্যেকে যাদের নাম বইয়ের মধ্যে লেখা থাকবে। মাটিতে যারা ঘুমিয়ে আছে তাদের মধ্য অনেকে জেগে উঠবে, অনেকে উঠবে অনন্ত জীবনের জন্য এবং অনেকে উঠবে লজ্জার ও অনন্তকালীন দণ্ডের জন্য। যারা জ্ঞানী তারা আকাশের আলোর মত এবং যারা অনেককে ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যায় তারা উজ্জ্বল তারার মত অনন্তকাল জ্বল জ্বল করবে। কিন্তু তুমি, দানিয়েল, শেষ সময় না আসা পর্যন্ত এই বাক্যগুলো গোপন করে রাখো এবং বইটা মুদ্রাঙ্কিত করে রাখো। সেই সময়ে অনেকে এখানে ওখানে যাবে এবং জ্ঞানের বৃদ্ধি হবে।”
”তখন আমি, দানিয়েল, তাকালাম এবং সেখানে অন্য দুই জন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের একজন নদীর এপারে এবং অন্যজন নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের একজন মসীনার কাপড় পরা যে ব্যক্তি নদীর জলের উপরে ছিলেন তাঁকে বললেন, “এই সব আশ্চর্য্য বিষয় শেষ হতে আর কত সময় লাগবে?” তখন আমি শুনলাম, মসীনার কাপড় পরা সেই ব্যক্তি যে নদীর জলের উপরে দাঁড়িয়ে ছিল আমি তাঁকে তাঁর ডান হাত ও বাঁ হাত স্বর্গের দিকে তুলে যিনি অনন্তকাল স্থায়ী তাঁর নামে শপথ করে বলতে শুনলাম, “এক কাল, দুই কাল ও অর্ধেক কাল, অর্থাৎ সাড়ে তিন বছর সময় লাগবে। যখন পবিত্র লোকদের শক্তি একেবারে ধ্বংস হবে, তখন এই সমস্ত বিষয় পূর্ণ হবে।”
”আমি শুনলাম, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “আমার প্রভু, এই সবের শেষ ফল কি হবে?” তিনি বললেন, “দানিয়েল, তুমি চলে যাও, কারণ শেষ সময় না আসা পর্যন্ত এই সব কথা বন্ধ করে মুদ্রাঙ্কিত করে রাখা হয়েছে। অনেকে পবিত্র, পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ হবে, কিন্তু অধার্মিকেরা তাদের অধার্মিকতা অনুযায়ী কাজ করবে। অধার্মিকদের কেউই বুঝবে না, কিন্তু যারা জ্ঞানী তাঁরা বুঝবে।
”যে সময় থেকে নিয়মিত নৈবেদ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ধ্বংসকারী ঘৃণার জিনিস স্থাপন করা হবে সেই দিন থেকে এক হাজার দুইশো নব্বই দিন হবে। ধন্য সেই ব্যক্তি যে এক হাজার তিনশো পঁয়ত্রিশ দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু তুমি শেষের অপেক্ষাতে এখন চলে যাও, তুমি বিশ্রাম পাবে। যুগের শেষে, যে জায়গা তোমার জন্য মনোনীত করা হয়েছে সেখানে তুমি আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হবে।”
”এটা হবে সেই দিনে, এই হল সদাপ্রভুর ঘোষণা যে, “তুমি আমায় ডাকবে, ‘আমার স্বামী,’ বলে এবং তুমি আমাকে আর ‘আমার প্রভু’ বলে ডাকবে না।
”তোমরা সিয়োনে তূরী বাজাও এবং আমার পবিত্র পর্বতে বিপদের সংকেত দাও৷ সমস্ত দেশনিবাসী ভয়ে কাঁপুক কারণ সদাপ্রভুর দিন আসছে; সত্যিই, সেইদিন কাছাকাছি৷ এটি অন্ধকার এবং বিষন্নতার একটি দিন৷ মেঘ ও ঘোর অন্ধকারের দিন, পর্বতের উপরে ছড়িয়ে পড়া ভোরের মত৷ একটি বড় ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছে, এর মত বড় সেনাবাহিনী না এর আগে ছিল না এর পরে হবে এমনকি অনেক প্রজন্ম ধরেও এমন হবে না৷ তাদের সামনে আগুন সমস্ত কিছু গ্রাস করছে এবং তাদের পিছনে জ্বলছে জ্বলন্ত আগুনের শিখা৷ এর সামনে সেই দেশটা এদন বাগানের মত, আর তাদের পিছনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মরুভূমি, বাস্তবেই কোনো কিছুই তা থেকে রক্ষা পাবে না৷ সেনাবাহিনীর চেহারা ঘোড়ার মত এবং তারা ঘোড়াচালকের মত ছুটে চলে৷ তাদের লাফানোর শব্দ পর্বতের উপরে রথের শব্দের মত, জ্বলন্ত অগ্নিশিখার শব্দের মত যা খড়কুটো গ্রাস করে৷ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত একটি শক্তি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মত৷ তাদের সামনে জাতিরা যন্ত্রণা পাচ্ছে; সকলের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেছে৷ তারা শক্তিশালী যোদ্ধাদের মত দৌড়ায়, সৈন্যদের মত দেয়ালে ওঠে৷ তারা সারিবদ্ধ হয়ে, একসঙ্গে যাত্রা করে এবং তাদের সারি ভাঙ্গে না৷ তারা একে অন্যের উপর চাপাচাপি করে না; প্রত্যেকে নিজের সারিতে সারিবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যায়৷ তারা প্রতিরোধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেও তারা সারিবদ্ধ থাকে৷ তারা শহরের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, দেয়ালের উপরে দৌড়ায়; তারা ঘরগুলিতে বেয়ে ওঠে যায় এবং চোরের মত জানলা দিয়ে প্রবেশ করে৷ তাদের সামনে পৃথিবী কাঁপে, আকাশ ভয়ে কাঁপতে থাকে, চাঁদ ও সূর্য অন্ধকার হয়ে যায় এবং তারাগুলো আলো দেওয়া বন্ধ করে দেয়৷ সদাপ্রভু তাঁর সেনাবাহিনীর সামনে তাঁর কন্ঠের স্বর শোনালেন; তাঁর যোদ্ধারা অসংখ্য, কারণ তারা শক্তিশালী, যারা তাঁর আদেশ পালন করে৷ সদাপ্রভুর দিন মহান এবং খুবই ভয়ংকর; কে তা সহ্য করতে পারে?
”তারপরে আমি এইরকম ঘটাব, আমার আত্মা সমস্ত প্রাণীদের উপরে ঢেলে দেব৷ এবং তোমাদের ছেলে ও মেয়েরা ভাববাণী বলবে, তোমাদের বয়স্ক লোকেরা স্বপ্ন দেখবে ও তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে৷ এমনকি, ঐ দিনে, দাস ও দাসীদের উপরে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব৷
”আমি আকাশে ও পৃথিবীতে অদ্ভুত লক্ষণ দেখাবো, রক্ত, আগুন এবং ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখাব৷ সদাপ্রভুর সেই মহান ও ভয়ংকর দিন আসবার আগে সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে ও চাঁদ রক্তের মত হবে৷ যে কেউ সদাপ্রভুর নামে ডাকবে সেই রক্ষা পাবে, সদাপ্রভুর কথা মত সিয়োন পর্বত ও যিরূশালেমে দল মুক্তি পাবে৷ এবং পালিয়ে যাওয়া লোকেদের মধ্যে এমন লোক থাকবে যাদের সদাপ্রভু ডাকবেন৷
”কাস্তে লাগাও ফসল পেকেছে৷ এস, আঙ্গুর পেষ, মাড়াইয়ের গর্ত পূর্ণ হয়েছে৷ পাত্র থেকে রস উপচে পড়ছে৷ কারণ তাদের দুষ্টতা অনেক৷ সেখানে অনেক লোকের ভিড়, শাস্তির উপত্যকায় অনেক লোকের ভিড়, কারণ শাস্তির উপত্যকায় সদাপ্রভুর দিন কাছে এসে গেছে৷ সূর্য ও চাঁদ অন্ধকার হবে, তারাগুলো আলো দেওয়া বন্ধ করে দেবে৷ সদাপ্রভু সিয়োন থেকে গর্জন করবেন, যিরূশালেম থেকে নিজের স্বর শোনাবেন, পৃথিবী ও আকাশ কেঁপে উঠবে৷ কিন্তু সদাপ্রভু তাঁর লোকেদের আশ্রয় স্থান এবং ইস্রায়েলের লোকেদের জন্য একটি দুর্গ৷
”“তাতে তোমরা জানবে, আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; আমি আমার পবিত্র পর্বত সিয়োনে বাস করি৷ তখন যিরূশালেম পবিত্র হবে, বিদেশীরা আর কখন তার মধ্যে দিয়ে যাবে না৷ সেই দিন পর্বতগুলো থেকে মিষ্টি আঙ্গুরের রস ক্ষরিত হবে, ছোট পর্বতগুলো থেকে দুধ প্রবাহিত হবে৷ যিহূদার সমস্ত ঝর্ণা দিয়ে জল প্রবাহিত হবে৷ সদাপ্রভুর গৃহ থেকে একটা ফোয়ারা উঠে, শিটীমের উপত্যকাকে জল দান করবে৷ মিশর ধ্বংস হবে এবং ইদোম ধ্বংস হয়ে যাওয়া মরুভূমি হবে, কারণ যিহূদার লোকদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে এবং তাদের দেশে নির্দোষের রক্তপাত করা হয়েছে৷ কিন্তু যিহূদা চিরকাল বেঁচে থাকবে এবং যিরূশালেমের বংশ পরম্পরায় বাস করবে৷ আমি তাদের রক্তপাতের প্রতিশোধ নেব যা আমি এখনও নিইনি,” কারণ সদাপ্রভু সিয়োনে বাস করেন৷
”কিন্তু শেষের দিনগুলোতে এরকম হবে যে সদাপ্রভুর ঘরের পাহাড় অন্য পাহাড়গুলির ওপরে স্থাপিত হবে। এটি উপপর্বতের ওপরে গৌরবান্বিত হবে এবং লোকেরা তার দিকে ভেসে যাবে। অনেক জাতি যাবে এবং বলবে, “এস, চল সদাপ্রভুর পাহাড়ে যাই, যাকোবের ঈশ্বরের ঘরে যাই। তিনি আমাদের তাঁর পথ শিক্ষা দেবেন এবং আমরা তাঁর পথে চলবো।” কারণ সিয়োন থেকে ব্যবস্থা বেরিয়ে আসবে এবং যিরুশালেম থেকে সদাপ্রভুর বাক্য আসবে। তিনি অনেক লোকের মধ্যে বিচার করবেন এবং তিনি দূর দেশের জাতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা তাদের তলোয়ার দিয়ে লাঙ্গলের ফলা তৈরী করবে এবং তাদের বর্ষা দিয়ে কাঁটা পরিষ্কার করা ছুরি তৈরী করবে। একজাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে তলোয়ার তুলবে না, না তারা আর যুদ্ধ শিখবে। বরং, তারা প্রত্যেকে নিজের নিজের আঙ্গুর গাছের এবং ডুমুর গাছের তলায় বসবে। কেউ তাদের ভয় দেখাবে না, কারণ বাহিনীগনের সদাপ্রভুর মুখ এমনটাই বলেছেন।
”সদাপ্রভুর সেই মহান দিন কাছে আসছে, কাছে আসছে এবং খুব তাড়াতাড়িই আসছে৷ একজন যোদ্ধা যেমন যন্ত্রণায় চিৎকার করে, সদাপ্রভুর সেই দিনের শব্দও ঠিক সেই রকম৷ সেই দিনটা হবে ক্রোধের দিন, দারুণ দুর্দশা ও হতাশার দিন, বিপর্যয়ের ও ধ্বংসের দিন, গাঢ় অন্ধকারের দিন, মেঘ ও ঘন কালো দিন৷ সেই দিনটা হবে, সমস্ত দেয়াল ঘেরা শহরের ও উঁচু দুর্গের বিরুদ্ধে সিঙ্গা বাজানোর ও সতর্ক করার দিন৷ কারণ আমি লোকদের উপর দারুণ কষ্ট আনবো যার জন্য তারা অন্ধ লোকদের মত হাঁটবে, কারণ সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে তারা পাপ করেছে৷ তাদের রক্ত ধূলোর মত ঢেলে দেওয়া হবে ও তাদের দেহ গোবরের মত হবে৷ সদাপ্রভুর ক্রোধের দিনে তাদের রূপা কিংবা সোনা তাদের রক্ষা করতে পারবে না! সদাপ্রভুর ক্রোধের আগুন সমস্ত দেশকে গ্রাস করবে, কারণ যে ধ্বংস তিনি পৃথিবীতে বাসকারী সমস্ত লোকের উপরে আনবেন তা ভয়ঙ্কর হবে৷”
”তাই তুমি আমার জন্য অপেক্ষা কর৷” এটা সদাপ্রভু বলেন, “যতদিন না ধ্বংসের জন্য উঠে দাঁড়াই৷ আমি ঠিক করেছি যে, জাতিদের আমি জড়ো করব, রাজ্যগুলো একত্র করব এবং তাদের উপর আমার রাগ ঢেলে দেব, আমার সব জ্বলন্ত রাগ ঢেলে দেব৷ আমার অন্তরের জ্বালার আগুনে সমস্ত দেশ পুড়ে যাবে৷
”কিন্তু তারপর আমি লোকেদের ঠোঁট শুচি করব, সদাপ্রভুর নামে তাদের ডাকবো যাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমার সেবা করতে পারে৷
”কারণ বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আর একবার, অল্পসময়ের মধ্যেই, আমি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে এবং সমুদ্র ও শুস্ক ভূমিকে কাঁপাব৷ আর আমি সর্বজাতিকে কাঁপাব; এবং সমস্ত জাতি তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র আমার কাছে আনবে আর আমি এই গৃহ মহিমায় পরিপূর্ণ করব, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন৷” রূপা ও সোনা আমারই, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন৷ এই গৃহ আগের চেয়ে ভবিষ্যতে আরো বেশি মহিমান্বিত হবে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন; আর এই জায়গায় আমি শান্তি প্রদান করব, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন৷
”দেখ! সদাপ্রভুর দিন আসছে, যখন তোমাদের লুট হওয়া জিনিস তোমাদের মধ্যই ভাগ করে নেওয়া হবে! কারণ আমি যিরূশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্য সমস্ত জাতিকে জড়ো করব এবং সেই শহর দখল করা হবে! সমস্ত বাড়ি লুটপাট করা হবে এবং স্ত্রীলোকদের ধর্ষণ করা হবে! শহরের অর্ধেক লোক বন্দী হয়ে বাইরে যাবে কিন্তু বাকী লোকদের শহর থেকে উচ্ছিন্ন করা হবে না। কিন্তু সদাপ্রভু বের হবেন এবং যুদ্ধের দিনে যেমন করেন সেইভাবে তিনি সমস্ত জাতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন!
”সেই দিন তিনি এসে জৈতুন পাহাড়ের উপরে দাঁড়াবেন, যেটি যিরূশালেমের পূর্ব দিকে অবস্থিত; এবং জৈতুন পাহাড় পূর্ব থেকে পশ্চিমে চিরে যাবে এবং অর্ধেক উত্তরে ও অর্ধেক দক্ষিণে সরে গিয়ে একটা বড় উপত্যকার সৃষ্টি করবে। তোমরা পাহাড়ের সেই উপত্যকা দিয়ে পালিয়ে যাবে, কারণ সেই উপত্যকা আৎসল পর্যন্ত চলে যাবে। যিহূদার রাজা উষিয়ের সময়ে ভূমিকম্পের জন্য তোমরা যেভাবে পালিয়ে গিয়েছিলে সেইভাবেই তোমরা তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। তখন আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আসবেন এবং সমস্ত পবিত্রজন তোমার সঙ্গে থাকবেন! সেই দিন এমন হবে যে, সেখানে কোন আলো থাকবে না, না ঠান্ডা না তুষারপাত হবে। সেই দিনটি শুধুমাত্র সদাপ্রভুই জানেন, সেখানে আর কখনো দিন ও রাত হবে না, কারণ সন্ধ্যাবেলা আলোর মত হবে। সেই দিন এমন হবে যে, গরমকাল হোক কি শীতকাল যিরূশালেম থেকে জলের ধারা বের হয়ে অর্ধেকটা পূর্ব সাগরের দিকে আর অর্ধেকটা পশ্চিম সাগরের দিকে বয়ে যাবে।
”সমস্ত পৃথিবীর উপরে সদাপ্রভু রাজা হবেন! সেই দিন সদাপ্রভুই অদ্বিতীয় হবেন এবং তাঁর নামও অদ্বিতীয় হবে!
”যিরূশালেমের দক্ষিণে গেবা থেকে রিম্মোণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ অরাবা সমভূমির মত হবে, কিন্তু যিরূশালেমকে উচ্চ করা হবে এবং তার জায়গায় বসবাস করবে, বিন্যামীনের ফটক থেকে প্রথম ফটক ও কোণার ফটক পর্যন্ত এবং হননেলের দুর্গ থেকে রাজার আঙ্গুর পেষণের স্থান পর্যন্ত। লোকেরা যিরূশালেম বাস করবে এবং তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস আর কখনও হবে না; যিরূশালেম নিরাপদে থাকবে! যে সমস্ত জাতি যিরূশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সদাপ্রভু মহামারী দিয়ে তাদের আঘাত করবেন। তারা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই তাদের গায়ের মাংস পচে যাবে! এবং তাদের চোখ চোখের গর্তের মধ্যেই পচে যাবে ও মুখের মধ্যে জিভ পচে যাবে! সেই দিন এমন হবে, সদাপ্রভুর কাছ থেকে তাদের মধ্য গোলমাল উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেকে তার প্রতিবেশীর হাত ধরবে ও প্রত্যেক হাত তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উঠবে! আর যিহূদাও যিরূশালেমে যুদ্ধ করবে! তারা আশেপাশের সমস্ত জাতিদের ধন সম্পদ, সোনা, রূপা ও সুন্দর পোশাক প্রচুর পরিমাণে জড়ো করবে। একই রকম মহামারী ঘোড়া, খচ্চর, উট, গাধা এবং অন্যান্য সব পশু যা সেই সমস্ত শিবিরে থাকবে তাদের উপরেও থাকবে এবং তারাও সেই মহামারীর আঘাত পাবে।
”পরে সেই সমস্ত জাতি যারা যিরূশালেমের বিরুদ্ধে এসেছিল, তাদের মধ্য যারা বেঁচে থাকবে তারা প্রতি বছর সেই রাজা, বাহিনীদের সদাপ্রভুর উপাসনা করবার জন্য এবং কুটির উত্সব পালন করবার জন্য যিরূশালেমে আসবে। আর যদি পৃথিবীর কোন জাতি বাহিনীদের সদাপ্রভুর আরাধনা করবার জন্য যিরূশালেমে না যায় তবে সদাপ্রভু তাদের দেশে বৃষ্টি দেবেন না! এবং যদি মিশরীয়েরা না যায় এবং উপস্থিত না হয়, তবে তারাও বৃষ্টি পাবে না। যে সমস্ত জাতি উপস্থিত হবে না ও কুটির উত্সব পালন করবে না তাদের সদাপ্রভু মহামারী দিয়ে আঘাত করবেন। মিশর এবং অন্যান্য যে সমস্ত জাতি যারা কুটির উত্সব পালন না করবে তাদের এই শাস্তিই দেওয়া হবে।
”কিন্তু সেই দিনে “সদাপ্রভুর উদ্দ্যেশে পবিত্র” এই কথা ঘোড়ার গলার ঘণ্টায় খোদাই করা থাকবে এবং সদাপ্রভুর গৃহের রান্নার পাত্রগুলো বেদীর সামনের বাটিগুলোর মত হবে। যিরূশালেম ও যিহূদার প্রত্যেকটি রান্নার পাত্র বাহিনীদের সদাপ্রভুর উদ্দেশ্য পবিত্র হবে এবং যে কেউ বলিদান নিয়ে আসে তারা সেই সমস্ত পাত্রগুলি থেকে খাবে এবং সেগুলোতে রান্না করবে। সেই দিন বাহিনীদের সদাপ্রভুর গৃহে আর কোনো ব্যবসায়ী থাকবে না!
”কিন্তু তাঁর আসবার দিন কে সহ্য করতে পারে? কে দাঁড়াতে পারে যখন তিনি প্রকাশিত হবেন? কারণ তিনি পরিশোধনের আগুনের মত অথবা ধোপার সাবানের মত। তিনি পরিশোধক ও রূপাকে খাঁটি করার জন্য বিচারক হিসাবে আসনে বসবেন। তিনি লেবীর ছেলেদের শুচি করবেন এবং সোনা ও রূপার মত করে খাঁটি করবেন, তাতে তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে ধার্মিকতার নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
”ক্ষেত হল জগত; ভাল বীজ হল ঈশ্বরের রাজ্যের সন্তানরা; শ্যামাঘাস হল সেই শয়তানের সন্তানরা; যে শত্রু তা বুনেছিল, সে দিয়াবল; কাটার সময় যুগের শেষ; এবং মজুরেরা হল স্বর্গদূত। অতএব যেমন শ্যামাঘাস সংগ্রহ করে আগুনে পুড়িয়া দেওয়া হয়, তেমনি যুগের শেষে হবে। মানবপুত্র নিজের দূতদের পাঠাবেন; তাঁরা তাঁর রাজ্য থেকে সব বাঁধাজনক বিষয় ও অধর্মীদেরকে সংগ্রহ করবেন, এবং তাদের আগুনে ফেলে দেবেন; সেই জায়গায় কান্নাকাটি ও দাঁতে দাঁত ঘর্ষণ হবে। তখন ধার্মিকেরা নিজেদের পিতার রাজ্যে সুর্য্যের মত উজ্জ্বল হবে। যার কান আছে সে শুনুক।
”আবার স্বর্গরাজ্য এমন এক টানা জালের সমান, যা সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলে সব রকম মাছ সংগ্রহ করল। জালটা পরিপূর্ণ হলে লোকে পাড়ে টেনে তুলল, আর বসে বসে ভালগুলো সংগ্রহ করে পাত্রে রাখল এবং খারাপগুলো ফেলে দিল। এইভাবে যুগের শেষে হবে; দূতেরা এসে ধার্মিকদের মধ্য থেকে খারাপদের আলাদা করবেন, এবং তাদের আগুনে ফেলে দেবেন; সেই জায়গায় কান্নাকাটি ও দাঁতে দাঁত ঘর্ষণ হবে।
”কিন্তু তিনি এর উত্তরে তাদের বললেন, "সন্ধ্যা হলে তোমরা বলে থাক, আজ আবহাওয়া ভাল থাকবে, কারণ আকাশ লাল হয়েছে। আর সকালে বলে থাক, আজ ঝড় হবে, কারণ আকাশ লাল ও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তোমরা আকাশের ভাব বুঝতে পার, কিন্তু কালের চিহ্নের বিষয়ে বুঝতে পার না।
”কারণ মানবপুত্র তাঁর দূতদের সঙ্গে, তাঁর পিতার প্রতাপে আসবেন, আর তখন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কাজ অনুযায়ী ফল দেবেন। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েক জন আছে, যারা কোন মতে মৃত্যু দেখবে না, যে পর্যন্ত মানবপুত্রকে তাঁর রাজ্যে আসতে না দেখে।
”যীশু তাদের বললেন, "আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা যতজন আমার অনুসরণকারী হয়েছ, আবার যখন সব কিছু নতুন করে সৃষ্টি হবে, যখন মানবপুত্র তাঁর মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরাও বারোটা সিংহাসনে বসে ইস্রায়েলের বারো বংশের বিচার করবে।"
”পরে তিনি জৈতুন পর্বতের উপরে বসলে শিষ্যেরা গোপনে তাঁর কাছে এসে বললেন, "আমাদেরকে বলুন দেখি, এই সব ঘটনা কখন ঘটবে? আর আপনার আবার ফিরে আসার এবং যুগ শেষ হওয়ার চিহ্ন কি?" যীশু এর উত্তরে তাঁদের বললেন, "সাবধান হও, কেউ যেন তোমাদের না ঠকায়। কারণ অনেকেই আমার নাম ধরে আসবে, বলবে, আমিই সেই খ্রীষ্ট, আর অনেক লোককে ঠকাবে। আর তোমরা যুদ্ধের কথাও যুদ্ধের গুজব শুনবে, দেখো, অস্থির হয়ো না, কারণ এসব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও এর শেষ নয়। কারণ এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে ও এক রাজ্যে অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে উঠবে। জায়গায় জায়গায় ভূমিকম্প ও দূর্ভিক্ষ হবে। কিন্তু এই সবই যন্ত্রণা আরম্ভ মাত্র।
”সেই সময়ে লোকেরা কষ্ট দেবার জন্য তোমাদের সমর্পণ করবে, ও তোমাদের বধ করবে, আর আমার নামের জন্য সমস্ত জাতি তোমাদের ঘৃণা করবে। আর সেই সময় অনেকে বিশ্বাস ছেড়ে চলে যাবে, একজন অন্য জনকে শত্রুর হাতে সমর্পণ করবে, একে অন্যকে ঘৃণা করবে। আর অনেক ভণ্ড ভাববাদী আসবে এবং অনেককে ভোলাবে। আর অধর্ম বৃদ্ধি হওয়াতে অধিকাংশ লোকের প্রেম শীতল হয়ে যাবে। কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সে উদ্ধার পাবে। আবার সব জাতির কাছে সাক্ষ্য দাওয়ার জন্য রাজ্যের এই সুসমাচার সমস্ত জগতে প্রচার করা হবে, আর তখন শেষ সময় উপস্থিত হবে।
”অতএব যখন তোমরা দেখবে, ধ্বংসের যে ঘৃণার জিনিসের বিষয়ে দানিয়েল ভাববাদী বলেছেন, যা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যে ব্যক্তি এই বিষয়ে পড়ে সে বুঝুক, তখন যারা যিহূদিয়াতে থাকে, তারা পাহাড়ি অঞ্চলে পালিয়ে যাক, যে কেউ ছাদের উপরে থাকে, সে ঘর থেকে জিনিসপত্র নাওয়ার জন্য নীচে না নামুক, আর যে কেউ ক্ষেতে থাকে, সে তার পোশাক নাওয়ার জন্য পেছনে ফিরে না যাক। হায়, সেই সময়ে গর্ভবতী এবং যাদের কোলে দুধের বাচ্চা তাদের খুবই কষ্ট হবে! আর প্রার্থনা কর, যেন তোমাদের শীতকালে কিম্বা বিশ্রামবারে পালাতে না হয়। কারণ সেসময় এমন “মহাসংকট উপস্থিত হবে, যা জগতের আরম্ভ থেকে এ পর্যন্ত কখনও হয়নি, আর কখনও হবেও না। আর সেই দিনের সংখ্যা যদি কমিয়ে দেওয়া না হত, তবে কোন মানুষই উদ্ধার পেত না, কিন্তু যারা মনোনীত তাদের জন্য সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হবে।
”তখন যদি কেউ তোমাদের বলে, দেখ, সেই খ্রীষ্ট এখানে, কিম্বা ওখানে, তোমরা বিশ্বাস কর না। কারণ ভণ্ড খ্রীষ্টেরা ও ভণ্ড ভাববাদীরা উঠবে এবং এমন মহান মহান চিহ্ন ও আশ্চর্য্য আশ্চর্য্য কাজ দেখাবে যে, যদি হতে পারে, তবে মনোনীতদেরও ভোলাবে। দেখ, আমি আগেই তোমাদের বললাম। অতএব লোকে যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, তিনি মরূপ্রান্তে,’ তোমরা বাইরে যেও না, ‘দেখ, তিনি গোপন ঘরে,’ তোমরা বিশ্বাস করো না। কারণ বিদ্যুৎ যেমন পূর্ব দিক থেকে বের হয়ে পশ্চিম দিক পর্যন্ত প্রকাশ পায়, তেমন ভাবেই মানবপুত্রের আগমনও হবে। যেখান মৃতদেহ থাকে সেইখানে শকুন জড়ো হবে।
”আর সেই সময়ের সংকটের পরেই “সূর্য্য অন্ধকার হবে, চাঁদও জ্যোৎস্না দেবে না, আকাশ থেকে তারা খসে পড়বে ও আকাশমন্ডলের সমস্ত ক্ষমতা। আর তখন মানবপুত্রের চিহ্ন আকাশে দেখা যাবে, আর তখন পৃথিবীর সমস্ত জাতি বিলাপ করবে এবং মানবপুত্রকে আকাশে মেঘরথে পরাক্রম ও মহা প্রতাপে আসতে দেখবে। আর তিনি মহা তূরীধ্বনির সঙ্গে তাঁর দূতদের পাঠাবেন, তাঁরা আকাশের এক সীমা থেকে আর এক সীমা পর্যন্ত, চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের একত্রিত করবেন।
”ডুমুরগাছের গল্প থেকে শিক্ষা নাও, যখন তার ডালে কচি পাতা বের হয়, তখন তোমরা জানতে পার, গ্রীষ্মকাল এসে গেছে, তেমনি তোমরা ঐ সব ঘটনা দেখলেই জানবে, তিনিও আসছেন, এমনকি, দরজার কাছে উপস্থিত। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই যুগের লোকদের লোপ হবে না, যে পর্যন্ত না এ সমস্ত কিছু পূর্ণ হয়। আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হবে কিন্তু আমার বাক্যের লোপ কখনও হবে না। কিন্তু সেই দিনের ও সেই মুহূর্তের বিষয় কেউই জানে না, এমনকি স্বর্গ দূতেরাও জানে না, পুত্রও জানে না, শুধু পিতা জানেন। যেমন নোহের সময়ে হয়েছিল, মানবপুত্রের আগমনও তেমন হবে। কারণ বন্যা আসার আগে থেকে, জাহাজে নোহের প্রবেশের দিন পর্যন্ত, লোকে যেমন খাওয়া দাওয়া করত, বিয়ে করত, ও বিয়ে দিয়েছে। এবং ততক্ষণ বুঝতে পারল না, যতক্ষণ না বন্যা এসে সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, তেমন মানবপুত্রের আগমনের সময়েও হবে।
”তখন দুই জন ক্ষেতে থাকবে, এক জনকে নিয়ে নাওয়া হবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। দুটি মহিলা যাঁতা পিষবে, এক জনকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। অতএব জেগে থাক, কারণ তোমাদের প্রভু কোন্ দিন আসবেন, তা তোমরা জান না। কিন্তু এটা জেনে রাখো, চোর কোন মুহূর্তে আসবে, তা যদি বাড়ির মালিক জানত, তবে জেগে থাকত, নিজের বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না। এই জন্য তোমরাও প্রস্তুত থাক, কারণ যে সময় তোমরা মনে করবে তিনি আসবেন না, সেই সময়ই মানবপুত্র আসবেন।"
”এখন, সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসকে, যাকে তার মালিক তাঁর পরিজনের উপরে নিযুক্ত করেছেন, যেন সে তাদের উপযুক্ত সময়ে খাবার দেয়? ধন্য সেই দাস, যাকে তার মালিক এসে তেমন করতে দেখবেন। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে তাঁর সব কিছুর উপরে নিযুক্ত করবেন। কিন্তু সেই দুষ্টু দাস যদি তার হৃদয়ে বলে, ‘আমার মালিকের আসবার দেরি আছে,’ আর যদি তার দাসদের মারতে এবং মাতাল লোকদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতে, আরম্ভ করে, তবে যে দিন সে অপেক্ষা করবে না এবং যে মুহূর্তের আশা সে করবে না, সেই দিন ও সেই মুহূর্তে সেই দাসের মালিক আসবেন, আর তাকে দুই খন্ড করে ভণ্ডদের মধ্যে তার স্থান ঠিক করবেন, সে সেই জায়গায় কাঁদবে ও দাঁতে দাঁত ঘষবে।
”তখন স্বর্গরাজ্য এমন দশটি কুমারীর মতো হবে, যারা নিজের নিজের প্রদীপ নিয়ে বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হল। তাদের মধ্যে পাঁচ জন বোকা, আর পাঁচ জন বুদ্ধিমতী ছিল। কারণ যারা বোকা ছিল, তারা নিজের নিজের প্রদীপ নিল, কিন্তু সঙ্গে তেল নিল না, কিন্তু যারা বুদ্ধিমতী তারা তাদের প্রদীপের সঙ্গে পাত্রে তেলও নিল। আর বড় আসতে দেরি হওয়ায় সবাই ঢুলতে ঢুলতে ঘুমিয়ে পড়ল। পরে মাঝ রাতে এই আওয়াজ হল, দেখ, বর! তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হও। তাতে সেই কুমারীরা সবাই উঠল এবং নিজের নিজের প্রদীপ সাজালো। আর বোকা কুমারীরা বুদ্ধিমতিদের বলল, তোমাদের তেল থেকে আমাদেরকে কিছু দাও, কারণ আমাদের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। কিন্তু বুদ্ধিমতীরা বলল, হয়তো তোমাদের ও আমাদের জন্য এই তেলে কুলাবে না, তোমরা বরং বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে তোমাদের জন্য তেল কিনে নাও। তারা তেল কিনতে যাচ্ছে, সেই সময় বর এলো এবং যারা তৈরী ছিল, তারা তাঁর সঙ্গে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল, শেষে অন্য সমস্ত কুমারীরাও এলো এবং বলতে লাগল, প্রভু, প্রভু, আমাদেরকে দরজা খুলে দিন। কিন্তু তিনি বললেন, তোমাদের সত্যি বলছি, আমি তোমাদের চিনি না। অতএব জেগে থাক, কারণ তোমরা সেই দিন বা সেই মুহূর্ত জান না।
”আর যখন মানবপুত্র সমস্ত দূতদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মহিমায় আসবেন, তখন তিনি তাঁর প্রতাপের সিংহাসনে বসবেন। আর সমস্ত জাতি তাঁর সামনে জমায়েত হবে, পরে তিনি তাদের একজন থেকে অন্য জনকে আলাদা করবেন, যেমন পালরক্ষক ছাগলের পাল থেকে ভেড়া আলাদা করে, আর তিনি ভেড়াদের তাঁর ডানদিকে ও ছাগলদেরকে বাঁদিকে রাখবেন।
”তখন রাজা তাঁর ডানদিকের লোকদেরকে বলবেন, "এস, আমার পিতার আশীর্বাদ ধন্য পাত্রেরা, জগত সৃষ্টির প্রথম থেকে যে রাজ্য তোমাদের জন্য তৈরী করা হয়েছে, তার অধিকারী হও। কারণ যখন আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তখন তোমরা আমাকে খাবার দিয়েছিলে, আর যখন আমি পিপাসিত ছিলাম, তখন আমাকে পান করিয়েছিলে, অতিথি হয়েছিলাম, আর আমাকে থাকার আশ্রয় দিয়েছিলে, বস্ত্রহীন হয়েছিলাম, আর আমাকে বস্ত্র পরিয়েছিলে, অসুস্থ হয়েছিলাম, আর আমার যত্ন নিয়েছিলে, জেলখানায় বন্দী ছিলাম, আর আমার কাছে এসেছিলে," তখন ধার্মিকেরা তাঁকে বলবে, "প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধার্ত দেখে খেতে দিয়েছিলাম, কিম্বা পিপাসিত দেখে পান করিয়েছিলাম? কবেই বা আপনাকে অতিথিরূপে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিম্বা বস্ত্রহীন দেখে বস্ত্র পরিয়েছিলাম? কবেই বা আপনাকে অসুস্থ, কিম্বা জেলখানায় আপনাকে দেখে আপনার কাছে গিয়েছিলাম?" তখন রাজা এর উত্তরে তাদের বলবেন, "আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার এই ভাইদের, এই ক্ষুদ্রতমদের মধ্যে এক জনের প্রতি যখন এই সব করেছিলে, তখন আমারই প্রতি করেছিলে।"
”পরে তিনি বাঁদিকের লোকদেরকেও বলবেন, "তোমরা শাপগ্রস্ত সবাই, আমার কাছ থেকে দূর হও, দিয়াবলের ও তার দূতদের জন্য যে অনন্ত আগুন প্রস্তুত করা হয়েছে, তার মধ্যে যাও। কারণ আমি ক্ষুধার্ত হয়েছিলাম, আর তোমরা আমাকে খাবার দাও নি, পিপাসিত হয়েছিলাম, আর আমাকে পান করাও নি, অতিথি হয়েছিলাম, আর আমাকে আশ্রয় দাও নি, বস্ত্রহীন ছিলাম, আর আমাকে বস্ত্র পরাও নি, অসুস্থ ও জেলখানায় ছিলাম, আর আমার যত্ন কর নি।' তখন তারাও এর উত্তরে বলবে, "প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধার্ত, কি পিপাসিত, কি অতিথি, কি বস্ত্রহীন, কি অসুস্থ, কি জেলখানায় দেখে আপনার সেবা করিনি?" তখন তিনি তাদের বলবেন, "আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা এই ক্ষুদ্রতমদের কোন এক জনের প্রতি যখন এই সব কর নি, তখন আমারই প্রতি কর নি।" পরে তারা অনন্তকালের জন্য শাস্তি পেতে, কিন্তু ধার্মিকেরা অনন্ত জীবনে প্রবেশ করবে।
”যীশু এর উত্তরে বললেন, "তুমি নিজেই বললে, আর আমি তোমাদের বলছি, এখন থেকে তোমরা মানবপুত্রকে পরাক্রমের (সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের) ডান পাশে বসে থাকতে এবং আকাশের মেঘরথে আসতে দেখবে।"
”কারণ যে কেউ এই কালের অবিশ্বস্ত ও পাপী লোকদের মধ্যে আমাকেও আমার বাক্যকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করে, মানবপুত্র তাকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করবেন, যখন তিনি পবিত্র দূতদের সঙ্গে নিজের প্রতাপে মহিমায় আসবেন।
”আর তিনি তাদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েক জন আছে, যারা কোন মতে মৃত্যু দেখবে না, যে পর্যন্ত ঈশ্বরের রাজ্য পরাক্রমের সঙ্গে আসতে না দেখে।
”আপনি আমাদের বলুন, কখন এই সব ঘটনা ঘটবে? আর কোন চিহ্ন দেখে আমরা বুঝতে পারবো যে এই সব ঘটার সময় হয়ে এসেছে? যীশু এর উত্তরে তাদের বললেন, "সাবধান হও, কেউ যেন তোমাদের না ঠকায় । অনেকে আমার নাম ধরে আসবে, বলবে, আমিই সেই খ্রীষ্ট, আর অনেক লোককে ঠকাবে। কিন্তু তোমরা যখন যুদ্ধের কথাও যুদ্ধের গুজব শুনবে, তখন ভয় পেয়ো না; এ সব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও শেষ নয়। এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে, ও এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে উঠবে। জায়গায় জায়গায় ভূমিকম্প ও দূর্ভিক্ষ হবে; এই সবই যন্ত্রণা আরম্ভ মাত্র।
”তোমরা লোকদের থেকে সাবধান থাকো। লোকে তোমাদের বিচার সভার লোকেদের হাতে ধরিয়ে দেবে এবং সমাজঘরে তোমাদের মারা হবে; আর আমার জন্য তোমাদের দেশের রাজ্যপাল ও রাজাদের সামনে সাক্ষী দেবার জন্য দাঁড়াতে হবে। কিন্তু তার আগে সব জাতির কাছে সুসমাচার প্রচার করতে হবে। কিন্তু লোকে যখন তোমাদের ধরে বিচারের জন্য নিয়ে যাবে, তখন কি বলতে হবে তা নিয়ে ভেবো না; সেই সময় যে কথা তোমাদের বলে দেওয়া হবে, তোমরা তাই বলবে; কারণ তোমরাই যে কথা বলবে তা নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মাই কথা বলবেন। তখন ভাই ভাইকে ও বাবা সন্তানকে মৃত্যুতে সমর্পণ করবে; এবং সন্তানেরা মা বাবার বিপক্ষে উঠে তাদের হত্যা করাবে। আর আমার নামের জন্য তোমাদের সবাই ঘৃণা করবে; কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।
”যখন তোমরা দেখবে, সব শেষ করার সেই ঘৃণার জিনিস যেখানে থাকবার নয়, সেখানে রয়েছে যে পড়ে, সে বুঝুক, তখন যারা যিহূদিয়াতে থাকে তারা পাহাড়ি জায়গায় পালিয়ে যাক; যে কেউ ছাদের উপরে থাকে, সে ঘর থেকে জিনিসপত্র নেবার জন্য নীচে না নামুক; এবং যে জমিতে থাকে, সে নিজের পোশাক নেবার জন্য পিছনে ফিরে যেন না যায়। সেই সময়ে যারা গর্ভবতী এবং যারা সন্তানকে বুকের দুধ পান করায় সেই মহিলাদের অবস্থা কি খারাপই না হবে! প্রার্থনা কর, যেন এসব শীতকালে না ঘটে। কারণ সেই সময় এমন কষ্ট হবে যা ঈশ্বরের জগত সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত হয়নি, আর কখন হবে না। আর প্রভু যদি সেই দিনগুলির সংখ্যা কমিয়ে না দিতেন, তবে কোন মাংসই রক্ষা পেত না; কিন্তু ঈশ্বর যাদেরকে মনোনীত করে নিয়েছেন তাদের জন্য ঈশ্বর দিনগুলি কমিয়ে দিয়েছেন।
”আর সেই সময় যদি কেউ তোমাদেরকে বলে, দেখ, সেই খ্রীষ্ট এখানে, কিম্বা দেখ, ওখানে, তোমরা বিশ্বাস কোর না। কারণ ভণ্ড খ্রীষ্টেরা ও নকল ভাববাদীরা আসবে এবং অনেক আশ্চর্য্য কাজ করবে, যেন তারা ঈশ্বরের মনোনীত করা লোকদেরকেও ঠকাতে পারে। তোমরা কিন্তু সাবধান থেকো। আমি তোমাদেরকে আগে থেকেই সব কিছু বলে রাখলাম।
”সেই সময়ের কষ্টের ঠিক পরেই, সূর্য্য অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদ আলো দেবে না, তারাগুলো আকাশ থেকে খশে পড়ে যাবে এবং চাঁদ, সূর্য্য, তারা আর আকাশের সব শক্তি নড়ে যাবে। সেই সময় লোকেরা মানবপুত্রকে মহা শক্তি ও মহা প্রতাপে সঙ্গে মেঘের ভেতর দিয়ে আসতে দেখবে। আর তিনি তাঁর দূতদের পাঠিয়ে পৃথিবীর এবং আকাশের এক সীমা থেকে অন্য সীমা পর্যন্ত চারিদিক থেকে ঈশ্বরের সব মনোনীত করা লোকদের জড়ো করবেন।
”ডুমুরগাছের গল্প থেকে শিক্ষা নাও; যখন তার ডালপালা নরম হয়ে তাতে পাতা বের হয়, তখন তোমরা জানতে পার যে গরমকাল এসেছে; সেইভাবে যখন তোমরা দেখবে এই সব ঘটছে তখন বুঝতে হবে যে, তাঁর আসার সময় এগিয়ে এসেছে, এমনকি, দরজায় হাজির। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যতক্ষণ না এই সব কিছু ঘটবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু লোক বেঁচে থাকবে। আকাশ ও পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার বাক্য চিরকাল থাকবে। কিন্তু সেই দিন বা সেই সময়ের কথা কেউ জানে না; স্বর্গের দূতেরাও না, ছেলে ও না, শুধু বাবাই জানেন। সাবধান হও, জেগে থাক ও প্রার্থনা করো; কারণ সেই সময় কখন আসবে তা তোমরা জান না। এটা ঠিক যেন, একজন লোক নিজের বাড়ি ছেড়ে কোথাও ভ্রমণে গিয়েছেন; আর তিনি নিজের চাকরদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিলেন এবং দারোয়ানকে জেগে থাকতে আদেশ দিলেন, এইভাবে সেই দিন আসবে। অতএব তোমরাও এইভাবে জেগে থাকো, কারণ বাড়ির কর্তা সন্ধ্যায়, কি দুপুররাতে, কি মোরগ ডাকার সময়, কি সকালবেলায় আসবেন তোমরা তা জান না; তিনি হঠাৎ এসে যেন না দেখেন তোমরা ঘুমিয়ে আছ। আর আমি তোমাদের যা বলি, সবাইকেই তা বলি, জেগে থাকো।
”যীশু বললেন, আমি সেই; আর এখন থেকে তোমরা মানবপুত্রকে পরাক্রমের (সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের) ডান পাশে বসে থাকতে এবং আকাশের মেঘরথে আসতে দেখবে।"
”কারণ যে কেউ আমাকেও আমার বাক্যকে লজ্জার বিষয় বলে মনে করে, মানবপুত্র যখন নিজের প্রতাপে এবং পিতার ও পবিত্র দূতদের প্রতাপে আসবেন, তখন তিনি তাকেও লজ্জার বিষয় বলে মনে করবেন। কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন আছে, যারা, যে পর্যন্ত না ঈশ্বরের রাজ্য দেখবে, সেই পর্যন্ত তাদের কোনও মতে মৃত্যু হবে না।"
”তোমাদের কোমর বেঁধে রাখ ও প্রদীপ জ্বেলে রাখ। তোমরা এমন লোকের মতো হও, যারা তাদের প্রভুর অপেক্ষায় থাকে যে, তিনি বিয়ের ভোজ থেকে কখন ফিরে আসবেন, যেন তিনি এসে দরজায় আঘাত করলে তারা তখনই তাঁর জন্য দরজা খুলে দিতে পারে। যাদেরকে প্রভু এসে জেগে থাকতে দেখবেন, সেই দাসেরা ধন্য । আমি তোমাদেরকে সত্য বলছি, তিনি কোমর বেঁধে তাদেরকে খেতে বসাবেন এবং কাছে এসে তাদের সেবা করবেন। যদি মাঝ রাতে কিংবা যদি শেষ রাতে এসে প্রভু তেমনই দেখেন, তবে দাসেরা ধন্য! কিন্তু এটা জেনে রাখো চোর কোন মুহূর্তে আসবে, তা যদি বাড়ির মালিক জানত, তবে সে জেগে থাকত, নিজের বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না। তোমরাও প্রস্তুত থাক, কারণ যে সময় তোমরা মনে করবে তিনি আসবেন না, সেই সময়ই মানবপুত্র আসবেন।"
”ধন্য সেই দাস, যাকে তার প্রভু এসে তেমন করতে দেখবেন। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে তাঁর সব কিছুর উপরে নিযুক্ত করবেন। কিন্তু সেই দাস যদি মনে মনে বলে, আমার প্রভুর আসতে দেরি হবে এবং সে দাস দাসীদেরকে মারধর করে, ভোজন ও পান করতে এবং মাতাল হতে আরম্ভ করে, তবে যে দিন সে অপেক্ষা করবে না এবং যে মুহূর্তের আশা সে করবে না, সেই দিন ও সেই মুহূর্তে সেই দাসের প্রভু আসবেন, আর তাকে দুই খন্ড করে ভন্ডদের মধ্যে তার স্থান ঠিক করবেন। আর সেই দাস, যে তার প্রভুর ইচ্ছা জেনেও তৈরি হয়নি, ও তাঁর ইচ্ছা মতো কাজ করে নি, সে অনেক শাস্তি পাবে।
”আর তিনি লোকদের বললেন, তোমরা যখন পশ্চিমদিকে মেঘ উঠতে দেখ, তখন বল যে বৃষ্টি আসছে, আর তেমনই ঘটে। আর যখন দক্ষিণ বাতাস বইতে দেখ, তখন বল আজ খুব গরম পড়বে এবং তাই ঘটে। ভণ্ডরা, তোমরা পৃথিবীর ও আকাশের ভাব দেখে বিচার করতে পার, কিন্তু এই বর্তমান সময়ের অবস্থা বুঝতে পার না, এ কেমন?
”আর তিনি শিষ্যদের বললেন, "এমন সময় আসবে, যখন তোমরা মানবপুত্রের রাজত্বের সময়ের এক দিন দেখতে ইচ্ছা করবে, কিন্তু দেখতে পাবে না। তখন লোকেরা তোমাদের বলবে, দেখ, ঐ জায়গায়! দেখ, এই জায়গায়! যেও না, তাদের পিছনে পিছনে যেও না। কারণ বিদ্যুৎ যেমন আকাশের নীচে এক দিক থেকে চমকালে, আকাশের নীচে অন্য দিক পর্যন্ত আলোকিত হয়, মানবপুত্র নিজের দিনে সেরূপ হবেন।
”কিন্তু প্রথমে তাঁকে অনেক দুঃখভোগ করতে এবং এই সময়ের লোকরা তাঁকে অগ্রাহ্য করবে। আর নোহের সময়ে যেমন হয়েছিল, মানবপুত্রের সময়েও তেমনি হবে। লোকে খাওয়া দাওয়া করত, বিবাহ করত, বিবাহিতা হত, যে পর্যন্ত না নোহ জাহাজে প্রবেশ করলেন, আর জলপ্লাবন এসে সবাইকে ধ্বংস করল। সেইভাবে লোটের সময়ে যেমন হয়েছিল লোকে খাওয়া দাওয়া, কেনাবেচা, গাছ লাগানো ও বাড়ি তৈরী করত; কিন্তু যেদিন লোট সদোম থেকে বাইরে গেলেন, সেই দিন আকাশ থেকে আগুনও গন্ধকের বৃষ্টি পড়ে সবাইকে ধ্বংস করল- মানবপুত্র যেদিন প্রকাশিত হবেন, সে দিনেও এই রকমই হবে।
”সেই দিন যে কেউ ছাদের উপরে থাকবে, আর তার জিনিসপত্র ঘরে থাকবে, সে তা নেবার জন্য নীচে না নামুক; আর তেমনি যে কেউ মাঠে থাকবে, সেও ফিরে না আসুক। লোটের স্ত্রীর কথা মনে কর। যে কেউ নিজের প্রাণ লাভ করতে চেষ্টা করে, সে তা হারাবে; আর যে কেউ প্রাণ হারায়, সে তা বাঁচাবে।
”আমি তোমাদের বলছি, সেই রাত্রিতে দুজন এক বিছানায় থাকবে, তাদের মধ্যে থেকে এক জনকে নেওয়া হবে এবং অন্য জনকে ফেলে যাওয়া হবে। দুটি স্ত্রীলোক একসাথে যাঁতা পিষবে; তাদের মধ্যে থেকে এক জনকে নেওয়া হবে এবং অন্য জনকে ফেলে যাওয়া হবে।" তখন তারা উত্তর করে তাঁকে বললেন, "হে প্রভু, কোথায়?" তিনি তাদের বললেন," যেখানে মৃতদেহ, সেখানেই শকুন জড়ো হয়।"
”তবে ঈশ্বর কি তাঁর সেই মনোনীতদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করবেন না, যারা দিনরাত তাঁর কাছে ক্রন্দন করে, যদিও তিনি তাদের বিষয়ে দীর্ঘসহিষ্ণু? আমি তোমাদের বলছি, তিনি শীঘ্রই তাদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করবেন। কিন্তু মানবপুত্র যখন আসবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস দেখতে পাবেন?
”পরে তাদের বললেন, জাতির বিরুদ্ধে জাতি ও রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্য উঠবে। বিশাল বিশাল ভূমিকম্প এবং জায়গায় জায়গায় দূর্ভিক্ষ ও মহামারী হবে, আর আকাশে ভয়ঙ্কর লক্ষণ এবং মহৎ চিহ্ন হবে।
”কিন্তু এই সব ঘটনার আগে লোকেরা তোমাদের বন্দি করবে, তোমাদের নির্যাতন করবে, সমাজঘরে ও কারাগারে সমর্পণ করবে; আমার নামের জন্য তোমাদের রাজাদের ও শাসনকর্তাদের সামনে আনা হবে। সাক্ষ্যের জন্য এই সব তোমাদের প্রতি ঘটবে। অতএব মনে মনে তৈরি থেকো যে, কি উত্তর দিতে হবে, তার জন্য আগে চিন্তা করবে না। কারণ আমি তোমাদের এমন কথা ও বুদ্ধি দেব যে, তোমাদের বিপক্ষেরা কেউ প্রতিরোধ করতে কি উত্তর দিতে পারবে না। আর তোমরা বাবা মা, ভাই, আত্মীয় ও বন্ধুদের দ্বারা সমর্পিত হবে এবং তোমাদের কাউকে কাউকেও তারা মেরে ফেলবে। আর আমার নামের জন্য তোমরা সবার ঘৃণার পাত্র হবে। কিন্তু তোমাদের মাথার একটা চুল নষ্ট হবে না। তোমরা নিজেদের ধৈর্য্যে নিজেদের প্রাণরক্ষা করবে।
”আর যখন তোমরা যিরুশালেমকে সৈন্যসামন্ত দিয়ে ঘেরা দেখবে, তখন জানবে যে, তার ধ্বংস নিকটবর্তী। তখন যারা যিহূদিয়ায় থাকে, তারা পাহাড়ি অঞ্চলে পালিয়ে যাক এবং যারা শহরের মধ্যে থাকে, তারা বাইরে যাক; আর যারা গ্রামাঞ্চলে থাকে, তারা শহরে না আসুক। কারণ তখন প্রতিশোধের সময়, যে সব কথা লেখা আছে সে সব পূর্ণ হবার সময়। হায়!, সেই সময়ে গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী স্ত্রীলোকদের ভয়ঙ্কর দুর্দশা! কারণ ভূমিতে মহাসংকট এবং এই জাতির ওপর ক্রোধ নেমে আসবে। লোকেরা তরবারির আঘাতে মারা পড়বে; এবং বন্দি হয়ে সকল অইহূদির মধ্যে সমর্পিত হবে; আর অইহূদিদের সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যিরুশালেম সব জাতির কাছে পদদলিত হবে।
”আর সূর্য্যে, চাঁদে ও তারকামন্ডলে নানা চিহ্ন দেখা যাবে এবং পৃথিবীতে সমস্ত জাতি কষ্টে ভুগবে, তারা সমুদ্রের ও ঢেউয়ের গর্জনে উদ্বিগ্ন হবে। ভয়ে এবং পৃথিবীতে যা যা ঘটবে তার আশঙ্কায়, মানুষেরা অজ্ঞান হয়ে যাবে; কারণ আকাশের সব শক্তি বিচলিত হবে। আর সেই সময়ে তারা মানবপুত্রকে পরাক্রম ও মহা প্রতাপের সঙ্গে মেঘযোগে করে আসতে দেখবে। কিন্তু এসব ঘটনা শুরু হলে তোমরা উপরের দিকে তাকিও। মাথা তোল, কারণ তোমাদের মুক্তি আসন্ন।
”আর তিনি তাদেরকে একটি গল্প বললেন, ডুমুরগাছ ও আর সব গাছ দেখ; যখন সেগুলির নতুন পাতা গজায়, তখন তা দেখে তোমরাই নিজেরাই বুঝতে পার যে, এখন গরমকাল নিকটবর্তী। সেইভাবে তোমরাও যখন এই সব ঘটছে দেখবে, তখন জানবে, ঈশ্বরের রাজ্য নিকটবর্তী। আমি তোমাদের সত্য বলছি, যে পর্যন্ত এসব পূর্ণ না হয়, সেই পর্যন্ত এই কালের লোকদের মৃত্যু হবে না। আকাশের ও পৃথিবীর বিনাশ হবে, কিন্তু আমার বাক্যের বিনাশ কখনও হবে না। কিন্তু নিজেদের বিষয়ে সাবধান থেকো, রোগে ও ভোগবিলাসে এবং কাজের চিন্তায় তোমাদের হৃদয় যেন ভারাক্রান্ত না হয় এবং জীবনে যেন ভয় না আসে, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের মতো তোমাদের ওপরে এসে পড়বে; কারণ সেই দিন সমস্ত পৃথিবীর লোকের উপরে আসবে। কিন্তু তোমরা সব সময়ে জেগে থেকো এবং প্রার্থনা করো, যেন এই যেসব ঘটনা ঘটবে, তা এড়াতে এবং মানবপুত্রের সামনে দাঁড়াতে, শক্তিমান হও।
”সত্য, সত্যই বলছি এমন সময় আসছে, বরং এখন সেই সময়, যখন মৃতেরা ঈশ্বরের পুত্রের গলার শব্দ শুনবে এবং যারা শুনবে তারা জীবিত হবে। কারণ পিতার যেমন নিজেতে জীবন আছে, তেমনি তিনি পুত্রকেও নিজেতে জীবন রাখতে দিয়েছেন। এবং তিনি তাঁকে বিচার করার অধিকার দিয়েছেন কারণ তিনি মানবপুত্র। এই জন্য বিষ্মিত হয়ো না, কারণ এমন সময় আসছে, যখন কবরের মধ্যে যারা আছে তারা সবাই তাঁর গলার শব্দ শুনতে পাবে, এবং যারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য ভালো কাজ করেছে ও যারা খারাপ কাজ করেছে তারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বের হয়ে আসবে।
”আমার পিতার বাড়িতে থাকার অনেক জায়গা আছে; যদি এরকম না হত, আমি তোমাদের বলতাম, সেইজন্য আমি তোমাদের জন্য থাকার জায়গা তৈরী করতে যাচ্ছি। যদি আমি যাই এবং তোমাদের জন্য থাকার জায়গা তৈরী করি, আমি আবার আসব এবং আমার কাছে তোমাদের নিয়ে যাব যেন আমি যেখানে থাকি তোমরাও সেখানে থাকতে পার,
”যখন প্রভু যীশু এসব কথা বলছেন, তিনি তাঁদের চোখের সামনে স্বর্গে উঠে যেতে লাগলেন, একটি মেঘ তাঁদের দৃষ্টিপথ থেকে তাঁকে ঢেকে দিল। তিনি যাচ্ছেন আর তাঁরা আকাশের দিকে এক নজরে চেয়ে আছেন, এমন সময়, সাদা পোশাক পরা দুজন মানুষ তাদের কাছে দাঁড়ালেন; আর তাঁরা বললেন, "প্রিয় গালিলের লোকেরা, তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? এই যে যীশু তোমাদের কাছ থেকে স্বর্গে গেলেন, তাঁকে যেমন স্বর্গে যেতে দেখলে, ঠিক তেমনি তাঁকে ফিরে আসতে দেখবে।"
”কারণ আমার সিদ্ধান্ত এই যে, আমাদের জন্য যে মহিমা প্রকাশিত হবে, তার সঙ্গে এই বর্ত্তমান সময়ের কষ্ট ও দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়। কারণ সৃষ্টির একান্ত আশা ঈশ্বরের পুত্রদের প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছে।
”কারণ লেখা আছে, “প্রভু বলছেন, "যেমন আমি জীবিত আছি, "আমার কাছে প্রত্যেকেই হাঁটু পাতবে এবং প্রত্যেকটি জিভ ঈশ্বরের প্রশংসা করবে।”
”আর শান্তির ঈশ্বর তাড়াতাড়ি শয়তানকে তোমাদের পায়ের তলায় দলিত করবেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সঙ্গে থাকুক।
”কিন্তু এই ভিত্তিমূলের উপরে সোনা, রূপা, মূল্যবান পাথর, কাঠ, খড়, ঘাস দিয়ে যদি কেউ গাঁথে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তির কাজ প্রকাশিত হবে। কারণ সেই দিনই তা প্রকাশ করবে, কারণ সেই দিনের প্রকাশ আগুনেই হবে; আর প্রত্যেকের কাজ যে কি রকম, সেই আগুনই তার পরীক্ষা করবে; যে যা গেঁথেছে, তার সেই কাজ যদি থাকে, তবে সে বেতন পাবে। যার কাজ পুড়ে যায়, সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, কিন্তু সে নিজে উদ্ধার পাবে। এমন ভাবে পাবে, যেন সে আগুনের মধ্যে দিয়ে পার হয়ে এসেছে।
”অতএব তোমরা সময়ের আগে, যে পর্যন্ত প্রভু না আসেন, সেই পর্যন্ত কোন বিচার করো না; তিনিই অন্ধকারের সমস্ত গোপন বিষয় আলোতে প্রকাশ করবেন এবং হৃদয়ের সমস্ত গোপন বিষয়ও প্রকাশ করবেন এবং সেই সময় প্রত্যেকে ঈশ্বরের কাছে নিজের নিজের প্রশংসা পাবে।
”আমাদের প্রভু যীশুর শক্তিতে সেই ব্যক্তির দেহের ধ্বংসের জন্য শয়তানের হাতে সমর্পণ করতে হবে, যেন প্রভু যীশুর দিনে আত্মা উদ্ধার পায়। তোমাদের অহঙ্কার করা ভাল নয়। তোমরা কি জান না যে, অল্প খামির ময়দার সমস্ত তালকে খামিরে পূর্ণ করে ফেলে।
”আমি এই বলি, ভাইয়েরা এবং বোনেরা, রক্তমাংস ও মাংস ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না; এবং ক্ষয় অক্ষয়তার অধিকারী হয় না। দেখ, আমি তোমাদেরকে এক গুপ্ত সত্য বলি; আমরা সবাই মারা যাব না, কিন্তু সবাই রূপান্তরীকৃত হব; এক মুহূর্তের মধ্যে, চোখের পলকে, শেষ তুরী ধ্বনি হবে; কারণ তুরী বাজবে, তাতে মৃতের অক্ষয় হয়ে উত্থাপিত হবে এবং আমরা রূপান্তরীকৃত হব।
”যেন যীশুর নামে স্বর্গ এবং মর্ত্ত্য ও পাতালনিবাসীদের “প্রত্যেক হাঁটু নত হয়, এবং প্রত্যেক জিভ যেন স্বীকার করে” যে, যীশু খ্রীষ্টই প্রভু, এইভাবে পিতা ঈশ্বর যেন মহিমান্বিত হন।
”তোমাদের জীবনে যখন খ্রীষ্ট প্রকাশিত হবেন, তখন তোমরাও তাঁর প্রতাপে প্রকাশিত হবে।
”এবং যাকে তিনি মৃতদের মধ্য থাকে উঠিয়েছেন, যিনি আগামী ক্রোধ থেকে আমাদের উদ্ধারকর্তা, যেন স্বর্গ হতে তাঁর সেই পুত্রের অর্থাৎ যীশুর আসার অপেক্ষা করতে পার।
”কিন্তু, হে ভাইগণ আমরা চাই না যে, যারা মারা গেছে তাদের সমন্ধে তোমরা অজ্ঞাত থাক; যেন যাদের প্রত্যাশা নেই, সেই অন্য সকল লোকের মত তোমরা দুঃখিত না হও। কারণ আমরা যখন বিশ্বাস করি যে, যীশু মরেছেন এবং উঠেছেন, তখন জানি, ঈশ্বর যীশুতে মরে যাওয়া লোকদেরকেও সেইভাবে তাঁর সঙ্গে নিয়ে আসবেন। কারণ আমরা প্রভুর বাক্য দিয়ে তোমাদেরকে এও বলেছি যে, আমরা যারা জীবিত আছি, যারা প্রভুর আগমন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবো, আমরা নিশ্চই সেই মরে যাওয়া লোকদের অগ্রগামী হব না।
”কারণ প্রভু নিজে আনন্দধ্বনি সহ, প্রধান দূতের রব সহ এবং ঈশ্বরের তূরীবাদ্য সহ স্বর্গ থেকে নেমে আসবেন, আর যাঁরা খ্রীষ্টে মরেছেন, তাঁরা প্রথমে উঠবে। পরে আমরা যারা জীবিত আছি, যারা অবশিষ্ট থাকব, আমরা আকাশে প্রভুর সঙ্গে দেখা করবার জন্য একসঙ্গে তাঁদের সঙ্গে মেঘযোগে নীত হইব; আর এভাবে সবসময় প্রভুর সঙ্গে থাকব।
”কিন্তু ভাইয়েরা বিশেষ বিশেষ কালের ও সময়ের বিষয়ে তোমাদেরকে কিছু লেখা অপ্রয়োজনীয়। কারণ তোমরা নিজেরা বিলক্ষণ জানো, রাতে যেমন চোর আসে তেমনি প্রভুর দিনও আসছে। লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তক্ষুনি তাদের কাছে যেমন গর্ভবতীর প্রসব বেদনা উপস্থিত হয়ে থাকে, তেমনই আকষ্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়; আর তারা কোনোও ভাবে এড়াতে পারবে না। কিন্তু ভাইয়েরা, তোমরা অন্ধকারে নও যে, সেই দিন চোরের মত তোমাদের উপরে এসে পড়বে।
”কারণ ঈশ্বর আমাদেরকে ক্রোধের জন্য নিযুক্ত করেননি, কিন্তু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা পরিত্রাণ লাভের জন্য; তিনি আমাদের জন্য মরলেন, যেন আমরা জেগে থাকি বা ঘুমিয়ে পড়ি, তাঁর সাথেই বেঁচে থাকি।
”এজন্য, তোমরা যে সব অত্যাচার ও কষ্ট সহ্য করছ, সে সবের মধ্যে তোমাদের সহ্য ও বিশ্বাস থাকায় আমরা নিজেদের ঈশ্বরের মণ্ডলীগুলির মধ্যে তোমাদের নিয়ে গর্ব বোধ করছি। আর এ সবই ঈশ্বরের ধার্মিক বিচারের স্পষ্ট লক্ষণ, যাতে তোমরা ঈশ্বরের সেই রাজ্যের উপযুক্ত বলে গণ্য হবে, যার জন্য দুঃখভোগও করছ। বাস্তবিক ঈশ্বরের কাছে এটা ন্যায় বিচার যে, যারা তোমাদেরকে কষ্ট দেয়, তিনি তাদেরকে প্রতিশোধে কষ্ট দেবেন, এবং কষ্ট পাচ্ছ যে তোমরা, তোমাদেরকে আমাদের সঙ্গে বিশ্রাম দেবেন, [এটা তখনই হবে] যখন প্রভু যীশু স্বর্গ থেকে নিজের পরাক্রমের দূতদের সঙ্গে জ্বলন্ত অগ্নিবেষ্টনে প্রকাশিত হবেন, এবং যারা ঈশ্বরকে জানে না ও যারা আমাদের প্রভু যীশুর সুসমাচারের আদেশ মেনে চলে না, তাদেরকে সমুচিত শাস্তি দেবেন। তারা প্রভুর উপস্থিতি থেকে ও তাঁর শক্তির প্রতাপ থেকে দূর হবে এবং তারা অনন্তকালস্থায়ী বিনাশরূপ শাস্তি ভোগ করবে, এটা সেদিন ঘটবে, যেদিন তিনি নিজের পবিত্রগনের দ্বারা মহিমান্বিত হবেন এবং তখন বিশ্বাসীরা আশ্চর্য্য হবে, এর সঙ্গে তোমরাও যুক্ত আছ কারণ আমদের সাক্ষ্য তোমরা বিশ্বাসে গ্রহণ করেছ।
”আবার, হে ভাইয়েরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন ও তাঁর কাছে আমাদের নিয়ে যাবার বিষয়ে তোমাদেরকে এই বিনতি করছি; তোমরা কোন আত্মার মাধ্যমে, বা কোনও বাক্যর মাধ্যমে, অথবা আমরা লিখেছি, মনে করে কোন চিঠির মাধ্যমে, মনের স্থিরতা থেকে বিচলিত বা উদ্বিগ্ন হয়ো না, ভেব না যে প্রভুর দিন এসে গেল; কেউ কোন প্রকারে যেন তোমাদেরকে না ভোলায়; কারণ সেই দিন আসবে না যতক্ষণ না প্রথমে সেই অধর্মের মানুষ যে সেই বিনাশ সন্তান প্রকাশ পায়। যে প্রতিরোধী হবে সে নিজেকে ঈশ্বর নামে পরিচিত বা পূজ্য সমস্ত কিছুর থেকে নিজেকে বড় করবে, এমনকি ঈশ্বরের মন্দিরে বসে নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করবে।
”তোমাদের কি মনে পড়ে না, আমি আগে যখন তোমাদের কাছে ছিলাম, তখন তোমাদেরকে এই কথা বলেছিলাম? আর সে যেন নিজ সময়ে প্রকাশ পায়, এই জন্য কিসে তাকে বাধা দিয়ে রাখছে, তা তোমরা জান। কারণ অধর্মীর গোপন শক্তি এখনও কাজ করছে; কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে দূর না করা হয়, যে বাধা দিয়ে রাখেছে সে সেই কাজ করতে থকবে। আর তখন সেই অধার্মিক প্রকাশ পাবে, কিন্তু প্রভু যীশু তাঁর মুখের নিঃশ্বাস দিয়ে সেই দুষ্ট ব্যক্তিকে ধ্বংস করবেন, ও নিজ আগমনের প্রকাশ দ্বারা তার শক্তি হ্রাস করবেন। সেই অধার্মিক ব্যক্তি আসবে শয়তানের শক্তি সহকারে, যেটা মিথ্যার সমস্ত নানা আশ্চর্য্য কাজ ও সমস্ত চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণের সঙ্গে হবে, এবং যারা বিনাশ পাচ্ছে তাদের প্রতারণা করার জন্য সমস্ত অধার্মিকতার বিষয় গুলি ব্যবহার করবে; কারণ তারা পরিত্রাণ পাবার জন্য সত্য যে প্রেম গ্রহণ করে নি। আর সেজন্য ঈশ্বর তাদের কাছে ভ্রান্তিমূলক (প্রতারণার) কাজ পাঠান, যাতে তারা সেই মিথ্যায় বিশ্বাস করে, যেন ঈশ্বর সেই সকলকে বিচারে দোষী করতে পারেন, যারা সত্যকে বিশ্বাস করে নি, কিন্তু অধার্মিকতায় সন্তুষ্ট হত।
”তুমি প্রভুর আদেশ পবিত্র ও ত্রূটিহীন রাখ; প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন না হওয়া পর্যন্ত, যা পরমধন্য ও একমাত্র পরাক্রমশালী রাজা যিনি রাজত্ব করেন এবং প্রভু যিনি শাসন করেন, উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করবেন; যিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী, এমন আলোর নিবাসী, যাকে মানুষদের মধ্যে কেউ, কখনও দেখতে পায়নি, দেখতে পাবেওনা; তাঁরই সম্মান ও অনন্তকালস্থায়ী পরাক্রম হোক। আমেন।
”এই কথা মনে রেখো যে, শেষকালে সংকটময় সময় আসবে। মানুষেরা কেবল নিজেকেই ভালবাসবে, টাকার লোভী হবে, অহঙ্কারী হবে, আত্মগর্বিত হবে, ঈশ্বরনিন্দা, পিতামাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অসাধু, স্নেহহীন, ক্ষমাহীন, পরচর্চাকরি, অজিতেন্দ্রিয়, প্রচন্ড সদবিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরকে প্রেম না করে বরং বিলাস প্রিয় হবে; লোকে ভক্তির মুখোশধারী, কিন্তু তার শক্তি অস্বীকারকারী হবে; তুমি এই রকম লোকদের কাছ থেকে সরে যাও।
”আমি ঈশ্বরের সামনে এবং যিনি জীবিত ও মৃতদের বিচার করবেন, সেই খ্রীষ্ট যীশুর সামনে, তাঁর প্রকাশের ও তাঁর রাজ্যের দোহাই দিয়ে, তোমাকে এই দৃঢ় আদেশ দিচ্ছি; তুমি বাক্য প্রচার কর, সময়ে অসময়ে প্রচারের জন্য প্রস্তুত হও, সম্পূর্ণ ধৈর্য্য ও শিক্ষাদান পূর্ব্বক উৎসাহিত কর, ধমক দাও, চেতনা দাও। কারণ এমন সময় আসবে, যে সময় লোকেরা সত্য শিক্ষা সহ্য করবে না, কিন্তু নিজেদের ইচ্ছা অনুসারে নিজেদের জন্য অনেক শিক্ষক জোগাড় করবে, এবং সত্যের বিষয় থেকে কান ফিরিয়ে গল্প শুনতে চাইবে। কিন্তু তুমি সর্ববিষয়ে চিন্তাশীল হও, দুঃখভোগ স্বীকার কর, সুসমাচার প্রচারকের কাজ কর, তোমার সেবা কাজ সম্পূর্ণ কর।
”এখন থেকে আমার জন্য ধার্মিকতার মুকুট তোলা রয়েছে; প্রভু সেই ধর্মময় বিচারকর্তা, সেই দিন আমাকে তা দেবেন; কেবল আমাকে নয়, বরং যত লোক প্রেমের সহিত তাঁর পুনরাগমনের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদেরকেও দেবেন।
”এবং মহান ঈশ্বর মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্টের প্রতাপ প্রকাশ পাবে যে দিন, সেই দিন আমাদের সেই ধন্য আশা পূর্ণ হবার জন্য আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করি।
”আর, “হে প্রভু, তুমিই আদিতে পৃথিবীর ভিত্তিমূল স্থাপন করেছ, স্বর্গও তোমার হাতের সৃষ্টি। তারা বিনষ্ট হবে, কিন্তু তুমিই নিত্যস্থায়ী; তারা সব পোশাকের মত পুরানো হয়ে যাবে, তুমি পোশাকের মত সে সব জড়াবে, পোশাকের মত জড়াবে, আর সে সবের পরিবর্তন হবে; কিন্তু তুমি যে, সেই আছ এবং তোমার বছর সব কখনও শেষ হবে না।”
”ভাল, যা যা স্বর্গস্থ বিষয়ের দৃষ্টান্ত, সেইগুলির ঐ পশুর বলিদানের মাধ্যমে শুচি হওয়া আব্যশক ছিল; কিন্তু যা যা স্বয়ং স্বর্গীয়, সেগুলির এর থেকে শ্রেষ্ঠ যজ্ঞের মাধ্যমে শুচি হওয়া আবশ্যক। কারণ খ্রীষ্ট হাতে বানানো পবিত্র জায়গায় প্রবেশ করেননি এ তো প্রকৃত বিষয়গুলির প্রতিরূপ মাত্র কিন্তু তিনি স্বর্গেই প্রবেশ করেছেন, যেন তিনি এখন আমাদের জন্য ঈশ্বরের সাক্ষাৎে প্রকাশমান হন। আর মহাযাজক যেমন বছর বছর অন্যের রক্ত নিয়ে পবিত্র জায়গায় প্রবেশ করেন, তেমনি খ্রীষ্ট যে অনেকবার নিজেকে উৎসর্গ করবেন, তাও না; কারণ তাহলে জগতের শুরু থেকে অনেকবার তাঁকে মৃত্যুভোগ করতে হত। কিন্তু বাস্তবিক তিনি একবার, যুগপর্য্যায়ের শেষে, নিজের বলিদান মাধ্যমে পাপ নাশ করবার জন্য প্রকাশিত হয়েছেন। আর যেমন মানুষের জন্য একবার মৃত্যু, তারপরে বিচার আছে, তেমনি খ্রীষ্টও ‘অনেকের পাপাভার তুলে নেবার জন্য একবার উৎসর্গীত হয়েছেন; তিনি দ্বিতীয়বার, বিনা পাপে, তাদেরকে দর্শন দেবেন, যারা পরিত্রাণের জন্য তাঁর অপেক্ষা করে।
”এবং আমরা সমাজে একত্র হওয়া পরিত্যাগ না করি- যেমন কারো কারো সেই রকম অভ্যাস আছে- বরং পরস্পরকে চেতনা দিই; আর আমরা সেই দিন যত বেশি কাছাকাছি হতে দেখছি, ততই যেন বেশি এ বিষয়ে আগ্রহী হই।
”নারীরা নিজের নিজের মৃত লোককে পুনরুত্থানের মাধ্যমে ফিরে পেলেন। অন্যেরা নির্যাতনের মাধ্যমে নিহত হলেন, তারা তাদের মুক্তি গ্রহণ করেননি, যেন শ্রেষ্ঠ পুনরুত্থানের ভাগী হতে পারেন।
”এখন দেখ, হে ধনীব্যক্তিরা, তোমাদের উপরে যে সব দুর্দশা আসছে, সে সবের জন্য কান্নাকাটি ও হাহাকার কর। তোমাদের ধন পচে গিয়েছে, ও তোমাদের জামাকাপড় সব পোকায় খেয়ে ফেলেছে; তোমাদের সোনা ও রূপা ক্ষয় হয়েছে; আর তার ক্ষয় তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং আগুনের মত তোমাদের শরীর খাবে। তোমরা শেষ সময়ে ধন সঞ্চয় করেছ।
”অতএব, হে ভাইয়েরা, তোমরা প্রভুর আগমন পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে থাক। দেখ, কৃষক জমির বহুমূল্য ফলের অপেক্ষা করে এবং যত দিন তা প্রথম ও শেষ বৃষ্টি না পায়, ততদিন তার বিষয়ে ধৈর্য্য ধরে থাকে। তোমরাও ধৈর্য্য ধরে থাক, নিজের নিজের হৃদয় সুস্থির কর, কারণ প্রভুর আগমন কাছাকাছি।
”প্রথমে এটা জেনে রাখো যে, শেষ সময়ে উপহাসের সঙ্গে উপহাসকেরা হাজির হবে; তারা তাদের অভিলাষ অনুযায়ী চলবে, এবং বলবে "তাঁর আগমনের প্রতিজ্ঞা কোথায়?" কারণ যে সময় থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা মারা গেছেন, সেই সময় থেকে সব কিছুই সৃষ্টির শুরু থেকে যেমন, তেমনিই আছে। সেই লোকেরা ইচ্ছা করেই এটা ভুলে যায় যে, আকাশমন্ডল এবং মাটি থেকে ও জল দিয়ে সৃষ্টি যা অনেক আগে ঈশ্বর তাঁর বাক্য দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন; এবং সেই বাক্য দিয়েই তখনকার জগত জলে ডুবে ধ্বংস হয়েছিল। আবার সেই বাক্যের গুনে এই বর্ত্তমান কালের আকাশমন্ডল ও পৃথিবী আগুনের জন্য সঞ্চিত করে রাখা হয়েছে, ভক্তিহীন লোকেদের বিচার ও ধ্বংসের দিন পর্যন্ত সঞ্চয় করে রাখা হচ্ছে।
”কিন্তু প্রিয়তমেরা, তোমরা এই একটি কথা ভুলো না যে, প্রভুর কাছে এক দিন হাজার বছরের সমান এবং হাজার বছর এক দিনের সমান। প্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করার বিষয়ে খুব দেরি করবেন না, যেমন কেউ কেউ এমন মনে করে, কিন্তু তোমাদের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন; অনেক লোক যে ধ্বংস হয়, এমন তিনি চান না; বরং সবাই যেন মন পরিবর্তন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, এই তাঁর ইচ্ছা।
”কিন্তু প্রভুর দিন চোর যেমন আসে তেমন ভাবেই তিনি আসবেন; তখন আকাশমন্ডল প্রচণ্ড শব্দ করে ধ্বংস হবে। প্রাথমিক শিক্ষা পুড়ে ধ্বংস হবে এবং পৃথিবী ও তার মধ্যে সমস্ত কাজ আগুনে পুড়ে শেষ হবে। এইভাবে যখন এই সব কিছু ধ্বংস হবে, তখন পবিত্র আচার ব্যবহার ও ভক্তিতে কেমন লোক হওয়া তোমাদের উচিত? ঈশ্বরের সেই দিনের আগমনের অপেক্ষাও আকাঙ্খা করতে করতে সেইমতো হওয়া চাই, যে দিন আকাশমন্ডল পুড়ে ধ্বংস হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা পুড়ে গলে যাবে। কিন্তু তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী আমরা এমন নতুন আকাশমন্ডলের ও নতুন পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি, যার মধ্যে ধার্মিকতা বসবাস করে।
”আর জগত ও তার কামনা বাসনা সব শেষ হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা মেনে চলে সে চিরকাল থাকবে। শিশুরা, শেষ সময় এসে গেছে। তোমরা যেমন শুনেছ যে খ্রীষ্টের শত্রু আসছে তেমনি এখনই অনেক খ্রীষ্টের শত্রু এসে গেছে যার ফলে আমরা জানতে পারছি এটাই শেষ সময়। খ্রীষ্টের এই শত্রুরা আমাদের মধ্য থেকে বের হয়ে গেছে, কিন্তু তারা আমাদের লোক ছিল না। কারণ তারা যদি আমাদের হত তবে আমাদের সঙ্গেই থাকত; কিন্তু তারা বের হয়ে গেছে বলে বোঝা যাচ্ছে তারা সবাই আমাদের লোক ছিল না।
”প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা সব আত্মাকে বিশ্বাস করো না, কিন্তু সব আত্মাকে পরীক্ষা করে দেখ তারা ঈশ্বর থেকে কিনা, কারণ জগতে অনেক ভণ্ড ভাববাদীরা বের হয়েছে। তোমরা ঈশ্বরের আত্মাকে এই প্রকারে চিনতে পার যে, প্রত্যেক আত্মা স্বীকার করে যে ঈশ্বর থেকেই যীশু খ্রীষ্ট দেহ রূপে এসেছিলেন। এবং যে আত্মা যীশুকে স্বীকার করে না সে ঈশ্বরের থেকে নয়। আর সেটাই হলো খ্রীষ্টের শত্রুর আত্মা, তোমরা যার বিষয়ে শুনেছ যে আসছে এবং এখন সেই শত্রুর আত্মা জগতে আছে। প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা ঈশ্বরের থেকে এবং ওই ভণ্ড ভাববাদীকে গুলিকে জয় করেছ; কারণ যিনি তোমাদের মধ্যে আছেন তিনি জগতের মধ্যে যে আছে তার থেকে মহান। তারা সকলে জগতের থেকেই আর সেইজন্য তারা যা বলে তা জাগতিক কথা এবং জগতের মানুষই ওদের কথা শোনে। আমরা ঈশ্বরের থেকেই; ঈশ্বরকে যে জানে সে আমাদের কথা শোনে। যে ঈশ্বর থেকে নয় সে আমাদের কথা শোনে না। এর মাধ্যমেই আমরা সত্যের আত্মাকে ও ভণ্ড আত্মাকে চিনতে পারি।
”কারণ অনেক প্রতারক জগতে বের হয়েছে; যারা যীশু খ্রীষ্ট যে দেহ রূপে এসেছেন সেটা স্বীকার করে না; এরাই হলো সেই প্রতারক ও খ্রীষ্টের শত্রু। নিজেদের বিষয়ে সাবধান হও; আমরা যা গঠন করেছি, তা যেন তোমরা না হারাও, কিন্তু যেন সম্পূর্ণ পুরষ্কার পাও। যে কেউ এগিয়ে চলে এবং খ্রীষ্টের শিক্ষাতে না থাকে, সে ঈশ্বরকে পায়নি; সেই শিক্ষাতে যে থাকে, সে পিতা ও পুত্র উভয়কে পেয়েছে। যদি কেউ সেই শিক্ষা না নিয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে তাকে বাড়িতে স্বাগত জানিও না এবং তাকে ‘অভিবাদন’ জানিও না। কারণ যে তাকে ‘অভিবাদন’ জানায়, সে তার সব মন্দ কাজের ভাগী হয়।
”আর আদম পর্যন্ত সাত পুরুষ যে হনোক, তিনিও এই লোকদের উদ্দেশ্যে এই ভাববাণী বলেছিলেন “দেখ, প্রভু নিজের দশ হাজার পবিত্র দূতদের সাথে আসলেন, যেন সবার বিচার করেন; আর ভক্তিহীন সবাই নিজেদের যে সব ভক্তিবিরুদ্ধ কাজের মাধ্যমে ভক্তিহীনতা দেখিয়েছে এবং ভক্তিহীন পাপীরা তাঁর বিরুদ্ধে যে সব কঠোর কথা বলেছে তার জন্য তাদেরকে যেন ভর্ত্সনা করেন।”
”যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশিত বাক্য হল ঈশ্বর তাঁকে দেখিয়েছিলেন যা কিছুদিনের মধ্যে ঘটবে। তিনি নিজের দূত পাঠিয়ে ঈশ্বরের দাস যোহনকে এই সব বিষয় জানিয়েছিলেন।
”দেখ, তিনি মেঘের সঙ্গে; প্রতিটি চোখ তাঁকে দেখবে, যারা তাঁকে বিদ্ধ করেছিল তারাও দেখবে। এবং পৃথিবীর সমস্ত জাতি তাঁর জন্য দুঃখ করবে। হ্যাঁ, আমেন।
”ধৈর্য্য ধরবার যে আদেশ আমি তোমাকে দিয়েছিলাম তা তুমি পালন করেছ, সেইজন্য এই পৃথিবীর লোকেদের ওপর যে পরীক্ষা আসছে সেই পরীক্ষা থেকে আমি তোমায় রক্ষা করব। আমি শীঘ্রই আসছি; তোমার যা আছে, তা শক্ত করে ধরে রাখ, যেন কেউ তোমার মুকুট চুরি না করে। আমার ঈশ্বরের স্বর্গ থেকে যে জয়ী হবে, তাকে আমি আমার ঈশ্বরের উপাসনালয়ের একটা থাম করব এবং সে আর কখনও এখান থেকে বাইরে যাবে না; এবং আমি তার উপরে আমার ঈশ্বরের নতুন নামও লিখব এবং আমার ঈশ্বরের শহরের নাম লিখব। নতুন যিরূশালেমই সেই শহর। স্বর্গের ভেতর থেকে আমার কাছ থেকে এই শহর নেমে আসবে।
”আমি তোমার সব কাজের কথা জানি, তুমি ঠান্ডাও না গরমও না, তুমি হয় ঠান্ডা, না হয় গরম হলে ভাল হত। সেইজন্য তুমি ঈষৎ গরম, না গরম, না ঠান্ডা, এই জন্য আমি নিজের মুখ থেকে তোমাকে বমি করে ফেলে দেব। তুমি বলছ, "আমি ধনী, আমার অনেক ধন সম্পত্তি আছে, আমার কিছুরই প্রয়োজন নেই"; কিন্তু তুমি তো জান না যে, তুমিই দুঃখী, দয়ার পাত্র, গরিব, অন্ধ ও উলঙ্গ। তাই আমি তোমাকে এই উপদেশ দিচ্ছি; তুমি আমার কাছ থেকে আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি সোনা কিনে নাও, যেন তুমি ধনী হও; আমার কাছ থেকে সাদা পোষাক কিনে পর, যেন তোমার উলঙ্গতার লজ্জা দেখা না যায়; আমার কাছ থেকে চোখে লাগানোর মলম কিনে নাও, যেন দেখতে পাও। আমি যাদের ভালবাসি তাদেরই দোষ দেখিয়ে দিই ও শাসন করি; সেইজন্য এই অবস্থা থেকে মন ফেরাতে উত্সাহী হও।
”এর পরে আমি স্বর্গের একটা দরজা খোলা দেখতে পেলাম। তুরীর আওয়াজের মত যাঁর গলার আওয়াজ আগে আমি শুনেছিলাম, তিনি আমাকে বললেন, "তুমি এখানে উঠে এস, এই সবের পরে যা কিছু অবশ্যই ঘটতে যাচ্ছে, তা আমি তোমাকে দেখাব।
”তারপর যিনি সেই সিংহাসনের ওপরে বসে ছিলেন তাঁর ডান হাতে আমি একটা বই দেখলাম, বইটার ভেতরে ও বাইরে লেখা ছিল এবং সাতটা মোহর দিয়ে সীলমোহর করা ছিল। আমি একজন শক্তিশালী স্বর্গদূতকে জোর গলায় বলতে শুনেছিলাম, "কে এই সীলমোহরগুলো ভেঙে বইটা খোলবার যোগ্য?" স্বর্গে বা পৃথিবীতে কিংবা পাতালেও কেউই সেই বইটা খুলতেও পারল না অথবা এটা পড়তেও পারল না। আমি খুব কাঁদতে লাগলাম, কারণ এমন কাউকে পাওয়া গেল না, যে ঐ বইটি খোলবার বা পড়বার যোগ্য। পরে নেতাদের মধ্যে একজন আমাকে বলেছিলেন, "কেঁদ না। যিহূদা বংশের সিংহ, অর্থাৎ দায়ূদের বংশধর জয়ী হয়েছেন। তিনিই ঐ সাতটা সীলমোহর ভেঙে বইটা খুলতে পারেন।" চারটি জীবন্ত প্রাণী এবং নেতাদের মাঝখানে যে সিংহাসনটি ছিল, তার ওপর আমি একটি মেষশিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। দেখে আমার মনে হচ্ছিল যেন মেষশিশুকে মেরে ফেলা হয়েছিল। ঐ মেষশিশুটির সাতটা শিং ও সাতটা চোখ ছিল। এইগুলো ঈশ্বরের সাতটি আত্মা যাদের পৃথিবীর সব জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। সেই মেষ শিশু এসে, যিনি ঐ সিংহাসনে বসে ছিলেন, তাঁর ডান হাত থেকে সেই বইটা নিলেন। বইটা নেবার পর, সেই চারটি জীবন্ত প্রাণী ও চব্বিশ জন নেতা মেষশিশুর সামনে উপুড় হলেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে একটা করে বীণা ও একটা করে ধূপে পূর্ণ সোনার বাটি ছিল, সেই ধূপে পূর্ণ বাটিগুলো হল ঈশ্বরের পবিত্র লোকেদের প্রার্থনা। তাঁরা একটা নতুন গান গাইছিলেন, "তুমিই ঐ বইটা নিয়ে তার সীলমোহরগুলো খোলবার যোগ্য। কারণ তোমাকে মেরে ফেলা হয়েছিল। তুমিই তোমার রক্ত দিয়ে সমস্ত জাতি, ভাষা, লোক ও জাতিকে কিনে নিয়েছ, ঈশ্বরের জন্য লোকদের কিনেছে, তুমি তাদের নিয়ে একটা রাজ্য গড়ে তুলেছে, এবং আমাদের ঈশ্বরের সেবা করবার জন্য যাজক করেছ। এবং পৃথিবীতে তারাই রাজত্ব করবে।"
”তারপর আমি চেয়ে দেখেছিলাম ও সেই সিংহাসনের, জীবন্ত প্রাণীদের ও নেতাদের চারদিকে অনেক স্বর্গদূতের গলার আওয়াজ শুনেছিলাম; তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি। তাঁরা জোরে চিত্কার করে বলেছিলেন, "যে মেষশিশুকে মেরে ফেলা হয়েছিল, তিনিই ক্ষমতা, ধন, জ্ঞান, শক্তি, সম্মান, গৌরব ও ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।" তারপর স্বর্গে, পৃথিবীতে ও পাতালে ও সমুদ্রের যত প্রাণী আছে এমনকি সেগুলোর ভেতরে আর যা কিছু আছে, সকলকে আমি এই কথা বলতে শুনলাম, "সিংহাসনের ওপরে তাঁর ও সেই মেষশিশুর যিনি বসে আছেন চিরকাল ধন্যবাদ, সম্মান, ক্ষমতা এবং গৌরব হোক।" সেই চারটি জীবন্ত প্রাণী বললেন, "আমেন।" এবং নেতারা ভূমির ওপর শুয়ে পড়ে উপাসনা করছিলেন। একখানি পুস্তকের সপ্ত মুদ্রা খোলবার দর্শন।
”সেই মেষ শিশু যখন ঐ সাতটা সীলমোহরের মধ্য থেকে একটা খুললেন তখন আমি দেখলাম এবং আমি সেই চারজন জীবন্ত প্রাণীর মধ্য থেকে এক জনকে মেঘ গর্জনের মত শব্দ করে বলতে শুনলাম, "এস।" আমি একটা সাদা ঘোড়া দেখতে পেলাম। যিনি তার ওপরে বসে ছিলেন তাঁর হাতে একটা ধনুক ছিল। তাঁকে একটা মুকুট দেওয়া হয়েছিল। তিনি জয়ীর মত বের হয়ে জয় করতে করতে চললেন।
”মেষ শিশু যখন দ্বিতীয় সীলমোহর খুললেন তখন আমি দ্বিতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম "এস।" তারপর আগুনের মত লাল অপর একটা ঘোড়া বের হয়ে এল। যিনি তার ওপরে বসে ছিলেন, তাঁকে পৃথিবী থেকে শান্তি তুলে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হল যাতে লোকে একে অপরকে মেরে ফেলে। তাঁকে একটা বড় তরোয়াল দেওয়া হয়েছিল।
”মেষ শিশু যখন তৃতীয় সীলমোহর খুললেন তখন আমি তৃতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, "এস!" আমি একটা কালো ঘোড়া দেখতে পেলাম। যিনি সেই ঘোড়াটার ওপরে বসেছিলেন তাঁর হাতে একটা দাঁড়িপাল্লা ছিল। আমি সেই চারজন জীবন্ত প্রাণীদের মাঝখানে কাউকে বলতে শুনলাম, এক সের গমের দাম এক সিকি, আর তিন সের যবের দাম এক সিকি, কিন্তু তুমি তেল ও আঙুর রস ক্ষতি করো না।
”যখন মেষ শিশু চতুর্থ সীলমোহর খুললেন তখন আমি চতুর্থ জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, "এস"। তারপর আমি একটা ফ্যাকাসে রং এর ঘোড়া দেখতে পেলাম। যিনি সেই ঘোড়ার ওপরে বসে ছিলেন তাঁর নাম মৃত্যু এবং নরক তার পেছনে পেছনে চলছিল। পৃথিবীর চার ভাগের এক ভাগের ওপরে তাদের ক্ষমতা দেওয়া হল, যেন তারা তরোয়াল দূর্ভিক্ষ, অসুখ ও পৃথিবীর বুনোপশু দিয়ে লোকদের মেরে ফেলে।
”যখন মেষ শিশু পঞ্চম সীলমোহর খুললেন, তখন আমি একটা বেদির নীচে এমন সব লোকের আত্মা দেখতে পেলাম, যাঁদের ঈশ্বরের বাক্যের জন্য এবং সাক্ষ্য দেবার জন্য মেরে ফেলা হয়েছিল। তাঁরা জোরে চিত্কার করে বলছিলেন, "পবিত্র ও সত্য প্রভু, যারা এই পৃথিবীর, তাদের বিচার করতে ও তাদের ওপর আমাদের রক্তের শোধ নিতে তুমি আর কত দেরী করবে?" তারপর তাঁদের প্রত্যেককে একটা করে সাদা পোষাক দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের বলা হয়েছিল যে, তাদের অনুসরণকারী দাসদের, তাদের ভাইদের ও বোনদের যাদের তাদেরই মত করে মেরে ফেলা হবে, তাদের সংখ্যা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন আরও কিছুকাল অপেক্ষা করেন।
”তারপর আমি দেখলাম, মেষ শিশু যখন ষষ্ঠ সীলমোহর খুললেন, তখন ভীষণ ভূমিকম্প হল। সূর্য্য একেবারে কম্বলের মত কালো হয়ে গেল এবং পুরো চাঁদটাই রক্তের মত লাল হয়ে উঠল। জোরে হাওয়া দিলে যেমন ডুমুরগাছ থেকে ডুমুর অসময়ে পড়ে যায়, তেমনি করে আকাশের তারাগুলো পৃথিবীর ওপর খসে পড়ল। গুটিয়ে রাখা বই এর মত আকাশ সরে গেল। প্রত্যেকটি পর্বত ও দ্বীপ নিজ নিজ জায়গা থেকে সরে গেল। পৃথিবীর সব রাজা ও প্রধানলোক, সেনাপতি, ধনী, শক্তিশালী লোক এবং প্রত্যেকটি দাস ও স্বাধীন লোক পাহাড়ের গুহায় এবং পর্বতের পাথরের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। তারা পর্বত ও পাথরগুলিকে বলল, "আমাদের ওপরে পড়! যিনি সেই সিংহাসনে বসে আছেন তাঁর মুখের সামনে থেকে এবং মেষশিশুর রাগ থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখ; কারণ তাঁদের রাগ প্রকাশের সেই মহান দিন এসে পড়েছে এবং কে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে?" ঈশ্বরের দাসদিগের সীলমোহর চিহ্ন ও স্বর্গীয় সুখের বর্ণনা।
”এর পরে আমি চারজন স্বর্গদূতকে পৃথিবীর চার কোনায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, তাঁরা পৃথিবীর চার কোণের বাতাস আটকে রাখছিলেন, যেন পৃথিবী, সমুদ্র অথবা কোন গাছের ওপরে বাতাস না বয়। পরে আমি অপর আর একজন স্বর্গদূতকে পূর্ব দিক থেকে উঠে আসতে দেখলাম, তাঁর কাছে জীবন্ত ঈশ্বরের সীলমোহর ছিল। যে চারজন স্বর্গদূতকে পৃথিবী ও সমুদ্রের ক্ষতি করবার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, সেই চারজন স্বর্গদূতকে তিনি খুব জোরে চিত্কার করে বললেন, "আমাদের ঈশ্বরের দাসদের কপালে সীলমোহর না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পৃথিবী, সমুদ্র অথবা গাছপালার ক্ষতি কোরো না।
”আমি সেই সীলমোহর চিহ্নিত লোকদের সংখ্যা শুনলাম: ইস্রায়েলের লোকদের সব বংশের ভেতর থেকে এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোককে সীলমোহর চিহ্নিত করা হয়েছিল: যিহূদা বংশের বারো হাজার লোককে সীলমোহর চিহ্নিত করা হয়েছিল, রূবেণ বংশের বারো হাজার লোককে, গাদ বংশের বারো হাজার লোককে, আশের বংশের বারো হাজার লোককে, নপ্তালি বংশের বারো হাজার লোককে, মনঃশি-বংশের বারো হাজার লোককে, শিমিয়োন বংশের বারো হাজার লোককে, লেবি-বংশের বারো হাজার লোককে, ইষাখর বংশের বারো হাজার লোককে, সবূলূন বংশের বারো হাজার লোককে, যোষেফ বংশের বারো হাজার লোককে এবং বিন্যামীন বংশের বারো হাজার লোক সীলমোহর চিহ্নিত হয়েছিল।
”এর পরে আমি সমস্ত জাতি, বংশ, দেশ ও ভাষার ভেতর থেকে এত লোকের ভিড় দেখলাম যে, তাদের সংখ্যা কেউ গুনতে পারল না তারা সিংহাসনের সামনে ও মেষশিশুর সামনে দাঁড়িয়েছিল। তারা সাদা পোষাক পরেছিল এবং তাদের হাতে খেঁজুর পাতার গোছা ছিল। এবং তারা জোরে চিৎকার করে বলছিল, "যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, আমাদের সেই ঈশ্বর এবং মেষশিশুর হাতেই পাপ থেকে মুক্তি।" স্বর্গ দূতেরা সবাই সেই সিংহাসনের চারদিকে দাঁড়িয়েছিল এবং নেতারা ও চারটি জীবন্ত প্রাণী ও চারদিকে দাঁড়িয়েছিল, তাঁরা সিংহাসনের সামনে উপুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে বললেন, "আমেন! প্রশংসা, গৌরব, জ্ঞান, ধন্যবাদ, সম্মান, ক্ষমতা ও শক্তি চিরকাল ধরে আমাদের ঈশ্বরেরই হোক। আমেন।" তারপর একজন নেতা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "সাদা কাপড় পরা এই লোকেরা কারা এবং কোথা থেকে তারা এসেছে? আমি তাঁকে বলেছিলাম, "মহাশয়, আপনিই জানেন," তিনি আমাকে বললেন, "সেই ভীষণ কষ্টের ভেতর থেকে যারা এসেছে, এরা তারাই। এরা এদের পোষাক মেষশিশুর রক্তে ধুয়ে সাদা করেছে। সেইজন্য তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে আছে এবং তারা দিনরাত তাঁর উপাসনা ঘরে তাঁর উপাসনা করে। যিনি সিংহাসনের ওপরে বসে আছেন তিনি এদের ওপরে নিজের তাঁবু খাটাবেন। তাদের আর খিদে পাবে না, পিপাসাও পাবে না। সূর্য্যের তাপ এদের গায়ে লাগবে না, গরমও লাগবে না। কারণ সিংহাসনের সেই মেষ শিশু যিনি সিংহাসনের মাঝখানে আছেন, তিনিই এদের রাখল হবেন এবং জীবন জলের ঝর্নার কাছে তিনি এদের নিয়ে যাবেন, আর ঈশ্বর তাদের চোখ থেকে চোখের জল মুছিয়ে দেবেন।”
”যখন মেষ শিশু সপ্তম সীলমোহর খুললেন, তখন স্বর্গে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে কোন শব্দ শোনা গেল না। যে সাতজন স্বর্গদূত ঈশ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আমি তাঁদের দেখতে পেলাম। তাঁদের হাতে সাতটা তূরী দেওয়া হল। অপর একজন স্বর্গদূত সোনার ধূপদানি নিয়ে বেদির সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁকে অনেক ধূপ দেওয়া হল, যেন তিনি তা সিংহাসনের সামনে সোনার বেদির উপরে সব পবিত্র লোকের প্রার্থনার সঙ্গে সেই ধূপ দান করেন। স্বর্গদূতের হাত থেকে ধূপের ধোঁয়া ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের প্রার্থনার সাথে উপরে ঈশ্বরের সামনে উঠে গেল। স্বর্গদূত বেদি থেকে আগুন নিয়ে সেই ধূপ দানিটা ভর্তি করে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন, তাতে মেঘ গর্জনের মত ভীষণ জোরে শব্দ হল, বিদ্যুৎ চমকাল ও ভূমিকম্প হল। সাতজন স্বর্গদূতের হাতে সাতটা তূরী ছিল তাঁরা সেই তূরী বাজাবার জন্য তৈরী হলেন।
”প্রথম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজাবার পর, শিল ও রক্ত মেশানো আগুন পৃথিবীতে ছোড়া হল, তাতে তিন ভাগের একভাগ পৃথিবী পুড়ে গেল, তিন ভাগের একভাগ গাছপালা পুড়ে গেল এবং সব সবুজ ঘাসও পুড়ে গেল।
”দ্বিতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন তাতে বড় জ্বলন্ত পাহাড় সমুদ্রের মাঝখানে ফেলা হল। তাতে সমুদ্রের তিন ভাগের একভাগ জল রক্ত হয়ে গিয়েছিল ও সমুদ্রের তিন ভাগের একভাগ জীবন্ত প্রাণী মারা গিয়েছিল এবং তিন ভাগের একভাগ জাহাজ ধ্বংস হয়েছিল।
”তৃতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন এবং একটা বড় তারা বাতির মত জ্বলতে জ্বলতে আকাশ থেকে, তিন ভাগের একভাগ নদী ও ঝর্ণার ওপরে পড়ল। সেই তারার নাম ছিল "নাগদানা।" তাতে তিন ভাগের একভাগ জল তেতো হয়ে গেল এবং সেই তেতো জলের জন্য অনেক লোক মারা গেল।
”চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, তাতে সূর্য্যের তিন ভাগের একভাগ, চাঁদের তিন ভাগের একভাগ ও তারাদের তিন ভাগের একভাগ আঘাত পেল, সেইজন্য তাদের প্রত্যেকের তিন ভাগের একভাগ অন্ধকার হয়ে গেল এবং দিনের তিন ভাগের একভাগ এবং রাতের তিন ভাগের এক ভাগে কোনো আলো থাকল না। আমি একটা ঈগল পাখিকে আকাশে অনেক উঁচুতে উড়তে দেখলাম, ঈগল পাখিকে জোরে চেঁচিয়ে বলতেও শুনলাম, "অপর যে তিনজন স্বর্গদূত তূরী বাজাতে যাচ্ছেন, তাঁদের তুরীর শব্দ হলে যারা এই পৃথিবীতে বাস করে তাদের বিপদ, বিপদ, বিপদ হবে।"
”তারপর পঞ্চম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর আমি একটা তারা দেখতে পেলাম। তারাটা আকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়েছিল। তারাটাকে অতল গর্তের চাবি দেওয়া হয়েছিল। তারাটা সেই অতল গর্তটা খুলল, আর বিরাট চুলা থেকে যেমন ধোঁয়া বের হয় ঠিক সেইভাবে সেই গর্তটা থেকে ধোঁয়া বের হতে লাগল। সেই গর্তের ধোঁয়ায় সূর্য্য ও আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল। পরে সেই ধোঁয়ার ভেতর থেকে অনেক পঙ্গপাল পৃথিবীতে বের হয়ে এল আর পঙ্গপাল গুলোকে পৃথিবীর কাঁকড়াবিছার মত ক্ষমতা দেওয়া হল। তাদের বলা হল তারা যেন পৃথিবীর কোনো ঘাস অথবা সবুজ কোন কিছু অথবা কোনো গাছের ক্ষতি না করে, যে লোকদের কপালে ঈশ্বরের সীলমোহর নেই কেবল সেই মানুষদের ক্ষতি করবে। ঐ সব লোকদের মেরে ফেলবার কোনো অনুমতি তাদের দেওয়া হল না, কিন্তু পাঁচ মাস ধরে কষ্ট দেবার অনুমতি তাদেরকে দেওয়া হল। কাঁকড়া বিছে যখন কোন মানুষকে হুল ফুটিয়ে দেয় তখন যেমন কষ্ট হয় তাদের দেওয়া কষ্টও সেই রকম। সেই সময় লোকে মৃত্যুর খোঁজ করবে কিন্তু কোন মতেই তা পাবে না। তারা মরতে চাইবে কিন্তু মৃত্যু তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। ঐ পঙ্গপালগুলো দেখতে যুদ্ধের জন্য তৈরী করা ঘোড়ার মত। তাদের মাথায় সোনার মুকুটের মত একরকম জিনিস ছিল এবং তাদের মুখের চেহারা ছিল মানুষের মত। তাদের চুল ছিল মেয়েদের চুলের মত এবং তাদের দাঁত ছিল সিংহের দাঁতের মত। তাদের বুকে লোহার বুক রক্ষার পোষাকের মত পোষাক ছিল এবং অনেকগুলো ঘোড়া একসঙ্গে যুদ্ধের রথ টেনে নিয়ে ছুটে গেলে যেমন আওয়াজ হয় তাদের ডানার আওয়াজ ঠিক সেই রকমই ছিল। তাদের লেজ ও হুল কাঁকড়াবিছার লেজ ও হুলের মত ছিল; তাদের লেজে এমন ক্ষমতা ছিল যা দিয়ে পাঁচ মাস ধরে তারা লোকেদের ক্ষতি করতে পারত। অতল গর্তের দূতই ছিল ঐ পঙ্গপালদের রাজা। ইব্রীয় ভাষায় সেই দূতের নাম ছিল "আবদ্দোন," ও গ্রীক ভাষায় তার নাম ছিল "আপল্লুয়োন" [বিনাশক]। প্রথম বিপদ শেষ হল; দেখ! এর পরে আরও দুটি বিপদ আসছে।
”ষষ্ঠ স্বর্গদূত তূরী বাজালে এবং আমি স্বর্গের ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে যে সোনার বেদি আছে সেখান থেকে শিঙায় এক জনের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। যাঁর কাছে তূরী ছিল সেই ষষ্ঠ স্বর্গদূতকে বললেন," যে চারজন দূত মহা নদী ইউফ্রেটীসের কাছে বাঁধা আছে, তাদের ছেড়ে দাও।" সেই চারজন দূতকে ছেড়ে দেওয়া হল। ঐ বছরের, ঐ মাসের, ঐ দিনের এবং ঐ ঘন্টার জন্য সেই দূতদের তৈরী রাখা হয়েছিল, যেন তারা তিন ভাগের একভাগ মানুষকে মেরে ফেলে। আমি শুনতে পেয়েছিলাম, ঐ ঘোড়ায় চড়া সৈন্যের সংখ্যা ছিল কুড়ি কোটি। দর্শনে আমি যে ঘোড়াগুলো দেখলাম এবং যারা তাদের ওপর চড়েছিল: তাদের চেহারা এই রকম ছিল তাদের বুক রক্ষার পোষাক ছিল আগুনের মত লাল, ঘননীল ও গন্ধকের মত হলুদ রঙের। ঘোড়াগুলোর মাথা ছিল সিংহের মাথার মত এবং তাদের মুখ থেকে আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধক বের হচ্ছিল। তাদের মুখ থেকে যে আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধক বের হচ্ছিল সেই তিনটি জিনিসের আঘাতে তিন ভাগের একভাগ মানুষকে মেরে ফেলা হল। সেই ঘোড়াগুলোর মুখ ও লেজের মধ্যেই তাদের ক্ষমতা ছিল কারণ তাদের লেজগুলো ছিল সাপের মত এবং সেই লেজগুলোর মাথা দিয়ে তারা মানুষের ক্ষতি করছিল। এই সব আঘাতের পরেও যে সব মানুষ বেঁচে রইল, তারা নিজের হাতে তৈরী মূর্তিগুলো থেকে মন ফেরালো না, ভূতদের এবং যারা দেখতে, শুনতে অথবা হাঁটতে পারে না, সেই সব সোনা, রূপা, পিতল, পাথর ও কাঠ দিয়ে তৈরী মূর্তিগুলোকে পূজা করতেই থাকল। এছাড়া খুন, যাদুবিদ্যা, ব্যভিচার ও চুরি এসব থেকেও তারা মন ফেরালো না।
”তারপরে আমি আর একজন শক্তিশালী স্বর্গদূতকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর পোষাক ছিল মেঘ এবং তাঁর মাথার উপরে ছিল মেঘধনুক। তাঁর মুখ সূর্য্যের মত এবং তাঁর পা ছিল আগুনের থামের মত। তাঁর হাতে একটা খোলা ছোট বই ছিল। তিনি তাঁর ডান পা সমুদ্রের ওপরে ও বাঁ পা ভূমির ওপরে রেখেছিলেন। তারপর তিনি সিংহের গর্জ্জনের মত জোরে চিৎকার করলেন, যখন তিনি জোরে চিৎকার করলেন তখন সাতটা বাজ পড়ার মত আওয়াজ হল। যখন সাতটা বাজ পড়বার আওয়াজ মত হল, তখন আমি লেখার জন্য তৈরী হলাম। কিন্তু স্বর্গ থেকে আমাকে এই কথা বলা হয়েছিল," ঐ সাতটা বাজ যে কথা বলল তা গোপন রাখ, লেখ না।" তারপর স্বর্গদূতকে আমি সমুদ্র ও ভূমির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম তিনি স্বর্গের দিকে তাঁর ডান হাত তুললেন। যিনি চিরকাল ধরে জীবিত আছেন এবং আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র ও সেগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁর নামে শপথ করে সেই স্বর্গদূত বললেন, "আর দেরী হবে না। কিন্তু সপ্তম স্বর্গদূতের তূরী বাজাবার দিনে ঈশ্বরের গোপন উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ হবে। ঈশ্বর তাঁর নিজের দাসদের কাছে অর্থাৎ ভাববাদীদের কাছে যে সুসমাচার জানিয়েছিলেন ঠিক সেই মতই এটা হবে।"
”আমি স্বর্গ থেকে যাকে কথা বলতে শুনেছিলাম তিনি আবার আমাকে বললেন, "যে স্বর্গদূত সমুদ্র ও ভূমির ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাত থেকে সেই খোলা বইটা নাও।" তারপর আমি সেই স্বর্গদূতের কাছে গিয়ে সেই ছোট বইটা আমাকে দিতে বললাম। তিনি আমাকে বললেন, "এটা নিয়ে খেয়ে ফেল। তোমার পেটকে এটা তেতো করে তুলবে কিন্তু তোমার মুখে মধুর মত মিষ্টি লাগবে।" তখন আমি স্বর্গদূতের হাত থেকে সেই ছোট বইটা নিয়ে খেয়ে ফেললাম। আমার মুখে তা মধুর মত মিষ্টি লাগলো কিন্তু খেয়ে ফেলার পর আমার পেট তেতো হয়ে গেল। তারপর আমাকে এই কথা বললেন, "তোমাকে আবার অনেক দেশ, জাতি, ভাষা ও রাজার বিষয়ে ভবিষ্যতের কথা বলতে হবে।"
”মাপকাঠির মত একটা নলের কাঠি আমাকে দেওয়া হল। আমাকে বলা হলো, "ওঠ এবং ঈশ্বরের উপাসনা ঘর ও বেদি মাপ কর এবং কত জন সেখানে উপাসনা করে তাদের গোন। কিন্তু উপাসনা ঘরের বাইরে যে উঠোন আছে সেটা বাদ দিয়ে মাপ কর, কারণ ওটা অইহূদিদের দেওয়া হয়েছে। তারা বিয়াল্লিশ মাস ধরে পবিত্র শহরটাকে পা দিয়ে মাড়াবে। আমি আমার দুই জন সাক্ষীকে এমন ক্ষমতা দেব তাঁরা চটের কাপড় পরে এক হাজার দুশো ষাট দিন ধরে ভবিষ্যতের কথা বলবেন।" সেই দুই জন সাক্ষী সেই দুইটি জলপাই গাছ এবং দুইটি বাতিস্তম্ভ যাঁরা পৃথিবীর প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ যদি তাঁদের ক্ষতি করতে চায়, তবে তাঁদের মুখ থেকে আগুন বের হয়ে সেই শত্রুদের পুড়িয়ে ফেলবে। যে কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে চাইবে তাকে এইভাবে মরতে হবে। এই লোকেরা যতদিন ভাববাদী হিসাবে কথা বলবেন ততদিন যেন বৃষ্টি না হয় সেইজন্য আকাশ বন্ধ করে দেবার ক্ষমতা তাঁদের থাকবে। জলকে রক্ত করবার এবং যতবার ইচ্ছা তত বার যে কোনো আঘাত দিয়ে পৃথিবীর ক্ষতি করবার ক্ষমতাও তাঁদের থাকবে।
”তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে, সেই গভীর এবং অতল গর্ত থেকে একটা পশু উঠে এসে তাঁদের সাথে যুদ্ধ করবে। পশুটি জয়লাভ করে তাঁদের মেরে ফেলবে। সেই মহাশহরের রাস্তায় তাঁদের মৃতদেহ পড়ে থাকবে। যে শহরকে আত্মিক ভাবে সদোম ও মিশর বলে, তাঁদের প্রভুকে যে শহরে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল। তখন সমস্ত জাতি, বংশ, ভাষা ও জাতির ভেতর থেকে লোকেরা সাড়ে তিনদিন ধরে তাঁদের মৃতদেহগুলো দেখবে, তারা তাঁদের দেহগুলো কবরে দেবার অনুমতি দেবে না। যারা এই পৃথিবীতে বাস করে তারা খুশি হবে এবং আনন্দ করবে, লোকেরা একে অপরের কাছে উপহার পাঠাবে, কারণ যারা এই পৃথিবীর, তারা এই দুই জন ভাববাদীর জন্য কষ্ট পেয়েছিল।
”কিন্তু সাড়ে তিনদিন পরে ঈশ্বরের দেওয়া নিঃশ্বাস তাঁদের ভেতরে ঢুকল এবং এতে তাঁরা পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন, তখন যারা তাঁদের দেখল, তারা খুব ভয় পেল। পরে তাঁরা স্বর্গ থেকে কাউকে জোরে চিত্কার করে এই কথা বলতে শুনলেন "এখানে উঠে এস!" এবং তাঁরা তাঁদের শত্রুদের চোখের সামনেই একটা মেঘে করে স্বর্গে উঠে গেলেন। সেই সময় ভীষণ ভূমিকম্প হল এবং সেই শহরের দশ ভাগের একভাগ ভেঙে পড়ে গেল। সেই ভূমিকম্পে সাত হাজার লোক মারা গেল এবং বাকি সবাই ভয় পেয়ে স্বর্গের ঈশ্বরের গৌরব করতে লাগল। এইভাবে দ্বিতীয় বিপদ কাটল। দেখ, তৃতীয় বিপদ তাড়াতাড়ি আসছে।
”পরে সপ্তম দূত তূরী বাজালেন, তখন স্বর্গে জোরে জোরে বলা হল, "জগতের রাজ্য এখন আমাদের প্রভুর ও তাঁর খ্রীষ্টের হয়েছে। তিনি চিরকাল ধরে রাজত্ব করবেন।" তারপর যে চব্বিশ জন নেতা ঈশ্বরের সামনে তাঁদের সিংহাসনের ওপর বসে ছিলেন তাঁরা উপুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে বললেন, সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, তুমি আছ এবং তুমি ছিলে। আমরা তোমাকে ধন্যবাদ দিই কারণ তুমি তোমার ভীষণ ক্ষমতা নিয়ে রাজত্ব করতে শুরু করেছ। সব জাতি রাগ করেছে, কিন্তু তোমার রাগ দেখানোর সময় হল। মৃত লোকদের বিচার করবার সময় এসেছে, তোমার দাসদের অর্থাৎ ভাববাদীদের ও তোমার পবিত্র লোকদের এবং ছোট বড় সবাই যারা তোমায় নামে ভক্তি করে, তাদের উপহার দেবার সময় এসেছে। এছাড়া যারা পৃথিবীর ক্ষতি করেছে, তাদের ধ্বংস কারবার সময়ও এসেছে। তারপর স্বর্গে ঈশ্বরের উপাসনা ঘরের দরজা খোলা হল এবং তাঁর উপাসনালয়ের ভেতরে তাঁর নিয়মের বাক্সটা দেখা গেল। তখন বিদ্যুৎ চমকাতে ও ভীষণ আওয়াজ করে বাজ পড়তে লাগল, ভূমিকম্প ও ভীষণ শিলাবৃষ্টি হতে লাগলো।
”আর স্বর্গে এক মহান চিহ্ন দেখা গেল, একজন মহিলা ছিলেন, সূর্য্য তার বস্ত্র ও চাঁদ তার পায়ের নীচে এবং তার মাথার ওপরে বারোটি তারা দিয়ে গাঁথা এক মুকুট ছিল। তিনি সন্তানসম্ভবা এবং প্রসব বেদনায় চিত্কার করছিলেন সন্তান প্রসবের জন্য নিদারুন শারীরিক যন্ত্রণা পাচ্ছিলেন। আর স্বর্গে আর এক চিহ্ন দেখা গেল, দেখ! লাল রঙের এক বিরাটাকার সাপ যার সাতটি মাথা ও দশটি শিং এবং সাতটি মাথায় সাতটি মুকুট ছিল, আর তার লেজ দিয়ে আকাশের এক তৃতীয়াংশ তারা টেনে এনে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলল। যে মহিলা সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছিল, সেই বিরাটাকার সাপ তার সামনে দাঁড়াল, যেন সে প্রসব করার পরই তার সন্তানকে গিলে খেয়ে নিতে পারে। পরে সেই মহিলা “এক পুত্র সন্তানকে জন্ম দিলেন; যিনি লৌহদন্ড দিয়ে সব জাতিকে শাসন করবেন।” সেই সন্তানকে ঈশ্বরও তাঁর সিংহাসনের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। আর সেই মহিলা নির্জন জায়গায় পালিয়ে গেল; যেখানে এক হাজার দুশো ষাট দিন পর্যন্ত প্রতিপালিতা হবার জন্য ঈশ্বরের তৈরী তার জন্য একটি জায়গা আছে।
”আর স্বর্গে যুদ্ধ হল; মীখায়েল ও তাঁর দূতেরা ঐ বিরাটাকার সাপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন। তাতে সেই বিরাটাকার সাপ ও তার দূতেরাও যুদ্ধ করল, কিন্তু বিরাটাকার সাপটি জয়ী হবার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, সুতরাং স্বর্গে তাদের আর থাকতে দেওয়া হল না। আর সেই বিরাটাকার সাপ ও তার দূতকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল; এ সেই পুরাতন বিরাটাকার সাপ যাকে দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলে, সে পৃথিবীর সব লোককে ভুল পথে নিয়ে যায়। তখন আমি স্বর্গে উচ্চ রব শুনলাম, ‘এখন পরিত্রাণ ও শক্তি ও আমাদের ঈশ্বরের রাজ্য এবং তাঁর খ্রীষ্টের কর্তৃত্ব এসে গেছে; কারণ যে আমাদের ভাইদের ওপর দোষ দিত, যে দিয়াবল দিনরাত আমাদের ঈশ্বরের সামনে তাদের নামে দোষ দিত, তাকে উপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর মেষ বাচ্চার রক্ত দিয়ে এবং নিজ নিজ সাক্ষ্যের দ্বারা, তারা তাকে জয় করেছে; আর তারা মৃত্যু পর্যন্ত নিজের নিজের প্রাণকে খুব বেশি ভালবাসেনি। অতএব, হে স্বর্গ ও স্বর্গে যারা বাস কর, আনন্দ কর; কিন্তু পৃথিবী ও সমুদ্রের বিপর্যয় হবে; কারণ শয়তান তোমাদের কাছে নেমে এসেছে; সে খুব রেগে আছে কারণ সে জানে তার সময় আর বেশি নেই’।
”পরে যখন ঐ বিরাটাকার সাপ বুঝলো তাকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে, তখন, যে মহিলার পুত্রসন্তান হয়েছিল, সে সেই মহিলাকে তাড়না করতে লাগল। তখন সেই মহিলাকে খুব বড় ঈগল পাখির দুটি ডানা দেওয়া হল, যেন সে মরূপ্রান্তে, নিজ জায়গায় উড়ে যেতে পারে, যেখানে ঐ বিরাটাকার সাপের চোখের আড়ালে সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত সে প্রতিপালিত হয়। সেই সাপ নিজের মুখ থেকে জল বের করে একটা নদীর সৃষ্টি করে ফেলল যেন মহিলাকে পিছন থেকে নদীর জলে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আর পৃথিবী সেই মহিলাকে সাহায্য করল, পৃথিবী নিজের মুখ খুলে বিরাটাকার সাপের মুখ থেকে জল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে ফেলল। আর সেই মহিলার ওপর বিরাটাকার সাপটি খুব রেগে গেল এবং সেই মহিলার বংশের বাকি লোকদের সঙ্গে, যারা ঈশ্বরের আদেশ মেনে চলে ও যীশুর সাক্ষ্য ধরে রাখে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল। তখন সেই বিরাটাকার সাপটি সমুদ্রের বালুকাময় কিনারে দাঁড়াল।
”আর আমি দেখলাম, “সমুদ্রের মধ্য থেকে একটি জন্তু উঠে আসছে; তার দশটি সিং” ও সাতটি মাথা; তার সিং গুলিতে দশটি মুকুট ছিল এবং তার মাথাগুলির ওপর ঈশ্বরনিন্দার জন্য বিভিন্ন নাম লেখা ছিল। যে পশুকে আমি দেখলাম সেটি ছিল চিতাবাঘের মত, তার পাগুলি ভল্লুকের পায়ের মত এবং মুখটি সিংহের মত ছিল; সেই বিরাটাকার সাপটি তার নিজের শক্তি, নিজের সিংহাসন এবং বিশেষ ক্ষমতা তাকে দান করল। পরে দেখলাম, জন্তুটির সব মাথার মধ্যে একটা মাথায় এমন ক্ষত ছিল যার ফলে মৃত্যু অনিবার্য ছিল, কিন্তু তার সেই ক্ষত সেরে গিয়েছিল; আর পৃথিবীর সব লোক আশ্চর্য্য হয়ে সেই জন্তুটার পেছন পেছন চলল। আর তারা বিরাটাকার সাপকে পূজো করল, কারণ সাপটি সেই জন্তুকে নিজের বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছিল; তারা সেই জন্তুকেও পূজো করলো আর বলতে লাগলো, এই জন্তুর মত কে আছে? এবং এর সঙ্গে কে যুদ্ধ করতে পারবে? জন্তুটিকে এমন একটি মুখ দেওয়া হলো, যেটা গর্বের কথা ও ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে এবং তাকে বিয়াল্লিশ মাস দেওয়া হলো যেন বিশেষ অধিকার সহ রাজত্ব করতে পারে। সুতরাং জন্তুটি ঈশ্বরের নিন্দা করতে মুখ খুলল, তাঁর নামের ও তাঁর বাসস্থানের এবং স্বর্গে যারা বাস করে সবাইকে নিন্দা করতে লাগল।
”ঈশ্বরের পবিত্র লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার ও তাদেরকে জয় করার ক্ষমতা জন্তুটিকে দেওয়া হল; এবং তাকে সমস্ত জাতির লোকদের, ভাষার ও দেশের ওপরে বিশেষ কর্তৃত্ব দেওয়া হলো। পৃথিবীতে বাস করে সব লোক যাদের নাম জগত সৃষ্টির শুরু থেকে মেষশিশুর জীবন বইতে লেখা নেই, তারা তাকে পূজো করবে। এই মেষশিশুকে জগত সৃষ্টির আগেই মেরে ফেলার জন্য ঠিক করা হয়েছিল। যার আছে, সে শুনুক। যদি কেউ যুদ্ধবন্দি হবার হয়, সে বন্দি হবে; যদি কেউ তরোয়ালের আঘাতে খুন হবার আছে, তাকে তরোয়াল দিয়ে খুন করা হবে। এ জন্য ঈশ্বরের পবিত্র মানুষের ধৈর্য্য ও বিশ্বাস দরকার।
”তারপরে আমি আর একটা জন্তুকে ভূমি থেকে উঠে আসতে দেখলাম। মেষশিশুর মত তার দুটি সিং ছিল এবং সে সেই বিরাটাকার সাপের মত কথা বলত। সে ঐ প্রথম জন্তুর সব কর্তৃত্ব তার উপস্থিতিতে ব্যবহার করতে লাগলো; এবং যে প্রথম জন্তুটির মৃত্যুজনক ক্ষত ভালো হয়ে গিয়েছিল, পৃথিবীকে ও পৃথিবীতে বাস করে এমন সবাইকে তাকে ঈশ্বর বলে পূজো করালো। সে বড় বড় আশ্চর্য্য কাজ করলো; এমনকি মানুষের চোখের সামনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আগুন নামিয়ে আনলো। এইভাবে সেই প্রথম জন্তুর হয়ে যে সব আশ্চর্য্য কাজ করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে সে পৃথিবীতে বাস করে মানুষদের ভুল পথে পরিচালনা করে; সে পৃথিবীর মানুষদেরকে বলে, ‘যে জন্তুটি খড়্গ দিয়ে আহত হয়েও বেঁচে ছিল, তার একটি মূর্তি তৈরী কর।’ আর তাকে ওই মূর্তিকে নিঃশ্বাস দিতে পারে এমন ক্ষমতা দেওয়া হলো, যাতে ঐ জন্তুর মূর্তিটি কথা বলতে পারে এবং যত লোক সেই জন্তুর মূর্তিটি পূজো না করবে, তাদের মেরে ফেলতে পারে।
”আর সেই দ্বিতীয় জন্তু, ছোট ও বড়, ধনী ও গরিব, স্বাধীন ও দাস, সবাইকেই ডান হাতে অথবা কপালে চিহ্ন লাগাতে বাধ্য করে; ঐ জন্তুর চিহ্ন অর্থাৎ নাম বা নামের সংখ্যা যে কেউ না লাগায়, তারা কোনকিছু কিনতে বা বিক্রি করতে পারবে না। এসব বুঝতে প্রজ্ঞা দরকার। যার অন্তর্দৃষ্টি আছে সে ঐ জন্তুর সংখ্যা হিসাব করুক; কারণ এটা মানুষের সংখ্যা। সেই সংখ্যা হলো ছয়শো ছেষট্টি।
”পরে আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার সামনে সেই মেষ শিশু সিয়োন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর সঙ্গে এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোক ছিল, তাদের কপালে তাঁর নাম ও তাঁর বাবার নাম লেখা আছে। পরে আমি স্বর্গ থেকে বয়ে যাওয়া অনেক জলের স্রোতের মত শব্দ এবং বাজ পড়া শব্দের মত আওয়াজ শুনতে পেলাম; যে শব্দ শুনলাম, তাতে মনে হলো যে বীণা বাদকরা নিজে নিজেদের বীণা বাজাচ্ছে; আর তারা সিংহাসনের সামনে ও সেই চার প্রাণীর ও নেতাদের সামনে নতুন একটি গান করলো; পৃথিবী থেকে কিনে নেওয়া সেই এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোক ছাড়া আর কেউ সেই গান শিখতে পারল না। এরা স্ত্রীলোকদের সঙ্গে ব্যভিচার করে নিজেদের অশুচি করে নি, কারণ এরা নিজেরা ব্যভিচার থেকে সূচী রেখেছেন। যে কোন জায়গায় মেষ শিশু যান, সেই জায়গায় এরা তাঁর সঙ্গে যান। এরা ঈশ্বরের ও মেষশিশুর জন্য প্রথম ফল বলে মানুষের মধ্য থেকে কিনে নেওয়া হয়েছে। আর তাদের মুখে কোন মিথ্যা কথা পাওয়া যায়নি; তাদের কোনো দোষ ছিল না।
”আমি আর এক দূতকে আকাশের অনেক উঁচুঁতে উড়তে দেখলাম, তাঁর কাছে পৃথিবীতে বাস করে সমস্ত জাতি, বংশ, ভাষা এবং প্রজাদের কাছে প্রচারের জন্য চিরকালের স্থায়ী সুসমাচার আছে; তিনি চীৎকার করে বলছেন, ঈশ্বরকে ভয় কর এবং তাঁকে গৌরব কর। কারণ তাঁর বিচার করার সময় এসে গেছে; যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং জলের উত্স এই সব সৃষ্টি করেছেন তাঁর পূজো কর। পরে তাঁর পেছনে দ্বিতীয় একজন স্বর্গদূত আসলেন, তিনি বললেন, সেই মহান ব্যাবিলন যে সব জাতিকে নিজের ব্যাভিচারের মদ খাইয়েছে, সেটা ধ্বংস হয়ে গেল।
”পরে তৃতীয় এক দূত আগের দূতদের পরেই আসলেন, তিনি চিৎকারে করে বললেন, যদি কেউ সেই জন্তু ও তার প্রতিমূর্ত্তির পূজো করে এবং নিজের কপালে কি হাতে চিহ্ন নিয়ে থাকে, তবে তাকেও ঈশ্বরের সেই ক্রোধের মদ খেতে হবে, তাঁর রাগের পানপাত্রে জল না মিশিয়ে ক্রোধের মদ ঢেলে দেওয়া হয়েছে; যে এই মদ খাবে, পবিত্র দূতদের এবং মেষশিশুর সামনে “আগুনও গন্ধকের দ্বারা সেই লোককে যন্ত্রণা দেওয়া হবে। যে আগুন এই লোকদের যন্ত্রণা দেবে সেই আগুনের ধোঁয়া চিরকাল জ্বলতে থাকবে; যারা সেই জন্তুর ও তার মূর্তির পূজা করে এবং যে কেউ তার নামের চিহ্ন ব্যবহার করে, তারা দিনে কি রাতে কখনও বিশ্রাম পাবে না। এখানে পবিত্র লোক যারা ঈশ্বরের আদেশ ও যীশুর প্রতি বিশ্বাস মেনে চলে তাদের ধৈর্য্য দেখা যায়।
”পরে আমি স্বর্গ থেকে এক জনকে বলতে শুনলাম, তুমি লেখ, ধন্য সেই মৃতেরা যারা এ পর্যন্ত প্রভুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মরেছে, হ্যাঁ, আত্মা বলছেন, তারা নিজে নিজের পরিশ্রম থেকে বিশ্রাম পাবে; কারণ তাদের কাজগুলি তাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবে।
”আর আমি তাকিয়ে দেখতে পেলাম সেখানে একটি সাদা মেঘ ছিল এবং সেই মেঘের উপরে মানবপুত্রের মত একজন লোক বসে ছিলেন, তাঁর মাথায় একটি সোনার মুকুট এবং তাঁর হাতে একটি ধারালো কাস্তে ছিল। পরে উপাসনা ঘর থেকে আর এক দূত বের হয়ে যিনি মেঘের ওপরে বসে ছিলেন, তাঁকে জোরে চীৎকার করে বললেন, “আপনার কাস্তে নিন এবং শস্য কাটতে শুরু করুন; কারণ শস্য কাটার সময় হয়েছে;” কারণ পৃথিবীর শস্য পেকে গেছে। তখন যিনি মেঘের ওপরে বসে ছিলেন তিনি নিজের কাস্তে পৃথিবীতে লাগালেন এবং পৃথিবীর শস্য কেটে নিলেন।
”আর এক দূত স্বর্গের উপাসনা ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন; তাঁরও হাতে একটি ধারালো কাস্তে ছিল। আবার বেদির কাছ থেকে আর এক দূত বের হয়ে আসলেন, তাঁর আগুনের উপরে ক্ষমতা ছিল, তিনি ঐ ধারালো কাস্তে হাতে দূতকে জোরে চীৎকার করে বললেন, তোমার ধারালো কাস্তে নাও, পৃথিবীর আঙ্গুর গাছ থেকে আঙ্গুর সংগ্রহ কর, কারণ আঙ্গুর ফল পেকে গেছে। তখন ঐ দূত পৃথিবীতে নিজের কাস্তে লাগিয়ে পৃথিবীর আঙ্গুর গাছগুলি কেটে নিলেন, আর ঈশ্বরের ক্রোধের গর্তে আঙ্গুর মাড়াই করার জন্য ফেললেন। শহরের বাইরে একটি গর্তে তা মাড়াই করা হলো, তাতে গর্ত থেকে রক্ত বের হলো যা ঘোড়াগুলির লাগাম পর্যন্ত উঠল, এতে এক হাজার ছয় শত তীর রক্তে ডুবে গেল।
”পরে আমি স্বর্গে আর একটি মহান এবং আশ্চর্য্য চিহ্ন দেখলাম; সাতজন স্বর্গদূত তাদের হাতে সাতটি আঘাত (ঈশ্বর প্রদত্ত সন্তাপ) নিয়ে আসতে দেখলাম; যেগুলো হলো শেষ আঘাত, কারণ সেগুলো দিয়ে ঈশ্বরের ক্রোধ শেষ হবে।
”আমি একটি আগুন মেশানো কাচের সমুদ্র দেখতে পেলাম; এবং যারা সেই জন্তু এবং তার প্রতিমূর্ত্তি ও তার নামের সংখ্যার ওপরে জয়লাভ করেছে তারা ঐ কাচের সমুদ্রের কিনারায় ঈশ্বরের দেওয়া বীণা হাতে করে দাঁড়িয়ে আছে। আর তারা ঈশ্বরের দাস মোশির গীত ও মেষশিশুর এই গীত গাইছিল, “মহান ও আশ্চর্য্য তোমার সব কাজ, হে প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান; ন্যায্য ও সত্য হলো তোমার সব পথ, হে জাতিগণের রাজা! হে প্রভু, কে না তোমাকে ভয় করবে? এবং তোমার নামের গৌরব কে না করবে? কারণ তুমিই একমাত্র পবিত্র, সমস্ত জাতি আসবে, এবং তোমার সামনে উপাসনা করবে, কারণ তোমার ধর্ম্মকার্য সব প্রকাশ হয়েছে।”
”আর তারপরে আমি দেখলাম, স্বর্গে সেই উপাসনা ঘরটা সাক্ষ্য তাঁবুটা খোলা হল; তারপর সেই সাতজন স্বর্গদূত সাতটি আঘাত নিয়ে ওই উপাসনা ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন, তাঁদের পরনে ছিল পরিষ্কার ও উজ্জ্বল ঝক ঝকে বস্ত্র এবং তাঁদের বুকে সোনার বেল্ট ছিল। পরে চারটি প্রাণীর মধ্যে একটি প্রাণী সেই সাতটি স্বর্গদূতকে সাতটি সোনার বাটি দিলেন, সেগুলি যুগে যুগে জীবিত ঈশ্বরের ক্রোধে পূর্ণ ছিল। তাতে ঈশ্বরের প্রতাপ থেকে ও তাঁর শক্তি থেকে যে ধোঁয়া বের হচ্ছিল সেই ধোঁয়ায় পবিত্র উপাসনা ঘরটা ভরে গেল; আর সেই সাতটি স্বর্গদূতের সাতটি আঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ উপাসনা ঘরে ঢুকতে পারল না।
”আমি উপাসনা ঘর থেকে এক চীৎকার শুনতে পেলাম, একজন জোরে সেই সাতটি স্বর্গদূতকে বলছেন, তোমরা যাও এবং ঈশ্বরের ক্রোধের ঐ সাতটি বাটি পৃথিবীতে ঢেলে দাও।
”তখন প্রথম দূত গিয়ে পৃথিবীর উপরে নিজের বাটি ঢেলে দিলেন, ফলে সেই জন্তুটার চিহ্ন যাদের গায়ে ছিল এবং তার মূর্তির পূজো করত মানুষদের গায়ে খুব খারাপ ও বিষাক্ত ঘা দেখা দিল।
”পরে দ্বিতীয় দূত সমুদ্রের ওপরে নিজের বাটি ঢেলে দিলেন, তাতে সেটি মরা লোকের রক্তের মত হলো এবং সমুদ্রের সব জীবিত প্রাণী মরে গেল।
”তৃতীয় দূত গিয়ে নদনদী ও জলের ফোয়ারার ওপরে নিজের বাটি ঢাললেন, ফলে সেগুলো রক্তের নদী ও ফোয়ারা হয়ে গেল। জলের উপর যে স্বর্গদূতের ক্ষমতা ছিল তাকে আমি বলতে শুনলাম, হে পবিত্র, তুমি আছ ও তুমি ছিলে, তুমি ন্যায়বান, কারণ তুমি এই রকম বিচার করছ; কারণ তারা ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের ও ভাববাদীদের খুন করেছে; তুমি তাদেরকে পান করার জন্য রক্ত দিয়েছ; এটাই তাদের জন্য উপযুক্ত। পরে আমি বেদি থেকে উত্তর দিতে শুনলাম, হ্যাঁ, প্রভু সর্বশক্তিমান, সবার শাসনকর্তা, তোমার বিচারগুলি সত্য ও ন্যায়বান।
”চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর নিজের বাটি সুর্য্যের ওপরে ঢেলে দিলেন এবং আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারার অনুমতি তাকে দেওয়া হল। ভীষণ তাপে মানুষের গা পুড়ে গেল এবং এই সব আঘাতের উপরে যাঁর ক্ষমতা আছে, সেই ঈশ্বরের নামের নিন্দা করতে লাগলো; তাঁকে গৌরব করার জন্য তারা মন ফেরাল না।
”পরে পঞ্চম স্বর্গদূত সেই জন্তুর সিংহাসনের উপরে নিজের বাটি ঢেলে দিলেন; তাতে শয়তানের রাজ্য অন্ধকারে ঢেকে গেল এবং মানুষেরা যন্ত্রণায় তাদের নিজ নিজ জিভ কামড়াতে লাগলো। তাদের যন্ত্রণা ও ঘায়ের জন্য তারা স্বর্গের ঈশ্বরের নিন্দা করতে লাগলো, তবুও তারা নিজেদের মন্দ কাজ থেকে মন ফেরালো না।
”ষষ্ঠ স্বর্গদূত ইউফ্রেটীস মহানদীর উপর নিজের বাটি উপুড় করে ঢেলে দিলেন এবং এই নদীর জল শুকিয়ে গেল, যেন পূর্ব দিক থেকে রাজাদের আসার জন্য রাস্তা তৈরী করা যেতে পারে।
”পরে আমি দেখতে পেলাম, সেই বিরাটাকার সাপের মুখ থেকে, জন্তুটির মুখ থেকে এবং ভণ্ড ভাববাদীর মুখ থেকে ব্যাঙের মত দেখতে তিনটে মন্দ আত্মা বের হয়ে আসছে। কারণ তারা হলো ভূতেদের আত্মা নানা চিহ্ন ও আশ্চর্য্য কাজ করে; তারা পৃথিবীর সব রাজাদের কাছে গিয়ে সর্বশক্তিমান্ ঈশ্বরের সেই মহান দিনে যুদ্ধের জন্য মন্দ আত্মাদের জড়ো করে। দেখ, আমি চোরের মত আসবো; ধন্য সেই ব্যক্তি যে জেগে থাকে এবং নিজের কাপড় পরে থাকে যেন সে উলঙ্গ না হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং লোকে তার লজ্জা না দেখে। তারা রাজাদের এক জায়গায় জড়ো করলো যে জায়গার নাম ইব্রীয় ভাষায় হরমাগিদোন বলে।
”পরে সপ্তম স্বর্গদূত আকাশের বাতাসের ওপরে নিজ বাটি ঢেলে দিলেন, তখন উপাসনা ঘরের সিংহাসন থেকে জোরে এই কথা গুলি বলা হলো, ‘এটা করা হয়েছে’। আর তখন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো, বিকট শব্দ ও বাজ পড়তে লাগলো এবং এমন এক ভূমিকম্প হল যা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির পর থেকে কখনও হয়নি, এটা খুব ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প ছিল। ফলে সেই মহান শহরটি তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেল এবং নানা জাতির শহরগুলি ভেঙে পড়ল; তখন ঈশ্বর সেই মহান বাবিলনকে মনে করলেন এবং ঈশ্বর তাঁর ক্রোধের মদ পূর্ণ পেয়ালা বাবিলকে পান করতে দিলেন। প্রত্যেকটি দ্বীপ তখন অদৃশ্য হয়ে গেল এবং পর্বত গুলিকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। আর আকাশ থেকে মানুষের ওপর বড় বড় শীল বৃষ্টির মত পড়ল, তার এক একটির ওজন প্রায় এক তালন্ত (প্রায় ছত্রিশ কেজি); এই শিলাবৃষ্টিতে আঘাত পেয়ে মানুষেরা ঈশ্বরের নিন্দা করল; কারণ সেই আঘাত খুব ভয়ানক ছিল।
”যাঁদের হাতে সাতটি বাটি ছিল ঐ সাতজন দূতের মধ্যে থেকে একজন দূত এসে আমাকে বললেন, এসো, “যে মহাবেশ্যা অনেক জলের ওপরে বসে আছে” আমি তোমাকে তার শাস্তি দেখাবো, “পৃথিবীর রাজারা যার সঙ্গে ব্যভিচার করেছে এবং যারা এই পৃথিবীতে বাস করে তারা তার ব্যাভিচারের আঙ্গুর রসে মাতাল হয়েছিল”। সেই স্বর্গদূত আমাকে মরূপ্রান্তে নিয়ে গেলেন তখন আমি পবিত্র আত্মায় পূর্ণ ছিলাম; এবং একটি লাল রঙের জন্তুটির ওপর এক স্ত্রীলোককে বসে থাকতে দেখলাম; সেই জন্তুটার গায়ে ঈশ্বরনিন্দা করার জন্য অনেক নাম লেখা ছিল এবং তার সাতটি মাথা ও দশটি শিং ছিল। আর সেই স্ত্রীলোকটী বেগুনী ও লাল রঙের পোশাক পরেছিল এবং সোনার, দামী পাথর, মণি ও মুক্তা পরেছিল এবং তার হাতে অপবিত্র জিনিস ও ব্যভিচারের ময়লা ভরা একটা সোনার বাটি ছিল। আর তার কপালে এক গুপ্ত সত্যের নাম লেখা ছিল, ‘হে মহান ব্যাবিলন, পৃথিবীর বেশ্যাদের ও ঘৃণার জিনিসের মা।’ আর আমি দেখলাম যে, সেই স্ত্রীলোকটী ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের রক্ত এবং যীশুর সম্বন্ধে সাক্ষী দিয়েছে যারা তাদের রক্ত খেয়ে মাতাল হয়ে আছে। আমি যখন তাকে দেখলাম খুব আশ্চর্য্য হলাম। আর সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, তুমি কেন অত্যন্ত বিষ্মিত হোচ্ছ? আমি ওই স্ত্রীলোকটীর এবং সেই জন্তুটি যে তাকে বয়ে নিয়ে যায়, যার সাতটি মাথা ও দশটি শিং আছে তাদের গোপন মানে বুঝিয়ে বলব।
”তুমি যে জন্তুকে দেখেছিলে, সে বর্তমানে নেই; কিন্তু সে অতল গর্ত থেকে উঠে এসে চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে। আর পৃথিবীতে যত লোক বাস করে, যাদের নাম জগত সৃষ্টির প্রথম থেকে জীবন পুস্তকে লেখা নেই, তারা যখন সেই জন্তুটিকে দেখবে যে আগে ছিল কিন্তু এখন নেই অথচ আবার দেখা যাবে, তখন সবাই অবাক হয়ে যাবে। এটাকে বলে মন যার মধ্যে ঈশ্বরীয় জ্ঞান আছে। ওই সাতটি মাথা হলো সাতটি পাহাড় যার ওপর স্ত্রীলোকটী বসে আছে; আবার সেই সাতটা মাথা হলো সাতটি রাজা; তাদের মধ্যে পাঁচ জন আগেই শেষ হয়ে গেছে, এখনও একজন আছে, আর অন্যজন এখনো আসেনি; যখন সে আসবে সে অল্প সময়ের জন্য থাকবে। আর যে জন্তুটি ছিল, এখন সে নেই, সে নিজে হলো অষ্টত্বম রাজা কিন্তু সে সেই সাতজন রাজার মধ্যে একজন এবং সে চিরকালের জন্য ধ্বংস হবে। আর তুমি যে দশটি শিং দেখেছিলে সেগুলি হলো দশ জন রাজা যারা এখনো পর্যন্ত কোনো রাজ্য পায়নি, কিন্তু সেই জন্তুটির সঙ্গে এক ঘন্টার জন্য রাজাদের মত রাজত্ব করার কর্তৃত্ব পাবে। এদের সবার মন এক এবং তাদের নিজেদের শক্তি ও কর্তৃত্ব সেই জন্তুটিকে দেবে।
”তারা মেষশিশুর সঙ্গে যুদ্ধ করবে, কিন্তু মেষ শিশু তাদেরকে জয় করবেন, কারণ “তিনি প্রভুদের প্রভু ও রাজাদের রাজা;” এবং যাঁরা মনোনীত হয়েছে যাদের বেছে নেওয়া হয়েছে ও বিশ্বস্ত, তারাই তাঁর সঙ্গে থাকবেন। আর সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, তুমি যে জল দেখলে যেখানে ওই বেশ্যা বসে আছে, সেই জল হলো মানুষ, জনসাধারণ, জাতিবৃন্দ ও অনেক ভাষা। আর যে দশটি শিং এবং জন্তুটি তুমি দেখলে তারা সবাই সেই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে এবং তাকে জনশূন্য ও উলঙ্গ করবে তার মাংস খাবে এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে। এর কারণ হলো ঈশ্বর তাদের মনে এমন ইচ্ছা দিলেন, যেন তাঁরই বাক্য সফল হয় এবং একমনা হয়; আর যতক্ষণ না ঈশ্বরের বাক্য সম্পূর্ণ হয়, সেই পর্যন্ত নিজ নিজ রাজ্যের কর্তৃত্ব সেই জন্তুটিকে দেয়। আর তুমি যে স্ত্রীলোককে দেখেছিলে সে হলো সেই নাম করা শহর যে পৃথিবীর রাজাদের ওপরে কর্তৃত্ব করছে।
”এসবের পরে আর একজন স্বর্গদূতকে আমি স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম; তার মহান কর্তৃত্ব ছিল এবং পৃথিবী তার মহিমায় আলোকিত হয়ে উঠল। তিনি জোরে চেঁচিয়ে বললেন, ‘সেই নাম করা বাবিলন ধ্বংস হয়ে গেছে'; সেটা ভূতদের থাকার জায়গা হয়েছে আর সব মন্দ আত্মার আড্ডাখানা এবং অশুচি ও জঘন্য পাখীর বাসা হয়েছে। কারণ সমগ্র জাতি তার বেশ্যা কাজের ভয়ঙ্কর মদ পান করেছে এবং পৃথিবীর সব রাজারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করেছে এবং পৃথিবীর ব্যবসায়ীরা তার বিলাসিতার শক্তির জন্য ধনী হয়েছে।
”তখন আমি স্বর্গ থেকে আর একটা বাক্য শুনতে পেলাম, ‘হে আমার জনগণ, তোমরা ওই বাবিলন থেকে বের হয়ে এসো, যেন তোমরা তার পাপের ভাগী না হও, সুতরাং তার যে সব আঘাত তোমাদের ভোগ না করতে হয়। কারণ তার পাপ স্বর্গ পর্যন্ত উঁচু হয়ে গেছে এবং ঈশ্বর তার মন্দ কাজের কথা মনে করেছেন। সে যেমন অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার করত তোমরাও তার সঙ্গে সেরকম ব্যবহার কর; এবং তার কাজ অনুযায়ী তাকে দ্বিগুন প্রতিফল দাও, যে পেয়ালায় সে অন্যদের জন্য মদ মেশাত, সেই পেয়ালায় তার জন্য দ্বিগুন পরিমাণে মদ মিশিয়ে তাকে দাও। সে নিজে নিজের বিষয়ে যত গৌরব করেছে ও বিলাসিতায় বাস করেছে, তাকে ঠিক ততটা যন্ত্রণা ও দুঃখ দাও। কারণ সে মনে মনে ভাবে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসে আছি, আমি একজন বিধবা নয় এবং আমি কখনও দুঃখ দেখব না। এই কারণে এক দিনে তার সব আঘাত যেমন মৃত্যু, দুঃখ ও দূর্ভিক্ষ তার ওপরে পড়বে; এবং তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, কারণ তাকে যে বিচার করবেন তিনি হলেন শক্তিমান প্রভু ঈশ্বর।
”পৃথিবীর যে সব রাজারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করেছে ও জাঁকজমক করে বাস করেছে, তারা তার পুড়িয়ে ফেলার সময় ধুমা দেখে তার জন্য কাঁদবে এবং দুঃখ করবে; তারা তার যন্ত্রণা দেখে ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে বলবে হায় বাবিলন হায়! সেই নাম করা শহর বাবিল, ক্ষমতায় পরিপূর্ণ সেই শহর! এত অল্প সময়ের মধ্যে তোমার শাস্তি এসে গেছে। পৃথিবীর ব্যবসায়ীরাও তার জন্য কাঁদবে এবং দুঃখ করবে কারণ তাদের ব্যবসায়ের জিনিসপত্র আর কেউ কিনবে না; তাদের ব্যবসার জিনিসপত্র গুলি হলো সোনা, রূপ, দামী পাথর, মুক্ত, মসীনা কাপড়, বেগুনী রঙের কাপড়, রেশমি কাপড়, লাল রঙের কাপড়; সব রকমের চন্দন কাঠ, হাতির দাঁতের সব রকমের পাত্র, দামী কাঠের এবং পিতলের, লৌহের ও মার্বেল পাথরের সব রকমের তৈরী জিনিস, এবং দারুচিনি, এলাচি, ধূপ, আতর ও গন্ধরস, কুন্দুরু, মদিরা, তৈল, উত্তম ময়দা ও গম, পশু, ভেড়া; এবং ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ী রথ, দাস ও মানুষের আত্মা। যে ফল তুমি প্রত্যাশিত করতে চেয়েছিলে তা তোমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে এবং তোমার জাঁকজমক ও সব ধন নষ্ট হয়ে গেছে; লোকেরা সে সব আর কখনও পাবে না। ঐ সব জিনিসের ব্যবসা করে ব্যবসায়ীরা যারা ধনী হয়েছিল, তার যন্ত্রণা এবং দুঃখ দেখে সেই ব্যবসায়ীরা ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে, আর কাঁদতে কাঁদতে বলবে, হায়! হায়! সেই মহান শহর মসীনা কাপড়, বেগুনী ও লাল রঙের কাপড় পরা এবং সোনা ও দামী পাথর এবং মুক্তায় সাজগোজ করা সেই নাম করা শহর; এক ঘন্টার মধ্যেই সেই মহাসম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাহাজের প্রত্যেক প্রধান কর্মচারী, ও জলপথের যাত্রীরা এবং নাবিকরা ও সমুদ্র ব্যবসায়ীরা সবাই দূরে দাঁড়িয়ে থাকলো, তাকে পোড়াবার সময় ধোঁয়া দেখে তারা জোরে চিত্কার করে বলল, সেই নাম করা শহরের মত আর কোনো শহর আছে? আর তারা মাথায় ধূলো দিয়ে কেঁদে কেঁদে ও দুঃখ করতে করতে জোরে চিত্কার করে বলতে লাগল, হায়! হায়! সেই নাম করা শহর, যার ধন দিয়ে সমুদ্রের ব্যবসায়ীরা জাহাজের মালিকরা সবাই বড়লোক হয়েছিল; আর সেটা এক ঘন্টার মধ্যেই সে ধ্বংস হয়ে গেল। হে স্বর্গ, হে পবিত্র লোকেরা, হে প্রেরিতরা, হে ভাববাদীরা, তোমরা সবাই তার জন্য আনন্দ কর; কারণ সে তোমাদের ওপর যে অন্যায় করেছে, ঈশ্বর তার বিচার করেছেন। পরে শক্তিশালী একজন স্বর্গদূত একটা বড় যাঁতার মত পাথর নিয়ে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, এরই মত মহান শহর বাবিলনকে ফেলে দেওয়া হবে, আর কখনও তার দেখা পাওয়া যাবে না। যারা বীণা বাজায়, যারা গান গায়, যারা বাঁশী বাজায় ও তূরী বাজায় তাদের শব্দ তোমার মধ্যে আর কখনও শোনা যাবে না; এবং আর কখনও কোন রকম শিল্পীকে তোমার মধ্যে পাওয়া যাবে না; এবং যাঁতার শব্দ আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না;
”আর কখনও তোমার মধ্যে প্রদীপের আলো জ্বলবে না; এবং বর কন্যার গলার আওয়াজও আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না; কারণ তোমার ব্যবসায়ীরা পৃথিবীর মধ্যে অধিকারী ছিল এবং সব জাতি তোমার জাদূতে প্রতারিত হত। ভাববাদীদের ও ঈশ্বরের পবিত্র মানুষদের রক্ত এবং যত লোককে পৃথিবীতে মেরে ফেলা হয়েছিল তাদের রক্ত তার মধ্যে পাওয়া গেল।
”এই সবের পরে আমি স্বর্গ থেকে অনেক লোকের ভিড়ের শব্দ শুনতে পেলাম, তাঁরা বলছিলেন "হাল্লেলূইয়া, পরিত্রাণ ও গৌরব, ও ক্ষমতা সবই আমাদের ঈশ্বরের; কারণ তার বিচারগুলি সত্য ও ন্যায়বান; কারণ যে মহাবেশ্যা নিজের ব্যভিচার দিয়ে পৃথিবীকে দুষিত করেছিল, ঈশ্বর তার নিজের হাতে বিচার করেছেন এবং তার নিজের দাসদের রক্তের প্রতিশোধ তার ওপর নিয়েছেন। তাঁরা দ্বিতীয়বার বললেন, "হাল্লিলূয়া; চিরকাল ধরে তার মধ্য থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকবে"। ঈশ্বর, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন তাঁকে পরে সেই চব্বিশ জন নেতা ও চারটি জীবন্ত প্রাণী মাথা নিচু করে প্রণাম করে বললেন, আমেন; হাল্লিলূয়া। তখন সেই সিংহাসন থেকে একজন বললেন, "আমাদের ঈশ্বরের প্রশংসা কর, হে ঈশ্বরের দাসেরা, তোমরা যারা তাঁকে ভয় কর, তোমরা ছোট কি বড় সকলে আমাদের ঈশ্বরের গৌরব গান কর"। আবার আমি অনেক মানুষের ভিড়ের শব্দ, জোরে বয়ে যাওয়া জলের স্রোতের শব্দ এবং খুব জোরে বাজ পড়ার শব্দের মত এই কথা শুনতে পেলাম, "হাল্লেলূয়া! কারণ ঈশ্বর প্রভু যিনি সর্বশক্তিমান তিনি রাজত্ব শুরু করেছেন।
”এসো আমরা মনের খুশিতে আনন্দ করি এবং তাঁকে গৌরব দিই, কারণ মেষশিশুর বিয়ের সময় এসে গেছে এবং তাঁর কন্যে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন"। তাঁকে উজ্জ্বল, পরিষ্কার এবং মিহি মসীনা কাপড় পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ মসীনা কাপড় হলো তার পবিত্র মানুষদের ধার্মিক আচরণ। পরে সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, তুমি এই কথা লেখ, ধন্য তারা যাদেরকে মেষশিশুর বিয়ের ভোজে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনি আমাকে আরও বললেন, এ সব ঈশ্বরের কথা এবং সত্য কথা। তখন আমি তাঁকে নমস্কার করার জন্য তাঁর পায়ের ওপর শুয়ে পড়লাম। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, এমন কাজ কর না; আমি তোমার সঙ্গে এবং তোমার যে ভাইয়েরা যারা যীশুর সাক্ষ্য ধরে রাখে তাদের মতই এক দাস; ঈশ্বরকেই প্রণাম কর; কারণ যীশুর সাক্ষ্য হলো ভাববাণীর আত্মা।
”তখন আমি দেখলাম স্বর্গ খোলা আছে এবং আমি সাদা রঙের একটা ঘোড়া দেখতে পেলাম, আর যিনি সেই ঘোড়ার উপর বসে আছেন তিনি বিশ্বস্ত ও সত্য নামে পরিচিত। তিনি ন্যায়ভাবে বিচার ও যুদ্ধ করেন। তাঁর চক্ষু জ্বলন্ত আগুনের শিখার মত এবং তাঁর মাথায় অনেকগুলি মুকুট আছে; তাঁর গায়ে একটা নাম লেখা আছে যেটা তিনি ছাড়া আর অন্য কেউ জানে না। তাঁর পরনে রক্তে ডুবান কাপড় ছিল এবং তার নাম ছিল “ঈশ্বরের বাক্য”। আর স্বর্গের সৈন্যদল সাদা পরিষ্কার এবং মসীনা কাপড় পরে সাদা রঙের ঘোড়ায় চড়ে তাঁর পিছনে পিছনে যাচ্ছিল। আর তাঁর মুখ থেকে এক ধারালো তরবারি বের হচ্ছিল যেন সেটা দিয়ে তিনি জাতিকে আঘাত করতে পারেন; আর তিনি লোহার রড দিয়ে তাদেরকে শাসন করবেন; এবং তিনি সর্বশক্তিমান্ ঈশ্বরের ভয়ঙ্কর ক্রোধ স্বরূপ পায়ে আঙ্গুর মাড়াই করবেন। তাঁর পোশাকে এবং ঊরুতে একটা নাম লেখা আছে, তা হলো “রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু”।
”আমি একজন দূতকে সূর্য্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম; আর তিনি খুব জোরে চীৎকার করে আকাশের মধ্য দিয়ে যে সব পাখী উড়ে যাচ্ছিল সে সব পাখিকে বললেন, এস ঈশ্বরের মহা ভোজ খাওয়ার জন্য একসঙ্গে জড়ো হও। এস রাজাদের মাংস, সেনাপতির মাংস, শক্তিমান্ লোকদের মাংস, ঘর ও আরোহীদের মাংস এবং স্বাধীন ও দাস, ছোটো ও বড় সব মানুষের মাংস খাও।
”পরে আমি দেখলাম, যিনি ঘোড়ার ওপর বসে ছিলেন তাঁর ও তাঁর সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সেই জন্তুটি ও পৃথিবীর রাজারা ও তাদের সৈন্যরা একসঙ্গে জড়ো হল। সেই জন্তুকে ধরা হলো এবং যে ভণ্ড ভাববাদী তার সামনে আশ্চর্য্য কাজ করত এবং জন্তুটির চিহ্ন সবাইকে গ্রহণ করাত ও তার মূর্তির পূজো করাত এবং তাদের ভুল পথে চালনা করত সেও তার সঙ্গে ধরা পড়ল; তাদের দুজনকেই জীবন্ত জ্বলন্ত গন্ধকের আগুনের হ্রদে ফেলা হলো। আর বাকি সবাইকে যিনি সেই সাদা ঘোড়ার ওপরে বসে ছিলেন তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া তরবারি দিয়ে মেরে ফেলা হলো; আর সব পাখিরা তাদের মাংস খেয়ে নিল।
”পরে আমি স্বর্গ থেকে একজন স্বর্গদূতকে নেমে আসতে দেখলাম, তাঁর হাতে ছিল গভীর গর্তের চাবি এবং একটি বড় শিকল। তিনি সেই বিরাটাকার সাপটিকে ধরলেন; এটা সেই পুরাতন সাপ, যাকে দিয়াবল [অপবাদক] ও শয়তান [বিপক্ষ] বলে; তিনি তাকে এক হাজার বৎসরের জন্য বেঁধে রাখলেন, আর তাকে সেই গভীর গর্তের মধ্যে ফেলে দিয়ে সেই জায়গার মুখ বন্ধ করে সীলমোহর করে দিলেন; যেন ঐ এক হাজার বৎসর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে জাতিদের আর প্রতারণা না করতে পারে; তারপরে অল্প কিছু সময়ের জন্য তাকে অবশ্যই ছাড়া হবে।
”পরে আমি কতকগুলো সিংহাসন দেখলাম; সেগুলির উপর যারা বসে ছিলেন তাঁদের হাতে বিচার করবার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আর যীশুর সাক্ষ্য ও ঈশ্বরের বাক্যের জন্য যাদের গলা কেটে মেরে ফেলা হয়েছিল এবং যারা সেই জন্তুটিকে ও তার মূর্তিকে পূজো করে নি এবং নিজ নিজ কপালে ও হাতে তার ছবি ও চিহ্ন গ্রহণ করে নি তাদের প্রাণও দেখলাম; তারা জীবিত হয়ে এক হাজার বৎসর খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করল। হাজার বৎসর শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাকি মৃত মানুষেরা জীবিত হল না। এটা হলো প্রথম পুনরুত্থান। যারা এই প্রথম পুনরুত্থানের অংশী হয়, সে ধন্য ও পবিত্র; তাদের ওপরে দ্বিতীয় মৃত্যুর কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু তারা ঈশ্বরের ও খ্রীষ্টের যাজক হবে এবং সেই হাজার বৎসর খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করবে।
”যখন সেই হাজার বৎসর শেষ হবে, শয়তানকে তার জেলখানা থেকে মুক্ত করা যাবে। তখন সে “পৃথিবীর চারদিকে বাস করে জাতিদের অর্থাৎ গোগ ও মাগোগকে”, প্রতারণা করে যুদ্ধের জন্য একসঙ্গে তাদের জড়ো করতে বের হবে। তাদের সংখ্যা সমুদ্রের বালির মত অসংখ্য। আমি দেখলাম তারা ভূমির সমস্ত জায়গায় ঘুরে এসে ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের থাকার জায়গা এবং প্রিয় শহরটা ঘেরাও করলো; কিন্তু “স্বর্গ থেকে আগুন এসে তাদের গ্রাস করল।
”আর সেই শয়তান যে তাদের প্রতারণা করেছিল তাকে গন্ধকের ও আগুনের হ্রদে ফেলে দেওয়া হলো যেখানে সেই জন্তুটি এবং ভণ্ড ভাববাদীকেও ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আর তারা চিরকাল সেখানে দিনরাত ধরে যন্ত্রণা ভোগ করবে।
”তখন আমি একটি বড় সাদা রঙের সিংহাসন এবং যিনি তার ওপরে বসে আছেন তাঁকে দেখতে পেলাম; তাঁর সামনে থেকে পৃথিবী ও আকাশ পালিয়ে গেল কিন্তু তাদের যাওয়ার জন্য আর জায়গা ছিল না। আর আমি মৃতদের দেখলাম, ছোট ও বড় সব লোক সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে; পরে কয়েকটা বই খোলা হলো এবং আর একটি বইও অর্থাৎ জীবন পুস্তক খোলা হলো। বইগুলিতে যেমন লেখা ছিল তেমনি মৃতদের এবং নিজের নিজের কাজ অনুযায়ী তাদের বিচার করা হলো। পরে সমুদ্রের মধ্যে যে সব মৃত লোকেরা ছিল তাদের সমুদ্র নিজে তুলে দিল এবং মৃত্যু ও নরক নিজেদের মধ্যে যে সব মৃত লোকেরা ছিল তাদেরকে ফিরিয়ে দিল এবং সব মৃতদের তাদের কাজ অনুসারে বিচার করা হলো। আর মৃত্যু ও নরকে আগুনের হ্রদে ফেলে দেওয়া হলো; এই আগুনের হ্রদ হলো- দ্বিতীয় মৃত্যু। আর যদি কারোর নাম জীবন পুস্তকে লেখা পাওয়া গেল না, তাকে আগুনের হ্রদে ফেলে দেওয়া হলো।
”তারপরে আমি একটা নতুন আকাশ এবং একটা নতুন পৃথিবী দেখতে পেলাম, কারণ প্রথমের আকাশ ও প্রথমের পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে এবং সমুদ্রও আর ছিল না। আর আমি পবিত্র শহরকে এবং নতুন যিরূশালেমকে স্বর্গের মধ্যে ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসতে দেখলাম; আর বরের জন্য সাজানো কন্যের মত এই শহরকে সাজানো হয়েছিল।
”পরে আমি সিংহাসন থেকে একটা জোরে কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম, দেখ, মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের এখন থাকার বাসস্থান হয়েছে এবং তিনি তাদের সঙ্গে বাস করবেন। তারা তাঁর প্রজা হবে এবং ঈশ্বর নিজে মানুষের সঙ্গে থাকবেন এবং তিনি তাদের ঈশ্বর হবেন। তাদের সব চোখের জল তিনি মুছে দেবেন এবং মৃত্যু আর হবে না; দুঃখ, কান্না এবং ব্যাথাও আর থাকবে না; কারণ আগের জিনিসগুলি সব শেষ হয়ে গেছে। আর যিনি সিংহাসনে বসে ছিলেন তিনি বললেন, দেখ, আমি সবই নতুন করে তৈরী করছি। তিনি আরও বললেন, লেখ কারণ এ সব কথা বিশ্বস্ত ও সত্য। পরে তিনি আমাকে আবার বললেন, সব কিছুই করা হয়েছে! আমিই আলফা এবং ওমেগা, শুরু এবং শেষ; যার পিপাসা পেয়েছে তাকে আমি মূল্য ছাড়াই জীবন জলের ফোয়ারা থেকে জল দেবো। যে জয় করবে সে এই সব কিছুর উত্তরাধিকারী হবে এবং আমি তার ঈশ্বর হব ও সে আমার পুত্র হবে। কিন্তু যারা ভীরু বা অবিশ্বাসী, ঘৃণার যোগ্য, খুনী, ব্যভিচারী, জাদুকর বা মূর্তি পূজারী, তাদের এবং সব মিথ্যাবাদীর জায়গা হবে আগুনে এবং গন্ধকে জলন্ত আগুনের হ্রদে। এটাই হলো দ্বিতীয় মৃত্যু। যে সাতজন স্বর্গদূতের কাছে সাতটি শেষ আঘাতে ভরা সাতটি বাটি ছিল, তাঁদের মধ্যে একজন স্বর্গদূত আমার কাছে এসে বললেন, এখানে এসো, আমি সেই কনে অর্থাৎ মেষশিশুর স্ত্রীকে তোমাকে দেখাবো।
”তারপর আমি যখন আত্মায় পরিপূর্ণ ছিলাম তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে এক বড় এবং উঁচু পাহাড়ের উপর নিয়ে গিয়ে পবিত্র শহর যিরূশালেমকে দেখালেন, সেটি স্বর্গের ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছিল। যিরুশালেম ঈশ্বরের মহিমায় পূর্ণ, তাহার আলো বহু মূল্য মণির মত, উজ্জ্বলতা যেমন সূর্য্যকান্ত মণির মত ও হীরের মত স্বচ্ছ। এই শহরের বড় ও উঁচু দেয়াল ছিল এবং তাতে বারটি ফটক (দরজা) এবং ফটকগুলোতে বারটি স্বর্গদূত ছিল। এবং ফটকগুলোতে ইস্রায়েল সন্তানদের বারটি বংশের নাম লেখা ছিল। ফটকগুলো পূর্ব্বদিকে তিনটে, উত্তরদিকে তিনটে, দক্ষিণদিকে তিনটে ও পশ্চিমদিকে তিনটে ছিল। আর সেই শহরের দেয়ালে বারটি ভীত ছিল এবং সেগুলির ওপরে মেষশিশুর বারো জন প্রেরিতের বারটি নাম ছিল। আর যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁর হাতে ওই শহর, তার ফটকগুলি এবং দেয়াল মাপার জন্য একটা সোনার মাপকাঠি ছিল। শহরটি বর্গাকার অর্থাৎ চৌকো ছিল তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান ছিল। তিনি সেই মাপকাঠি দিয়ে শহরটি মাপলে পর দেখা গেল সেটা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে দুই হাজার চারশো কিলোমিটার, তার দৈর্ঘ্য, প্রস্ত ও উচ্চতা এক সমান ছিল। পরে তিনি দেয়ালটা মাপলে পর, সেটার উচ্চতা একশো চুয়াল্লিশ হাত হল মানুষ যে ভাবে মাপে সেই স্বর্গদূত সেই ভাবেই মেপেছিলেন। হীরে দিয়ে দেয়ালটি তৈরী ছিল এবং শহরটি পরিষ্কার কাঁচের মত খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরী ছিল। সেই শহরের দেওয়ালের ভিতগুলি সব রকম দামী পাথরের তৈরী ছিল; প্রথম ভিত্তিটি হীরের, দ্বিতীয়টা নীলকান্তের, তৃতীয়টা তাম্রমণির, চতুর্থটা পান্নার, পঞ্চম বৈদূর্য্যের, ষষ্ঠ সার্দ্দীয় মণির, সপ্তম স্বর্ণমণির, অষ্টম গোমেদকের, নবম পদ্মরাগের, দশম লশুনীয়ের, একাদশ পেরোজের, দ্বাদশ কটাহেলার। আর বারটা ফটক বারটি মুক্ত ছিল, প্রত্যেকটি ফটক এক একটি মুক্ত দিয়ে তৈরী ছিল। শহরটির রাস্তা ছিল পরিষ্কার কাঁচের মত খাঁটি সোনার তৈরী।
”আর আমি শহরের মধ্যে কোন উপাসনা ঘর দেখতে পেলাম না; কারণ সর্বশক্তিমান্ প্রভু ঈশ্বর এবং মেষ শিশু নিজেই ছিলেন তার উপাসনা ঘর। “আর সেই শহরে আলো দেবার জন্য সুর্য্যের বা চাঁদের কিছু প্রয়োজন নেই, কারণ ঈশ্বরের মহিমাই সেখানে আলো করে এবং মেষ শিশু সেই শহরের বাতি। আর জাতিরা সব এই শহরের আলোতে চলাচল করবে; এবং পৃথিবীর রাজারা তাদের নিজের নিজের ঐশ্বর্য্য (প্রতাপ) নিয়ে আসবেন। ঐ শহরের ফটকগুলি দিনেরবেলায় কখনও বন্ধ হবে না এবং সেখানে রাতও হবে না। সব জাতির ঐশ্বর্য্য এবং সম্মান তার মধ্যে নিয়ে আসবে। আর অশুচি কিছু অথবা জঘন্য কাজ করে ও মিথ্যা কথা বলে কোনো লোক সেখানে ঢুকতে পারবে না; শুধুমাত্র মেষশিশুর জীবন-বইটিতে যাদের নাম লেখা আছে, তারাই শুধু ঢুকতে পারবে।
”“দেখ আমি খুব তাড়াতাড়ি আসছি। প্রত্যেকে যে যেমন কাজ করেছে সেই অনুযায়ী দেবার জন্য পুরষ্কার আমার সঙ্গেই আছে।
”